TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বোরকা বিতর্কে আদিল রায়ের বিস্ফোরক মন্তব্য: ‘মুসলিম নারীদেরই আলাদাভাবে টার্গেট করা হচ্ছে’

যুক্তরাজ্যে মুসলিম নারীদের মুখাবরণ ও ধর্মীয় পোশাক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ‘গুড মর্নিং ব্রিটেন’-এর উপস্থাপক আদিল রায় দাবি করেছেন, কোনো মুসলিম নারী মুখ ঢেকে রাখলে তাকে নিয়ে যে ধরনের প্রশ্ন ও সমালোচনা করা হয়, অন্য ধর্মের নারীদের ক্ষেত্রে একই আচরণ দেখা যায় না। তার ভাষায়, ‘মুসলিম নারীদেরই আলাদাভাবে টার্গেট করা হয়।’

১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জিবি নিউজ জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করে এ বিতর্কের সূত্রপাত করেন আদিল রায়। ওই পোস্টে মুসলিম নারীদের মুখাবরণ পরার বিষয়টির সঙ্গে খ্রিস্টান ও ইহুদি নারীদের ধর্মীয় কারণে শালীন পোশাক পরার তুলনা করা হয়। আদিল রায় পোস্টটির সঙ্গে শুধু প্রশ্ন রাখেন—‘কেন?’

বিতর্কে এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী যুক্তি দেন, কিছু ধর্মীয় সমাজে নারীদের পোশাকের ক্ষেত্রে সামাজিক ও পিতৃতান্ত্রিক চাপ থাকতে পারে। জবাবে আদিল রায় প্রশ্ন তোলেন, কোন নিয়মকে সেই সামাজিক ‘নিয়ম’ বলা হচ্ছে এবং কেন মুসলিম নারীদের পোশাককে আলাদাভাবে বিচার করা হবে।

আদিল রায় আরও দাবি করেন, যুক্তরাজ্যে এক শতাংশেরও কম মুসলিম নারী মুখাবরণ পরেন। তাই অল্পসংখ্যক নারীর পোশাককে পুরো মুসলিম সমাজের প্রচলিত রীতি হিসেবে দেখার বিরুদ্ধেও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আলোচনা একপর্যায়ে আফগানিস্তানের নারীদের প্রসঙ্গে পৌঁছায়। সেখানে তালেবান শাসনের অধীনে নারীদের পোশাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। আদিল রায় পাল্টা বলেন, ওই শাসনব্যবস্থায় সবার স্বাধীনতাই সীমিত। এরপর তিনি অতি-রক্ষণশীল ইহুদি নারীদের একটি গোষ্ঠীর উদাহরণ তুলে ধরেন, যারা কঠোর শালীনতার পোশাক অনুসরণ করেন।

বিতর্কের শেষ দিকে আদিল রায় তার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, মূল বিষয়টি হলো—মুসলিম নারীদের পোশাক নিয়ে অন্যদের তুলনায় বেশি আলাদাভাবে প্রশ্ন তোলা হয়।

আদিল রায়ের বক্তব্যে সমর্থন জানিয়েছেন আইটিভির চিকিৎসক আমির খানও। তিনি মন্তব্য করেন, নারীদের কী পরতে হবে বা কী পরা যাবে না—এভাবে নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে তাদের ‘মুক্ত’ করার চেষ্টা একই ধরনের আচরণ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আদিল রায়ের বক্তব্যের বিরোধিতাও করেছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ধর্মীয় পোশাকের বিধান আসলে কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং নারীর ব্যক্তিগত পছন্দ কতটা স্বাধীন।

অন্যদিকে, একজন ব্যবহারকারী ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে ধর্মীয় শালীনতার বিধানকে সমর্থন করে বলেন, মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী এসব নিয়ম পুরুষদের তৈরি নয়; বরং সৃষ্টিকর্তার নির্দেশনা থেকে এসেছে। একই সঙ্গে ইসলামে পুরুষদের জন্যও শালীনতার বিধান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া অনেক অনুসারী আদিল রায়কে সমর্থন করেছেন। তাদের বক্তব্য, প্রকৃত স্বাধীনতা হলো—একজন নারী কোন পোশাক পরবেন, সে সিদ্ধান্ত তার নিজের; তিনি যে ধর্মেরই অনুসারী হোন না কেন।

যুক্তরাজ্যে মুসলিম নারীদের মুখাবরণ নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০০৬ সালে তৎকালীন লেবার এমপি জ্যাক স্ট্র-ও নির্বাচনী এলাকার সাক্ষাতে মুখাবরণ সরানোর অনুরোধ করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে তৎকালীন কনজারভেটিভ এমপি বরিস জনসন বোরকা পরা নারীদের নিয়ে অবমাননাকর উপমা ব্যবহার করলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

সেই বিতর্কের ধারাবাহিকতায় এবার আদিল রায়ের মন্তব্য যুক্তরাজ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা, নারীর ব্যক্তিগত পছন্দ এবং মুসলিম নারীদের পোশাক নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি—এই তিনটি বিষয়কে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

লন্ডনে ১৬ বাংলাদেশী গ্যাং সদস্যের ১০০ বছরের কারাদণ্ড

দক্ষিণ ইয়র্কশায়ারে ১৮০০ কর্মসংস্থান তৈরি করবে ইকো এয়ারশিপ

অনলাইন ডেস্ক

লেবার পার্টি নিম্নবেতনের শ্রমিকদের জন্য অসুস্থতা ভাতা প্রদান করবে