22 C
London
September 15, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ভিসা কঠোরতায় শিক্ষা ও ডেন্টাল সেবায় বড় ধাক্কা

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত নতুন সরকারি হোম অফিসের তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক অভিবাসন বিধিনিষেধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে উচ্চশিক্ষা ও ডেন্টাল সেবায়। স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার নিয়ম কঠোর করার এক বছর পর বিদেশি ডেন্টাল নার্সদের স্পনসরড এন্ট্রি ক্লিয়ারেন্স অনুমোদন ৯৫ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে ২০২৬ সালের আগস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য স্টাডি ভিসার আবেদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ শতাংশ কমেছে।

উচ্চশিক্ষা খাতের নেতৃবৃন্দ ও ডেন্টাল সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, বিদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মী নিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি সংকোচন হলে কিছু আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সক্ষমতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত ডেন্টাল সেবা পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি টিউশন ফি পেয়ে থাকে। এসব আয় অনেক ক্ষেত্রে দেশীয় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি থেকে তৈরি আর্থিক ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখে।

বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জেনি ফিলিমোরের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ফি থেকে পাওয়া আয় কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, শিক্ষার্থী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে থাকলে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়তে পারে এবং ঋণদাতাদের চাপের মুখোমুখি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। ২০২৩ সালে অধিকাংশ পোস্টগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর নির্ভরশীল স্বজনদের যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসার সুযোগ সীমিত করা হয়। এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর সম্ভাব্য নতুন শুল্ক আরোপের বিষয়টিও শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অন্যদিকে ডেন্টাল সেবায় কর্মী সংকটের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ডেন্টিস্টদের জন্য বিদেশি কর্মী স্পনসর করার সুযোগ থাকলেও ডেন্টাল নার্স ও হাইজিনিস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক পেশাগুলো নতুন বিদেশি কর্মী নিয়োগের চ্যানেল থেকে বাদ পড়েছে।

ডেন্টার্টিস্ট্রির শুশান্থ সুন্থাররাজনের বক্তব্য অনুযায়ী, ডেন্টাল প্র্যাকটিসগুলো বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হারিয়েছে। ফলে কর্মী নিয়োগের প্রচলিত ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

ডেন্টাল খাতের অন্যান্য ক্লিনিক্যাল পরিচালকও বিদেশি কর্মী নিয়োগের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রক ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি হোম অফিসের ফি বাড়ার কারণে স্বতন্ত্র ডেন্টাল প্র্যাকটিসগুলোর জন্য বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করা আগের তুলনায় ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

ডেন্টাল নার্স ও অন্যান্য সহায়ক কর্মীদের ঘাটতি বাড়লে রোগীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, চিকিৎসার সময়সূচি এবং নতুন রোগী গ্রহণের সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে বলে খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

শিক্ষা খাতেও একই ধরনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমে গেলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি থেকে উল্লেখযোগ্য আয় করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আয়ের ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

একই সময়ে বিদেশি কর্মী নিয়োগ কমে যাওয়ার ফলে স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য স্থানীয় পরিষেবায় প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করাও একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ডেন্টাল খাতে ডেন্টিস্টদের পাশাপাশি নার্স, হাইজিনিস্ট ও অন্যান্য সহায়ক কর্মীদের ভূমিকা রোগীসেবা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারের অভিবাসন নীতির অন্যতম লক্ষ্য যুক্তরাজ্যে অভিবাসনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা এবং বিদেশি কর্মী ও শিক্ষার্থীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত আরোপ করা। তবে সাম্প্রতিক সরকারি তথ্যের পর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে এসব নীতির প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দ্য ড্যাজলিং ডন

এম.কে

আরো পড়ুন

ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের আরো ১৮ মাস থাকতে দেবে ব্রিটেন

ব্যক্তিগত ইনফ্লেশন ক্যালকুলেটর: জেনে নিন মূল্যবৃদ্ধি আপনাকে কীভাবে প্রভাবিত করবে

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিনে ছুরিকাঘাতে খুন!