11.6 C
London
October 12, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনের লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডে যৌন নিপীড়নের ভয়াবহ চিত্রঃ নারীদের টার্গেট করে বাড়ছে অপরাধ

ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ড রেল নেটওয়ার্কে নারীদের যৌন হয়রানি ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এসব অপরাধ সব সময় আকস্মিকভাবে ঘটে না; কিছু অপরাধী পরিকল্পিতভাবে গণপরিবহনে গিয়ে যাত্রীদের লক্ষ্যবস্তু করে।

লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির যৌন সহিংসতাবিষয়ক অধ্যাপক ড. ফিওনা ভেরা-গ্রে বলেন, কিছু অপরাধী নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে গণপরিবহন ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের সঙ্গে আলোচনায় তিনি জানতে পেরেছেন, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আচরণ সাধারণ যাত্রীদের থেকে আলাদা হতে পারে। সাধারণ যাত্রীরা পরবর্তী ট্রেনের দিকে নজর দিলেও সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের পর্যবেক্ষণ করতে পারে এবং বিভিন্ন স্টেশনে ওঠানামা করতে পারে।

অধ্যাপক ভেরা-গ্রে বলেন, যৌন হয়রানির শিকার নারীরা অনেক সময় নিজেদের দায়ী মনে করেন। কিন্তু কিছু অপরাধী দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অপরাধ করে এবং কীভাবে ধরা পড়া এড়ানো যায়, সে অভিজ্ঞতা অর্জন করে। বিশেষ করে অল্পবয়সী মেয়েরা প্রতিবাদ বা অভিযোগ জানাতে দ্বিধা করতে পারে—অপরাধীরা এই দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গণপরিবহনে যৌন হয়রানির ঝুঁকি বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে মনে করেন অধ্যাপক ভেরা-গ্রে। যাত্রীরা একে অপরের কাছে অপরিচিত হওয়ায় অপরাধীরা পরিচয় গোপন রাখার সুযোগ পায়। বিপুলসংখ্যক নারী ও মেয়ের উপস্থিতি, যাত্রাপথে স্বল্পস্থায়ী যোগাযোগ এবং বিভিন্ন প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ অপরাধীদের দ্রুত সরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

তিনি আরও বলেন, গণপরিবহনে অপরিচিত ব্যক্তিদের আচরণে সাধারণত অন্য যাত্রীরা হস্তক্ষেপ করেন না। অপরাধীরা এই সামাজিক প্রবণতার সুযোগ নিয়ে নারীদের হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে পারে।

অধ্যাপক ভেরা-গ্রের মতে, যৌন হয়রানির শিকার ব্যক্তিরা লজ্জা, ভয় ও অপমানবোধের মধ্যে পড়তে পারেন। কিছু অপরাধী অন্যকে অপমানিত ও আতঙ্কিত করার মধ্যেই বিকৃত আনন্দ খুঁজে পেতে পারে। কিছু অপরাধী পরবর্তী সময়ে শারীরিক সংস্পর্শযুক্ত যৌন অপরাধেও জড়িয়ে পড়ে, যদিও অনেকে অশালীনভাবে শরীর প্রদর্শনের মতো অপরাধ চালিয়ে যায়।

একই অপরাধী বারবার অপরাধ করলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পুলিশকে বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে বের করতে সাহায্য করতে পারে। তাই যৌন হয়রানির শিকার হলে কিংবা এমন ঘটনা প্রত্যক্ষ করলে পুলিশকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক ভেরা-গ্রে।

কেউ আন্ডারগ্রাউন্ডে অন্য কোনো যাত্রীকে হয়রানির শিকার হতে দেখলে আক্রান্ত ব্যক্তির পাশে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সরাসরি অপরাধীর মুখোমুখি না হয়েও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলা, সময় জিজ্ঞাসা করা কিংবা স্বাভাবিক কোনো মন্তব্যের মাধ্যমে সহায়তার সংকেত দেওয়া যেতে পারে।

ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান পরিদর্শক নিয়া মেলর বলেন, রেলপথে নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করা পুলিশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। অপরাধীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনতে লন্ডনের রেল নেটওয়ার্কে প্রতিদিন ইউনিফর্ম পরা এবং সাদাপোশাকের পুলিশ সদস্যরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টহল দেন।

নিয়া মেলর জানান, রেল নেটওয়ার্কে বিপুলসংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, যা অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করে। ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের দাবি, যৌন অপরাধ সমাধানের ক্ষেত্রে তাদের হার জাতীয় গড়ের পাঁচ গুণ। তবে এই হার আরও বাড়াতে কাজ করছে পুলিশ।

রেল নেটওয়ার্কে যৌন অপরাধের শিকার হলে কিংবা এমন ঘটনা প্রত্যক্ষ করলে ৬১০১৬ নম্বরে খুদে বার্তা পাঠিয়ে পুলিশকে জানানো যায়। এতে অপরাধী বা অন্য যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ না করেই অভিযোগ জানানো সম্ভব। জরুরি পরিস্থিতিতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের নিরাপত্তা, পুলিশিং ও আইন প্রয়োগবিষয়ক পরিচালক সিওয়ান হেওয়ার্ড বলেন, নারীদের ও মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংস্থাটির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং অপরাধের ঝুঁকি বেশি এমন এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, গণপরিবহনে যৌন হয়রানি, যৌন নিপীড়ন কিংবা অশালীনভাবে শরীর প্রদর্শনের কোনো ঘটনাই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাত্রীরা যেন নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এমকে

আরো পড়ুন

বেনিফিটভোগীদের লেনদেনে HMRC’র নজরদারি, দ্বৈত নাগরিকদের বাড়ছে আতঙ্ক

সকল শিশুদের জন্য ফ্রি স্কুল ডিনারের দাবি জানিয়ে যুক্তরাজ্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

যুক্তরাজ্যের আশ্রয়ব্যবস্থায় ডেনমার্ক মডেলঃ বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন শাবানা মাহমুদ