ইংল্যান্ডের নর্থ ইয়র্কশায়ারের প্রত্যন্ত গ্রাম লিন্টন-অন-ওউসে সাবেক একটি রয়্যাল এয়ার ফোর্স (RAF) ঘাঁটিকে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন কেন্দ্রে রূপান্তরের সরকারি পরিকল্পনা ঘিরে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার সেখানে সর্বোচ্চ ১,২৫০ জন অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ আশ্রয়প্রার্থীকে রাখার প্রস্তাব বিবেচনা করছে। তবে স্থানীয় কাউন্সিল ও বাসিন্দাদের দাবি, এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে ছোট একটি গ্রামে স্থানান্তর করা হলে এলাকার অবকাঠামো, পরিবহন ব্যবস্থা এবং জনসেবার ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হবে।
সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, ইয়র্কের কাছে অবস্থিত সাবেক আরএএফ লিন্টন-অন-ওউস ঘাঁটিকে ব্যবহার করে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য একটি বড় আবাসন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। বর্তমানে গ্রামটিতে প্রায় ৩০০ জন পুরুষ বাসিন্দা রয়েছেন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এলাকাটির জনসংখ্যা কার্যত তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ কারণে নর্থ ইয়র্কশায়ার কাউন্সিল সরকারকে পরিকল্পনাটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। কাউন্সিলের বক্তব্য, প্রত্যন্ত এই গ্রামে পর্যাপ্ত অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, গণপরিবহন ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নেই। ফলে এত বড় সংখ্যক মানুষের আবাসনের জন্য এলাকাটি উপযুক্ত নয়।
স্থানীয় বাসিন্দা হাওয়ার্ড কুপার বলেন, শুধু আশ্রয়প্রার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য ঘাঁটির বাইরে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেই প্রতিদিন প্রায় ৪০টি কোচ বাস এবং ৮০টি যানবাহন চলাচলের প্রয়োজন হতে পারে। তার মতে, এটি গ্রামটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং সড়ক ব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করবে।
স্থানীয় নেতাদের মতে, লিন্টন-অন-ওউস একটি বিচ্ছিন্ন গ্রামীণ এলাকা, যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত, গণপরিবহন দুর্বল এবং প্রয়োজনীয় জনসেবাও পর্যাপ্ত নয়। তাদের আশঙ্কা, এমন পরিবেশে বিপুলসংখ্যক আশ্রয়প্রার্থীকে রাখলে তা তাদের সমাজে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজ করবে না, পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পরিকল্পনার বিরোধিতায় স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রিশি সুনাকও কাউন্সিলের আপত্তিপত্রের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তার অবস্থানকে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যয়বহুল হোটেল থেকে সরিয়ে সাবেক সামরিক স্থাপনাগুলো ব্যবহার করা দেশের আশ্রয় ব্যবস্থা সংস্কার এবং সরকারি ব্যয় কমানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পরিকল্পনা অনুমোদন ও সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বিকল্প আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সরকারি উদ্যোগ এবং স্থানীয় জনগণের অবকাঠামোগত সক্ষমতা ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এম.কে

