ব্রিটেনের কয়েকটি এলাকায় তরুণদের বেকারত্বের হার বুলগেরিয়া ও স্লোভেনিয়ার চেয়েও বেশি। নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। দেশজুড়ে কর্মসংস্থান, শিক্ষা কিংবা প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নন—এমন তরুণের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং বেকারত্ব ভাতার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
জিবি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের একটি বড় অংশ শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টির দাবি, শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত নন—এমন তরুণদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মহীন।
ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্ল্যাকপুল শহরে পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। শহরটির ৩০ শতাংশের বেশি তরুণ কর্মহীন অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত ভাতা গ্রহণ করেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ক্রিস ওয়েব।
লেবার পার্টির এই সংসদ সদস্য জিবি নিউজকে বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি নিয়ে তিনি এবং অন্যান্য সংসদ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছেন। তরুণদের কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে আরও সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ক্রিস ওয়েব বলেন, “তরুণরা যদি কাজ করতে সক্ষম হয়, তাহলে তাদের কর্মরত থাকা উচিত। এটি নিশ্চিত করতে হবে, কারণ বেকারত্ব ভাতার ব্যয় ক্রমাগত বাড়তে দেওয়া যায় না। তবে তরুণদের কাজ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তাও দিতে হবে।”
ব্ল্যাকপুলের বাসিন্দারাও তরুণদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে তরুণরা বিভিন্ন পেশায় দক্ষতা অর্জন এবং বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন।
শহরটির এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, তরুণদের কর্মজীবন শুরু করার মতো প্রকৃত সুযোগ নেই। তার ভাষায়, সেখানে ভালো মানের শিক্ষানবিশ কর্মসূচিও পাওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, ব্ল্যাকপুলের সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন একটি বিনোদনকেন্দ্রে কর্মরত এক ব্যক্তি জানান, তার চাকরির চুক্তির মেয়াদ নভেম্বরে শেষ হবে। এরপর তিনি কী করবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
তিনি বলেন, শহরটিতে তরুণ ও বয়স্ক—উভয় বয়সী মানুষের জন্য আরও চাকরির সুযোগ থাকা প্রয়োজন। সেখানে মৌসুমি কাজের ওপর নির্ভরতা বেশি থাকায় পর্যটন মৌসুম শেষ হলে নতুন চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা তরুণদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তবে বুধবারের প্রথম বাজেটে চ্যান্সেলর জন হিলি এ সমস্যা মোকাবিলায় নির্দিষ্ট কোনো নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, কনজারভেটিভ পার্টি নিয়োগকর্তাদের জাতীয় বিমা অবদান কমানোর দাবি জানিয়েছে। দলটির মতে, এতে তরুণদের নিয়োগের ব্যয় কমবে এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎসাহিত হবে।
কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া কর্ম ও পেনশনবিষয়ক মন্ত্রী হেলেন হোয়েটলি অভিযোগ করেন, লেবার সরকারের কর বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক বিধির কারণে চাকরির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, তরুণদের কর্মহীনতা বাড়তে থাকলে একটি প্রজন্ম কাজের অভিজ্ঞতা ছাড়াই বড় হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে এবং দীর্ঘদিন ভাতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে পারে।
তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে বেকারত্ব ভাতার ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হয়।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এমকে

