TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রেক্সিট নিয়ে বদলাচ্ছে জনমতঃ লন্ডনের ৬৭% চান ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগ দিক যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে ব্রেক্সিট-পরবর্তী জনমতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, আজ যদি যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পুনরায় যোগদানের প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে লন্ডনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার ইইউতে ফেরার পক্ষে ভোট দেবেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৭ শতাংশ লন্ডনবাসী জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাজ্যকে আবারও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে দেখতে চান।

জরিপটি পরিচালনা করেছে সাবানটা ইউকে, যা কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের মাইল এন্ড ইনস্টিটিউটের জন্য পরিচালিত হয়। এতে দেখা যায়, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইইউতে ফেরার সমর্থন সবচেয়ে বেশি। ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৮৫ শতাংশই জানিয়েছেন, সুযোগ পেলে তারা যুক্তরাজ্যের পুনরায় ইইউতে যোগদানের পক্ষে ভোট দেবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল ব্রেক্সিট নিয়ে রাজধানীর জনমতের একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের প্রতিফলন। ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটে লন্ডনের ৬০ শতাংশ ভোটার ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। নতুন জরিপে সেই সমর্থন আরও বেড়ে ৬৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্রেক্সিট নিয়ে অনেকের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে লেবার পার্টি ক্ষমতায় ফেরার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ব্রেক্সিট প্রত্যাহার বা যুক্তরাজ্যকে পুনরায় ইইউতে নেওয়ার বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।

অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম অতীতে একাধিকবার বলেছেন, তিনি নিজের জীবদ্দশায় ব্রেক্সিট প্রত্যাহার হতে দেখতে চান। তার নেতৃত্বে লেবার পার্টির ভেতরেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং ভবিষ্যতে পুনরায় সদস্যপদের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগদানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। নতুন জরিপের ফলাফল তার সেই অবস্থানের প্রতি রাজধানীর জনগণের উল্লেখযোগ্য সমর্থনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে জরিপের ফলাফলকে সরকারি নীতির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। বর্তমানে যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগদানের জন্য নতুন কোনো গণভোট আয়োজন বা সদস্যপদ পুনর্বহালের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে এই জরিপ মূলত লন্ডনের ভোটারদের বর্তমান জনমতের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতি, বাণিজ্য, শ্রমবাজার এবং ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এই জরিপ ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে লেবার সরকারের ইউরোপনীতি এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নির্বাচনী অঙ্গীকারের ক্ষেত্রে জনমতের এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হতে পারে।

সূত্রঃ দ্য লন্ডন ইকোনমি

এম.কে

আরো পড়ুন

ইংলিশ চ্যানেল নিয়ে খুব শিগগির কোনো সিদ্ধান্ত আসছে না!

অনলাইন ডেস্ক

হোম অফিস ই-ভিসার ‘গ্রেস পিরিয়ড’ ১ জুন ২০২৫ পর্যন্ত বর্ধিত করেছে

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত যুক্তরাজ্য