TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে আগাম বন্দি মুক্তি নিয়ে রসিকতায় সমালোচনার মুখে শাবানা মাহমুদ ও ওয়েস স্ট্রিটিং

ব্রিটিশ সরকারের আগাম বন্দি মুক্তির নীতি নিয়ে হালকা রসিকতা করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ও সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। মঙ্গলবার এক অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতার সময় তাদের কথোপকথন হট-মাইকে রেকর্ড হয়ে প্রকাশ্যে চলে এলে তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ফাঁস হওয়া ওই ভিডিওতে নতুন বিচারমন্ত্রী অ্যালেক্স নরিসকে উদ্দেশ করে ওয়েস স্ট্রিটিংকে বলতে শোনা যায়, ‘এখন সে-ই শত্রু, তাই না শাবানা?’ জবাবে শাবানা মাহমুদ বলেন, ‘না, সে শত্রু নয়।’ এরপর স্ট্রিটিং মন্তব্য করেন, ‘সে তো সবাইকে জেল থেকে বের করে দিতে চায়।’ এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া অর্থমন্ত্রী স্যার মেল স্ট্রাইড জিবি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্যকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ এবং ‘ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য কষ্টদায়ক’ বলে অভিহিত করেন। তার মতে, এমন সময় এ ধরনের রসিকতা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়, বিশেষ করে যখন আলোচিত কয়েকটি মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আগাম মুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি দায়িত্ব পালনকালে নিহত পুলিশ কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু হার্পারের পরিবারের কথা উল্লেখ করে বলেন, ভয়াবহ অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের আগাম মুক্তি দেওয়া উচিত নয়।

স্যার মেল স্ট্রাইড সরকারের কারাগারের সংকট মোকাবিলায় বিকল্প প্রস্তাবও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের কারাগারগুলোতে প্রায় ১০ হাজার বিদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন। তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারলে কারাগারে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন খালি হবে এবং গুরুতর অপরাধীদের আগাম মুক্তি দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। একই সঙ্গে তিনি শাবানা মাহমুদ ও ওয়েস স্ট্রিটিংকে নিঃশর্তভাবে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির হার কমে আসাকে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানালেও স্যার মেল স্ট্রাইড প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করেন। তার দাবি, সরকার আরও বেশি ঋণ গ্রহণ, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

বিতর্কের জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে শাবানা মাহমুদ বলেন, নতুন বিচারমন্ত্রীকে নিয়ে করা মন্তব্যের পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি উল্লেখ করেন, নিজেও একসময় একই দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিচারব্যবস্থার বর্তমান সংকট সম্পর্কে অবগত। তবে বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে তিনি বলেন, কেউ যেন এই হালকা রসিকতাকে দায়িত্বশীলতার অভাব হিসেবে না দেখেন।

ওয়েস স্ট্রিটিংও পৃথক এক বার্তায় বলেন, তার মন্তব্য কোনোভাবেই বিদ্বেষমূলক ছিল না। এটি ব্রিটিশ রাজনীতিতে প্রচলিত একটি পুরোনো রাজনৈতিক কৌতুকের উল্লেখমাত্র। তবুও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা ব্রিটিশ রাজনীতিতে আগাম বন্দি মুক্তি নীতি এবং অপরাধ দমনে সরকারের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

প্লেন থেকে ফেলা মানববর্জ্যে ভেসে গেল এক ব্যক্তি ও তার বাগান!

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্য জুড়ে আসছে ভয়ঙ্কর হিটওয়েভ

রুয়ান্ডা বিল নিয়ে বিষোদগার করল জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটি