TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ফার্স্ট-কাজিন বিয়ে নিষিদ্ধে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের ওপর চাপ

যুক্তরাজ্যে ফার্স্ট কাজিনের মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ করার দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। একটি সাম্প্রতিক অভিবাসন মামলায় আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সরকারের ওপর আইন পরিবর্তনের জন্য চাপ বাড়ছে। ছায়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. লুক ইভান্স প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রীদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।

ড. লুক ইভান্স চলতি বছরের ১৭ জুন হাউস অব কমন্সে চাচাতো ভাই-বোনের মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি ব্যক্তিগত সদস্যের বিল উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত আইনে শুধু বিয়েই নয়, চাচাতো ভাই-বোনের মধ্যে নাগরিক অংশীদারত্ব ও যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিতর্কটি নতুন মাত্রা পায় সুদানের এক অভিবাসীকে ঘিরে একটি মামলার রায়ের পর। মামলায় একজন নারী তার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে বিবাহিত অবস্থায় যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগ পান। আপার ট্রাইব্যুনাল মনে করে, তাকে যুক্তরাজ্যে থাকার আবেদন থেকে বঞ্চিত করলে ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে সুরক্ষিত পারিবারিক জীবনের অধিকারের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হতে পারে।

হোম অফিসের পক্ষ থেকে এর আগে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, ওই বিয়ের উদ্দেশ্য ছিল স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগ তৈরি করা। কিন্তু আদালত শেষ পর্যন্ত আবেদনকারীর পক্ষে রায় দেয়। ঘটনাটি সামনে আসার পর সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, বিদ্যমান আইন ও মানবাধিকার কাঠামোর কারণে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মধ্যে বিয়েকে কেন্দ্র করে অভিবাসন ব্যবস্থায় কী ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

ড. ইভান্সের মতে, সাম্প্রতিক মামলাটি আইন পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করেছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে কাজ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। তার যুক্তি, ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইনের সীমারেখা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন এবং সম্ভাব্য জেনেটিক স্বাস্থ্যঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে কনজারভেটিভ এমপি রিচার্ড হোল্ডেনও অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে পূর্ববর্তী লেবার সরকারের অবস্থান থেকে সরে এসে নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, চাচাতো ভাই-বোনের বিয়ে কারও যুক্তরাজ্যে থাকার দাবিকে শক্তিশালী করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয়।

চাচাতো ভাই-বোনের মধ্যে বিয়ে নিয়ে বিতর্কের অন্যতম কারণ স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিভিন্ন গবেষণায় এ ধরনের সম্পর্কে জন্ম নেওয়া শিশুদের কিছু জন্মগত ত্রুটি, বিকাশজনিত সমস্যা এবং কথা ও ভাষার জটিলতার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ঝুঁকি নিয়ে গবেষণার ফলাফল ও এর ভিত্তিতে আইন করার যৌক্তিকতা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলেও বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। কিছু লেবার এমপি নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, আবার কেউ কেউ এর বিরোধিতা করেছেন। সাবেক লেবার ফ্রন্টবেঞ্চার ব্যারি গার্ডিনার এর আগে জানিয়েছিলেন, তিনি চাচাতো ভাই-বোনের বিয়ে নিষিদ্ধ করার পক্ষে ভোট দেবেন না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এর আগে জানিয়েছিলেন, সরকার বিবাহ আইন নিয়ে আরও বিস্তৃত সংস্কারের বিষয়টি বিবেচনা করছে। সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য এখনো সরাসরি বলা হয়নি যে চাচাতো ভাই-বোনের বিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজও নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সুইডেন একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি বিষয়টিকে আরও জোরালোভাবে সামনে আনেন।

প্রস্তাবিত ‘চাচাতো ভাই-বোন নিষিদ্ধ সম্পর্ক বিল’ বর্তমানে সংসদীয় প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সংসদের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিলটির উদ্দেশ্যের মধ্যে ফার্স্ট কাজিন বিয়ে এবং নাগরিক অংশীদারত্ব নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি এ ধরনের সম্পর্কের বিষয়ে আরও বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।

তবে আইনটি পাস হতে হলে সংসদের পরবর্তী ধাপগুলো অতিক্রম করতে হবে। ফলে যুক্তরাজ্যে ফার্স্ট কাজিন বিয়ে নিষিদ্ধ হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি একই সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকি, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, মানবাধিকার, অভিবাসন আইন ও পারিবারিক আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কে পরিণত হয়েছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

কনজারভেটিভ পার্টিতে ইসলামোফোবিয়া সমর্থনের অভিযোগ

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে ভয়ংকর মোড়ঃ রিফর্ম পার্টিকে কড়া চপেটাঘাত কনজারভেটিভ নেত্রীর

কোথায় হবে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কবর?