20.8 C
London
June 16, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে লার্নিং ডিজঅ্যাবিলিটি নার্স সংকট চরমে, ঝুঁকিতে ১৫ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা

যুক্তরাজ্যে লার্নিং ডিজঅ্যাবিলিটি বিশেষজ্ঞ নার্সের ক্রমবর্ধমান ঘাটতি এখন ‘চরম সংকটে’ রূপ নিয়েছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির বৃহত্তম নার্সিং সংগঠন রয়্যাল কলেজ অব নার্সিং (আরসিএন)। সংগঠনটির এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞ নার্সের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় প্রায় ১৫ লাখ মানুষ তাদের প্রাপ্য স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আরসিএনের প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা (এনএইচএস)-এ কর্মরত লার্নিং ডিজঅ্যাবিলিটি নার্সের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৩ জন। ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৬৮ জনে। অর্থাৎ, গত ১৭ বছরে এই বিশেষায়িত নার্সিং কর্মীবাহিনীর সংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হ্রাস পেয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সংকটের ফলে লার্নিং ডিজঅ্যাবিলিটিতে আক্রান্ত প্রায় ১৫ লাখ মানুষ স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবায় সমান সুযোগ পাওয়ার আইনগত অধিকার থেকে কার্যত বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ নার্সের অভাবকে এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আগামী বছরগুলোতে এ সংকট আরও গভীর হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

আরসিএনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে মাত্র ৪৯০ জন শিক্ষার্থী লার্নিং ডিজঅ্যাবিলিটি নার্সিং বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। গত এক দশকে এই বিষয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০ শতাংশ কমে গেছে, যা ভবিষ্যতের জনবল সংকটকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

রয়্যাল কলেজ অব নার্সিংয়ের প্রধান কর্মকর্তা অধ্যাপক লিন উলসি বলেন, “এই পর্যালোচনার ফলাফল স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে যে, লার্নিং ডিজঅ্যাবিলিটি নার্সিংকে ধারাবাহিকভাবে অবমূল্যায়নের যে প্রবণতা রয়েছে, তা আর চলতে দেওয়া যায় না।”

তিনি আরও বলেন, “এই কর্মীবাহিনী এখন চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে কর্মরত নার্সের সংখ্যা কমছে, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির হারও দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। অথচ তাদের দক্ষতা স্বাস্থ্যসেবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

প্রতিবেদনে অংশগ্রহণকারী অনেক নার্স অভিযোগ করেছেন যে, স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভেতরে তাদের পেশাগত অবদান যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জনবল ও সম্পদের অভাবে রোগীদের সর্বোচ্চ মানের সেবা প্রদানও কঠিন হয়ে পড়ছে।

একজন নার্স জানান, গ্রামীণ অঞ্চলে ছোট পরিসরে লার্নিং ডিজঅ্যাবিলিটি সেবা পরিচালনা করতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়, কারণ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রেই রোগীদের বিশেষ চাহিদা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। অন্য একজন নার্স বলেন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে তারা কাঙ্ক্ষিত মানের সেবা দিতে পারছেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাজ্যে লার্নিং ডিজঅ্যাবিলিটিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণ মানুষের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ স্বাস্থ্যগত অবস্থার মুখোমুখি হন। তাদের গড় আয়ু প্রায় ২০ বছর কম। এছাড়া জাতিগত সংখ্যালঘু এবং অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত পটভূমি থেকে আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য আরও প্রকট।

এ পরিস্থিতিতে আরসিএন সরকারের প্রতি লার্নিং ডিজঅ্যাবিলিটি নার্সিংকে ‘নিরাপত্তার জন্য অত্যাবশ্যক পেশা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে পেশাটিকে টিকিয়ে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে এই খাতে আকৃষ্ট করতে যুক্তরাজ্যজুড়ে সমন্বিত নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে, লার্নিং ডিজঅ্যাবিলিটি বিষয়ক দাতব্য সংস্থা মেনক্যাপের প্রধান নির্বাহী জন স্পার্কস বলেন, “অনেক ক্ষেত্রেই লার্নিং ডিজঅ্যাবিলিটি নার্সরাই নিশ্চিত করেন যে, একজন রোগী স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশে সঠিকভাবে শোনা, বোঝা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ নার্সের অভাবে বহু মানুষ তাদের সবচেয়ে প্রয়োজনের সময়েও প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্বাস্থ্যগত বৈষম্য দূর করতে হলে এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মীবাহিনীতে জরুরি ভিত্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।”

প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা খাত ইতোমধ্যেই দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকা, জনবল সংকট এবং ক্রমবর্ধমান সেবার চাহিদার মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে লার্নিং ডিজঅ্যাবিলিটিতে আক্রান্ত মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে এবং বিদ্যমান বৈষম্য আরও গভীর হবে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

ইংল্যান্ডে চিকিৎসার জন্য অপেক্ষায় রোগীর সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায়

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন সংকট প্রকটঃ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ৬০০ অভিবাসীর প্রবেশ

যুক্তরাজ্যের কেয়ার ভিসা নিয়ে হোম অফিসের ব্যর্থতা প্রকাশ