20.5 C
London
September 15, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় ভরসা অভিবাসীরাঃ ILR নিয়ম বদলালে হাজারো কর্মী হারানোর শঙ্কা

ব্রিটেনের স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থায় অভিবাসী নার্স ও কেয়ার কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে—এমন অবস্থানের মধ্যেই স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (ILR) পাওয়ার নিয়ম কঠোর করার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে বিদেশ থেকে আসা কেয়ার কর্মীদের বর্তমান পাঁচ বছরের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে জানিয়েছে রয়্যাল কলেজ অব নার্সিং (RCN)।

বিষয়টি নিয়ে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ চলতি বছরের শেষ দিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় বর্তমানে ব্রিটেনে থাকা কিছু অভিবাসী কর্মীও পড়তে পারেন। ফলে যারা ইতোমধ্যে কয়েক বছর ধরে স্বাস্থ্য ও কেয়ার খাতে কাজ করছেন, তাদের স্থায়ী বসবাসের পথও দীর্ঘ হতে পারে।

RCN-এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিকোলা রেঞ্জার বলেছেন, অভিবাসী নার্সিং কর্মীরা ব্রিটেনের স্বাস্থ্য ও কেয়ার ব্যবস্থাকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তারা শুধু কর্মী হিসেবে নয়, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটেনে বসবাস করে স্থানীয় সম্প্রদায়েরও অংশ হয়ে উঠেছেন।

RCN-এর আশঙ্কা, স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতার সময়সীমা বাড়ানো হলে অনেক অভিবাসী স্বাস্থ্য ও কেয়ার কর্মী ব্রিটেনে থাকার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। সংগঠনটির বক্তব্য, এমন পরিস্থিতি সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থায় কর্মী সংকট আরও বাড়াতে পারে।

স্কিলস ফর কেয়ার-এর হিসাব উদ্ধৃত করে ডেইলি মিরর জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক সামাজিক পরিচর্যা খাতে কেয়ার কর্মী ও সিনিয়র কেয়ার কর্মীদের প্রায় ৩৮ শতাংশ এবং নিবন্ধিত নার্সদের ৪৩ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক নন। অর্থাৎ এই খাতে অভিবাসী কর্মীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।

চলতি বছরের শুরুতে RCN-এর একটি জরিপেও অভিবাসী কেয়ার কর্মীদের মধ্যে স্থায়ী বসবাসের নিয়ম পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উঠে আসে। জরিপে অংশ নেওয়া ILR না থাকা অভিবাসী কেয়ার কর্মীদের ৬০ শতাংশ জানিয়েছেন, যোগ্যতা অর্জনের সময়সীমা বাড়ানো হলে ব্রিটেনে থাকার সিদ্ধান্তে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে। RCN-এর হিসাবে, এর ফলে সর্বোচ্চ ৪৬ হাজার নার্সিং কর্মী ব্রিটেন ছাড়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

RCN আরও জানিয়েছে, ব্রিটেনে স্বাস্থ্য ও কেয়ার খাতে কাজ করা ভিসাধারী কর্মীরা বর্তমানে পাবলিক ফান্ডে প্রবেশাধিকার ছাড়া কাজ করেন। ফলে দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা বা কাজ করতে না পারার মতো পরিস্থিতিতে তারা আর্থিক চাপের মুখে পড়তে পারেন।

স্থায়ী বসবাসের আবেদন খরচ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নার্সিং সংগঠনটি। তাদের হিসাবে, ব্রিটেনে একজন ব্যক্তির ILR আবেদনের খরচ বর্তমানে ৩ হাজার ২৯ পাউন্ড। RCN স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা খাতের অভিবাসী কর্মীদের জন্য দ্রুত ILR দেওয়ার পাশাপাশি আবেদন ফি ৫২৩ পাউন্ডে কমিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক তুলনাতেও RCN বিষয়টি তুলে ধরেছে। সংগঠনটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় নিবন্ধিত নার্সদের জন্য স্থায়ী বসবাসের পথ ব্রিটেনের প্রস্তাবিত ব্যবস্থার তুলনায় আলাদা। কানাডায় কেয়ার কর্মীদের জন্য প্রায় ১৬ মাসের পথ রয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। নিউজিল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডে অপেক্ষার সময় দুই বছর এবং অস্ট্রেলিয়ায় নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দুই থেকে চার বছর পর্যন্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ সরকারের বক্তব্য হলো—অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রয়োজন এবং যারা ব্রিটেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছেন, তাদের জন্য অপেক্ষার সময় তুলনামূলকভাবে কম রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। হোম অফিস জানিয়েছে, গত নভেম্বরে অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য স্থায়ী বসবাসের সাধারণ যোগ্যতার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে ১০ বছর করার সংস্কার প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সসহ গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা কর্মীদের জন্য পাঁচ বছরের পথ রাখার প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়েছে।

শাবানা মাহমুদ বলেছেন, সরকার এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে চায় যেখানে ব্রিটেনে কাজ করতে আসা মানুষের প্রতি দায়িত্ব, পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে পাওয়া পরিস্থিতি এবং বর্তমানে ব্রিটেনে থাকা ও দেশের বিভিন্ন ব্যবস্থায় অবদান রাখা মানুষের প্রতি দায়িত্ব—সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য রাখা যায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আরও বলেছেন, সাধারণ নীতি অনুযায়ী কোনো অভিবাসী যখন ILR-এর জন্য আবেদন করবেন, তখন আবেদনের সময় কার্যকর থাকা নিয়মই তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ কেউ ব্রিটেনে প্রবেশের সময় যে নিয়ম ছিল, সেটিই তার পুরো অভিবাসন যাত্রায় স্থায়ীভাবে প্রযোজ্য থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

এদিকে ব্রিটেনের নতুন জাতীয় কেয়ার সার্ভিস গড়ে তোলার পরিকল্পনার সঙ্গেও বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ব্রিটেনের সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। RCN-এর আশঙ্কা, কেয়ার খাতে কর্মরত অভিবাসীদের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার বিষয়টি নিশ্চিত না হলে কর্মী ধরে রাখা আরও কঠিন হতে পারে।

RCN-এর বক্তব্য, অভিবাসী নার্স ও কেয়ার কর্মীরা ইতোমধ্যে ব্রিটেনের স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অবদান রেখেছেন। তাই স্থায়ী বসবাসের নিয়ম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাদের অবদান, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা এবং ব্রিটেনে গড়ে তোলা জীবন ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সরকারের পরামর্শ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন শাবানা মাহমুদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে স্বাস্থ্য ও কেয়ার খাত। ফলে আগামী মাসগুলোতে অভিবাসী নার্স, কেয়ার কর্মী এবং ব্রিটেনের সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থার ওপর প্রস্তাবিত ILR সংস্কারের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর

এম.কে

আরো পড়ুন

স্টারমারের অভিবাসন নীতির পরিবর্তনে লেবার এমপি ও নিয়োগকারীদের বিরোধিতা

বার্মিংহামে নিকাব পরে হত্যাচেষ্টাঃ মার্কিন নারী দোষী সাব্যস্ত

নিউজ ডেস্ক

ইমেনসা ল্যাবের ত্রুটির কারণে কোভিডে সম্ভাব্য ২৩ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক