17.9 C
London
August 22, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ভিজিট ভিসা আবেদনকারীদের জন্য স্বস্তির খবরঃ ভিসা বাতিলের আগে দিতে হবে জবাবের সুযোগ

যুক্তরাজ্যের ভিজিটর ভিসা প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। কোনো আবেদনকারীকে যদি ‘প্রকৃতভাবে ভিজিটর হিসেবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ইচ্ছা নেই’—এমন সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে হোমঅফিস ভিসা প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে সেটি গুরুতরভাবে প্রতারণার অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আবেদনকারীকে ওই অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

সম্প্রতি আর (সানচি) বনাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মামলায় আপার ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান জানিয়েছে। মামলাটির নম্বর [২০২৬] জেআর-২০২৫-এলওএন-০০২৫১৮। আদালতের অবস্থান অনুযায়ী, কোনো ভিসা সিদ্ধান্তে আবেদনকারীর সততা বা প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে এমন গুরুতর নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে প্রক্রিয়াগত ন্যায্যতার নীতি কার্যকর হবে।

বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ভিসা প্রত্যাখ্যানপত্রে সব সময় সরাসরি ‘প্রতারণা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয় না। কিন্তু কোনো আবেদনকারী সত্যিকার অর্থে ভিজিটর হিসেবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে চাইছেন না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে, এর বাস্তব আইনি প্রভাব প্রতারণার অভিযোগের মতো গুরুতর হতে পারে।

মামলাটির আবেদনকারী ছিলেন তুরস্কের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিধবা নারী। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির ভয়াবহ ভূমিকম্পে তার বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর তিনি একটি পণ্য পরিবহনের ধাতব কনটেইনারে বসবাস করছিলেন। যুক্তরাজ্যে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পঞ্চমবারের মতো ভিজিটর ভিসার আবেদন করেন। তবে সেই আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হয়।

পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগের পর্যায়ের চিঠিপত্রের পর স্বরাষ্ট্র দপ্তর সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করতে সম্মত হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের মে মাসে পুনর্বিবেচনার পরও ভিসা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।

স্বরাষ্ট্র দপ্তর মনে করেছিল, আবেদনকারী ভিজিটর ভিসার পাঁচটি যোগ্যতার মধ্যে দুটি পূরণ করতে পারেননি। এর মধ্যে একটি ছিল সফর শেষে তিনি যুক্তরাজ্য ত্যাগ করবেন—এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সন্তুষ্ট করতে না পারা। অন্যটি ছিল তিনি সত্যিকার অর্থে অনুমোদিত উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে চাইছেন কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সন্দেহ।

এই দুটি বিষয়ই অ্যাপেন্ডিক্স ভিজিটর-এর ৪.২ অনুচ্ছেদের অধীনে ভিজিটর ভিসার যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত। ভিজিটর হিসেবে আবেদনকারীর উদ্দেশ্য, যুক্তরাজ্যে অবস্থানের কারণ এবং সফর শেষে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা—এসব বিষয় ভিসা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন আইনি অবস্থানের মূল বিষয় হলো, আবেদনকারীকে এমন গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি করে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না, যদি তার বক্তব্য শোনার সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজন থাকে। আদালতের সিদ্ধান্তের আলোকে, কোনো আবেদনকারীর বিরুদ্ধে প্রতারণার মতো গুরুতর নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া প্রক্রিয়াগত ন্যায্যতার অংশ।

এর ফলে যুক্তরাজ্যের ভিজিটর ভিসা আবেদনকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। শুধু ‘আমি ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরে যাব’—এমন দাবি করাই যথেষ্ট নয়; আবেদনকারীর নিজের দেশে পারিবারিক, পেশাগত, আর্থিক বা অন্যান্য বাস্তব সম্পর্কের প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে আবেদনকারীর উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তার বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে।

তবে এই রায়ের অর্থ এমন নয় যে প্রত্যেক ভিজিটর ভিসা আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা পাওয়ার অধিকারী হয়ে গেছেন। আবেদনকারীকে এখনো ভিজিটর ভিসার প্রযোজ্য যোগ্যতাগুলো পূরণ করতে হবে এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তর আবেদন যাচাই করার ক্ষমতা রাখে। পরিবর্তনটি মূলত গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ও ন্যায্যতার ওপর জোর দেয়।

ইমিগ্রেশন আইন নিয়ে কাজ করা আইনজীবী ও পরামর্শদাতাদের জন্যও এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে ভিজিটর ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে আবেদনকারীর প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সেসব সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার সময় নতুন এই আইনি নীতিটি বিবেচনায় আসতে পারে।

সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

হুতিদের সাথে শত্রুতায় মন্দার শঙ্কা যুক্তরাজ্যে

যুক্তরাজ্যে ব্র্যাডফোর্ডে মাদ্রাসা থেকে মসজিদ রূপান্তরের আবেদন নাকচ

ই-সিগারেট নিয়ে যুক্তরাজ্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ