যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে কাজের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চলমান অভিযানে ডেলিভারি রাইডারদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৪৮২ জন খাবার সরবরাহকারী রাইডারকে থামিয়ে তাদের পরিচয় ও যুক্তরাজ্যে কাজ করার বৈধতা যাচাই করা হয়। তাদের মধ্যে অন্তত ১৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অর্থাৎ অভিযানে থামানো প্রতি ১০ জনের বেশি রাইডারের মধ্যে অন্তত একজন অবৈধভাবে কাজ করছিলেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ১৭ জনকে দ্রুত যুক্তরাজ্য থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযানকে অবৈধ কর্মসংস্থান এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অভিযানে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে ডেলিভারি অ্যাপের অ্যাকাউন্ট ভাগাভাগির বিষয়টি। অভিযোগ রয়েছে, কাজের বৈধ অনুমতি না থাকা কিছু ব্যক্তি বৈধ রাইডারদের অ্যাকাউন্ট ধার নিয়ে কিংবা অবৈধভাবে ভাগাভাগি করে খাবার সরবরাহের কাজ করছিলেন। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রকৃত পরিচয় ও কাজের অনুমতির বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করতেন।
ডেলিভারি খাতে অ্যাকাউন্ট ভাগাভাগির এই প্রবণতা ঠেকাতে এখন প্রযুক্তিগত যাচাইব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। ডেলিভারু, উবার ইটস ও জাস্ট ইটের মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে বিনিয়োগ করছে। কোনো ব্যক্তি নিজের পরিবর্তে অন্যের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছেন কি না, সেটিও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও দায়িত্ব বাড়ছে। শুধু রাইডারকে শনাক্ত করাই নয়, প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কাজ করা ব্যক্তির কাজের বৈধ অনুমতি রয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে।
নতুন বিধানের আওতায় ১ অক্টোবর থেকে ডেলিভারি ও গিগ অর্থনীতির প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর্থিক ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। কোনো অনিবন্ধিত বা অবৈধ কর্মী সংশ্লিষ্ট সেবার মাধ্যমে কাজ করতে গিয়ে শনাক্ত হলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতি কর্মীর জন্য সর্বোচ্চ ৬০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা হতে পারে।
সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে ডেলিভারি খাতে কর্মরত রাইডারদের জন্য কাজের অনুমতি, বৈধ পরিচয় এবং নিজস্ব অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অন্যের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কাজ করার সুযোগ কমাতে প্ল্যাটফর্মগুলোকেও পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হচ্ছে।
এর আগে পৃথক এক অভিযানে মাত্র সাত দিনে ১৭১ জন ডেলিভারি রাইডারকে গ্রেপ্তারের তথ্যও জানিয়েছিল যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে ৬০ জনকে যুক্তরাজ্য থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য আটক রাখা হয়েছিল। ওই অভিযানে লন্ডনের নিউহ্যাম এলাকায় বাংলাদেশি ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত কয়েকজন রাইডার গ্রেপ্তারের কথাও সরকারি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক অভিযানগুলো থেকে স্পষ্ট হচ্ছে, যুক্তরাজ্য সরকার এখন গিগ অর্থনীতির খাতকেও অভিবাসন আইন প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে খাবার সরবরাহের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পরিচয় ও কাজের অনুমতি যাচাইয়ের পাশাপাশি অ্যাকাউন্ট ভাগাভাগির মতো অনিয়ম বন্ধে নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে।
সরকারের লক্ষ্য হলো কাজের বৈধ অনুমতি ছাড়া কেউ যেন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে আয় করতে না পারেন। একই সঙ্গে ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে পরিচয় যাচাইয়ের দুর্বলতার কারণে অবৈধ কর্মীদের কাজের সুযোগ করে না দেয়, সেটিও নিশ্চিত করতে চায় কর্তৃপক্ষ। ফলে আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাজ্যের ডেলিভারি খাতে অভিযান, পরিচয় যাচাই এবং নিয়োগসংক্রান্ত নজরদারি আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

