24.9 C
London
August 5, 2026
TV3 BANGLA
ফিচারযুক্তরাজ্য (UK)

মাত্র ১১ বছর বয়সেই স্কটল্যান্ডের শীর্ষ দাবাড়ুদের কাতারে দেবেশ

মাত্র ১১ বছর বয়সেই নিজের বয়সী প্রতিদ্বন্দ্বীদের গণ্ডি পেরিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক খেলোয়াড়দের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে স্কটল্যান্ডের বিস্ময় বালক দেবেশ শর্মা। দাবায় অসাধারণ পারদর্শিতার কারণে অনূর্ধ্ব-১২ বা অনূর্ধ্ব-১৪ বিভাগে না খেলে সরাসরি অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে স্কটল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করছে সে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বিশ্ব দাবার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি ‘গ্র্যান্ডমাস্টার’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার।

এডিনবরার বাসিন্দা দেবেশ সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডের লিমেরিকে অনুষ্ঠিত চার জাতির অনূর্ধ্ব-১৮ আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতায় স্কটল্যান্ড দলের এক নম্বর বোর্ডে খেলেছে। প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে স্কটিশ দলের সর্বোচ্চ রেটিংধারী খেলোয়াড়দের একজন ছিল সে।

দেবেশের দাবার যাত্রা শুরু হয়েছিল করোনাভাইরাস মহামারির সময়। ঘরে বসে বাবার সঙ্গে নিয়মিত দাবা খেলতে খেলতেই খেলাটির প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে সে নিজের স্কুল গ্রেসমাউন্ট প্রাইমারি স্কুলে একটি দাবা ক্লাবও প্রতিষ্ঠা করে, যা এখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দেবেশ জানায়, দাবা তাকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। তার ভাষায়, দাবা এমন একটি খেলা যেখানে ভাগ্যের কোনো ভূমিকা নেই; সাফল্য নির্ভর করে কেবল পরিশ্রম, অনুশীলন ও কৌশলের ওপর।

নিজের খেলার ধরনকে ‘আক্রমণাত্মক’ উল্লেখ করে সে জানায়, বয়সে বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে কিছুটা স্নায়ুচাপে থাকলেও খেলা শুরু হওয়ার পর সে প্রতিপক্ষের বয়স নয়, কেবল বোর্ডের অবস্থান নিয়েই চিন্তা করে। স্কুল কর্তৃপক্ষও তাকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রয়োজনীয় ছুটি দিয়ে সহযোগিতা করছে বলে জানায় এই কিশোর।

দেবেশের স্বপ্ন একদিন বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়ন এবং গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়া।

গত মাসে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্কটিশ দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে তৃতীয় স্থান অর্জন করে দেবেশ। এরপর গ্লর্নি-গিলবার্ট আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্কটল্যান্ডের হয়ে এক নম্বর বোর্ডে খেলে পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটি হারে। একটি ম্যাচ ড্র করে এবং বাকি সবগুলোতে জয় তুলে নেয়।

দেবেশের বাবা রাজীব শর্মা বলেন, স্কটল্যান্ডের হয়ে খেলতে পারা তার ছেলের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি জানান, একমাত্র পরাজয়ের ম্যাচটিও ছিল আয়ারল্যান্ডের সর্বোচ্চ রেটিংধারী খেলোয়াড়ের বিপক্ষে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী লড়াইয়ের পর।

তবে রাজীব শর্মা অভিযোগ করেন, স্কটল্যান্ডে দাবা প্রতিভা বিকাশে সরকারি সহায়তা এখনও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তার মতে, ইংল্যান্ডে প্রতিভাবান কিশোর দাবাড়ুরা আর্থিক সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলেও স্কটল্যান্ডে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে খেলোয়াড়দের ভ্রমণ ও আবাসনের ব্যয় নিজেরাই বহন করতে হয়। তিনি বলেন, ভারতসহ অনেক দেশ দাবা উন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে, যা নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের এগিয়ে যেতে সহায়তা করছে।

চেস স্কটল্যান্ডের পরিচালক রুয়ারিধ ম্যাককে বলেন, দেবেশ স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় কিশোর দাবাড়ুদের একজন। ২০২৩ সালে অনূর্ধ্ব-১২ দলের সর্বশেষ বোর্ডে খেলা এই কিশোর মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে অনূর্ধ্ব-১৮ দলের এক নম্বর বোর্ডে উঠে এসেছে, যা সত্যিই অসাধারণ অর্জন।

বিশ্লেষকদের মতে, অল্প বয়সেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক সাফল্য এবং উচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় নিজেকে প্রমাণ করার সক্ষমতা দেবেশ শর্মাকে ভবিষ্যতের বিশ্ব দাবার অন্যতম উজ্জ্বল তারকায় পরিণত করতে পারে।

সূত্রঃ ডেইলি রেকর্ড

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে বন্ধ হলো আরও দুটি পুরোনো ভাতা ব্যবস্থাঃ ইএসএ ও হাউজিং বেনিফিটের অবসান

হাম মহামারিতে ৬ মাস বয়স থেকে টিকাঃ বাংলাদেশে তিন ডোজের সম্ভাব্য কর্মসূচি

ব্রিটেনের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ হতে শুরু করেছে