15.7 C
London
September 20, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ডানপন্থী ড্যানি টমোর বিরুদ্ধে ‘আইনের পূর্ণ শক্তি’ প্রয়োগের হুঁশিয়ারি শাবানা মাহমুদের

অক্সফোর্ডশায়ারের পিডিংটনে প্রস্তাবিত আশ্রয়কেন্দ্রকে ঘিরে স্থানীয় উদ্বেগ ও অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে কর্মী ড্যানিয়েল থমাস, যিনি ‘ড্যানি টমো’ নামে পরিচিত, তার বিরুদ্ধে আইন ভাঙলে ‘আইনের পূর্ণ শক্তি’ প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। 
দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাবানা মাহমুদ ড্যানিয়েল থমাসকে ‘চরম ডানপন্থী ও প্রকাশ্য বর্ণবাদী’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্য; ড্যানিয়েল থমাস নিজেকে বর্ণবাদী হিসেবে অস্বীকার করেছেন।
শাবানা মাহমুদ বলেন, পিডিংটনের মতো এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনো পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়টি আলাদা করে দেখতে হবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তিসঙ্গত স্থানীয় উদ্বেগ এবং সেই উদ্বেগকে ব্যবহার করে বিভাজন তৈরির চেষ্টা—দুটিকে এক করে দেখা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, “তাদের আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। আর যেখানে তারা আইন ভঙ্গ করবে, সেখানে আইনের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হবে।”
এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে পিডিংটনে প্রস্তাবিত বড় আশ্রয়কেন্দ্র নিয়ে চলমান বিরোধ। সাবেক একটি প্রতিরক্ষা স্থাপনায় পুরুষ আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ড্যানি টমো দাবি করেছেন, ওই পরিকল্পনা ঠেকাতে তিনি বিপুলসংখ্যক সমর্থককে এলাকায় নিয়ে আসতে পারেন।
এক সাক্ষাৎকারে থমাস এমন একটি পরিকল্পনার কথা বলেন, যেখানে হাজার হাজার মানুষ পিডিংটনের প্রস্তাবিত আশ্রয়কেন্দ্রের চারপাশে অবস্থান নিয়ে কয়েক দিন ধরে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করতে পারে।
ড্যানি টমো প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্মের সহপ্রতিষ্ঠাতা। তিনি দাবি করেছেন, তার সংগঠনে বর্ণবাদ গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি কোনো শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন নয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন জাতিগত পরিচয়ের মানুষের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব রয়েছে।
এদিকে পিডিংটনের স্থানীয় বাসিন্দারা প্রস্তাবিত আশ্রয়কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতীকী গণভোট আয়োজন করেন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটে ২৮৫ জন পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন এবং ২৬ জন সমর্থন করেন। অর্থাৎ মোট ৩১১ ভোটের মধ্যে ৯১ শতাংশের বেশি ভোট প্রস্তাবের বিরোধিতায় পড়ে।
তবে এই গণভোট ছিল প্রতীকী এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্য থেকে পিডিংটনের আলাদা হয়ে যাওয়ার কোনো আইনগত পরিবর্তন হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা মূলত আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান তুলে ধরতে এই উদ্যোগ নেন।
গণভোটের পরদিন ড্যানি টমো একাই পিডিংটন পরিদর্শন করেন। স্থানীয় এক প্যারিশ কাউন্সিলর জানান, তাকে গ্রাম ঘুরে দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদেরও স্থানীয় উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে শাবানা মাহমুদ পিডিংটনের বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ওয়েদারসফিল্ড ও ক্রোবোরোর মতো বড় স্থানে আশ্রয়প্রার্থীদের থাকার পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা একই স্থানে রাখলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ ব্যবস্থাপনা করা সহজ হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দাবি, প্রস্তাবিত স্থাপনাটি তুলনামূলকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে এবং আশ্রয়প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা একই জায়গায় দেওয়া সম্ভব হবে। ফলে স্থানীয় এলাকার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
শাবানা মাহমুদ আরও বলেন, আশ্রয়প্রার্থীদের বড় সংখ্যায় থাকার বিষয় নিয়ে উদ্বেগ শুধু গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বার্মিংহামের মতো শহরাঞ্চলেও বিপুলসংখ্যক এইচএমও—হাউসেস অব মাল্টিপল অকুপেশন, অর্থাৎ একাধিক ব্যক্তি বা পরিবারের যৌথভাবে বসবাসের ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে আশ্রয়প্রার্থীদের রাখা হয়। এসব এলাকাতেও স্থানীয় উদ্বেগ রয়েছে বলে তিনি জানান।
ড্যানি টমোর কর্মকাণ্ড নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন আশ্রয়কেন্দ্র ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে। এর আগে ডোভার ও পোর্টসমাউথে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্মের সমর্থকদের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
শাবানা মাহমুদ একই সময়ে ছুরি-সহিংসতা মোকাবিলায় নতুন একটি কর্মসূচিও ঘোষণা করেন। হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ২৭টি পুলিশ বাহিনীর আওতাধীন ২৩০টির বেশি এলাকায় পুলিশ টহল, সিসিটিভি এবং তরুণদের জন্য প্রতিরোধমূলক কর্মসূচিতে ২ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড বরাদ্দ করা হবে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান ও জিবি নিউজ
এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্য সরকার আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য হাতে নিতে যাচ্ছে তাঁবু ব্যবস্থাপনা

‘গাঁজা বৈধকরণ হতে পারে অর্থনৈতিক উন্নতির মাধ্যম’

এবার ওমিক্রনের টিকার অনুমোদন দিল যুক্তরাজ্য