যুক্তরাজ্যে করমুক্ত ব্যক্তিগত আয়ের সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হলেও আপাতত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেকে সরে এসেছে নতুন সরকার। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সম্প্রতি করমুক্ত আয়ের বর্তমান সীমা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর জন্য সরকারের প্রাথমিক কর্মসূচির মধ্যে এই পদক্ষেপ থাকছে না। তবে বিষয়টি আসন্ন বাজেটে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে একজন ব্যক্তি বছরে ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করলে তার ওপর আয়কর দিতে হয় না। এই সীমা ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে এবং বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী ২০৩১ সাল পর্যন্ত তা বহাল থাকার কথা। দীর্ঘ সময় ধরে এই সীমা অপরিবর্তিত থাকায় বেতন বৃদ্ধি পেলেও অনেক কর্মী উচ্চ করের আওতায় চলে যাচ্ছেন। অর্থনীতিবিদদের একাংশ একে ‘নীরব কর বৃদ্ধি’ হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন।
গত সপ্তাহে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর বিষয়টি তার বিবেচনায় রয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যে দাবি তিনি শুনেছেন, তার একটি ছিল করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি। তার ভাষায়, মানুষের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কমাতে এমন পদক্ষেপ কীভাবে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সরকার ভাবছে।
তবে সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। একটি সূত্রের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী মূলত মানুষের উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেছেন, কিন্তু এ মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আরেকটি সূত্র জানায়, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হলেও বিপুল ব্যয়ের কারণে তা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
সোমবার ডাউনিং স্ট্রিটে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বার্নহ্যাম বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়। তবে আসন্ন বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা পর্যালোচনা করা হবে এবং সামগ্রিক আর্থিক অবস্থার আলোকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এরই মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সরকার কয়েকটি পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। আগামী অক্টোবর থেকে বিদ্যুৎ বিলের ওপর মূল্য সংযোজন কর প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী জানুয়ারি থেকে ইংল্যান্ডজুড়ে স্থানীয় বাসের একমুখী ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা দুই পাউন্ড নির্ধারণের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
তবে বিদ্যুৎ বিলে কর প্রত্যাহারের পরিকল্পনা নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ড্যারেন জোনস দাবি করেছেন, এ উদ্যোগের জন্য নির্দিষ্ট অর্থায়নের ব্যবস্থা নেই। যদিও প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে জোর দিয়ে বলেছেন, সরকার এমন কোনো নীতি গ্রহণ করবে না যার অর্থায়নের উৎস স্পষ্টভাবে দেখানো সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হলে লাখো কর্মজীবী মানুষের করের চাপ কমতে পারত। কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সরকারি ব্যয়ের সীমাবদ্ধতার কারণে সরকার আপাতত অপেক্ষাকৃত কম ব্যয়বহুল উদ্যোগের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন অনেকটাই নির্ভর করছে আসন্ন বাজেট এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এম.কে

