যুক্তরাজ্যে চ্যানেল হয়ে ছোট নৌকায় অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে এক ব্যতিক্রমী ও বিতর্কিত পরামর্শ দিয়েছেন জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক এবং ক্লার্কসন’স ফার্ম তারকা জেরেমি ক্লার্কসন। তার দাবি, সীমান্তে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের চেয়ে কার্যকর উপায় হলো যুক্তরাজ্যের বাস্তব সমস্যাগুলো সম্ভাব্য অভিবাসীদের সামনে তুলে ধরা।
দ্য সানডে টাইমস-এ প্রকাশিত নিজের ব্যঙ্গাত্মক কলামে ৬৬ বছর বয়সী ক্লার্কসন লিখেছেন, ফ্রান্স থেকে যারা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে আসতে চান, তাদের আগে দেখানো উচিত দেশের গর্তে ভরা রাস্তা, দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং দৈনন্দিন ভোগান্তির চিত্র। তার ভাষায়, “যুক্তরাজ্যকে ফ্রান্সের চেয়ে কম আকর্ষণীয় করে তুলতে পারলেই ছোট নৌকার প্রবাহ কমানো সম্ভব।”
ক্লার্কসন বলেন, দেশের অনেক এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক এতটাই দুর্বল যে “দুটি খালি টিন আর একটি সুতা দিয়ে যোগাযোগ করাই যেন ভালো।” একই সঙ্গে তিনি ২০ মাইল গতিসীমার নিয়ম এবং পরিকল্পনা আইনের কারণে ব্যবসা পরিচালনার জটিলতার কথাও উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতাও তার সমালোচনার তালিকায় রয়েছে। তিনি দাবি করেন, সন্দেহজনক মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত শিশুদেরও জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছাতে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। তার মতে, উচ্চ করব্যবস্থা, দূষিত নদী এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্কের বিষয়গুলোও সম্ভাব্য অভিবাসীদের সামনে তুলে ধরা উচিত।
সবশেষে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের ফাঁকা কৃষিজমির বাস্তবতাও দেখানো দরকার। এরপরও কেউ যদি যুক্তরাজ্যে আসতে চান, তাহলে তাদের কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জেরেমি ক্লার্কসনের এই মন্তব্য আসে রিফর্ম ইউকের ‘অপারেশন ফোর্ট্রেস’ পরিকল্পনা নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে। তিনি ইঙ্গিত দেন, যুদ্ধজাহাজ দিয়ে ছোট নৌকা থামানোর চেয়ে মানুষকে যুক্তরাজ্যে আসতে নিরুৎসাহিত করার কৌশলই বেশি কার্যকর হতে পারে।
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। কেউ এটিকে ব্যঙ্গাত্মক হলেও বাস্তবতার প্রতিফলন বলে মনে করছেন, আবার কেউ বলছেন, রাস্তার গর্ত বা দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক দেখিয়ে অভিবাসন সংকটের মতো জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস
এম.কে

