20.9 C
London
October 15, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরে যাত্রী নামানোর ফি নিয়ে ক্ষুব্ধ চালকেরা

যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে গাড়ি থেকে যাত্রী নামানোর ফি বা ড্রপ-অফ চার্জ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ফি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় যাত্রীদের ভ্রমণ ব্যয় ও বিমানবন্দরে যাতায়াতের সুবিধা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ব্রিটিশ মোটরচালক সংস্থা আরএসি-র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের ব্যস্ততম ২০টি বিমানবন্দরের মধ্যে ১৬টিতে ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে যাত্রী নামানোর ফি বাড়ানো হয়েছে। এতে এই ফি বাবদ গড় খরচ বেড়েছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, যাতায়াত যেন সবার জন্য সহজলভ্য থাকে এবং যাত্রীদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করা হয়, তা নিশ্চিত করতেই মন্ত্রীরা এই পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পর্যালোচনা চলাকালে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে ফি বাড়ানোর ক্ষেত্রে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সরকার, বিশেষ করে যেসব বিমানবন্দরে বিকল্প গণপরিবহনের ব্যবস্থা সীমিত।

পর্যালোচনায় যাত্রীদের সামর্থ্য, যাতায়াতের সুযোগ-সুবিধা, ভ্রমণের ধরন এবং বিভিন্ন শ্রেণির যাত্রীর অভিজ্ঞতার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করা হতে পারে। যাত্রী নামানোর ফি থেকে পাওয়া অর্থ বিমানবন্দরগুলো কীভাবে ব্যবহার করে, সেটিও পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে।

আরএসি-র জ্যেষ্ঠ নীতিবিষয়ক কর্মকর্তা রড ডেনিস বলেছেন, সরকারের এই ঘোষণা চালকদের জন্য স্বস্তির খবর। তার মতে, বিমানবন্দরে যাত্রী নামানোর ফি ক্রমেই চালকদের ক্ষোভ ও হতাশার বড় কারণ হয়ে উঠছে।

রড ডেনিস জানান, আরএসি-র জরিপে অংশ নেওয়া চালকদের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে চারজন এই ফিকে ‘অতিরিক্ত অর্থ আদায়’ বলে মনে করেন। বিপরীতে, প্রতি ১০ জনের মধ্যে মাত্র একজন বোঝেন কেন বিমানবন্দরগুলো এ ধরনের ফি নেয়।

সংস্থাটির গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের গ্রীষ্ম থেকে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের মধ্যে টার্মিনালের কাছাকাছি যাত্রী নামানোর ফি গড়ে ১ পাউন্ড ৭০ পেন্স বেড়ে ৭ পাউন্ডে পৌঁছেছে। আরএসি-র দাবি, বিশ্বের অন্যান্য বড় বিমানবন্দরে প্রচলিত ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের এই ফি আদায়ের নীতির যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

তবে যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোর বাণিজ্যিক সংগঠন এয়ারপোর্টসইউকের প্রধান নির্বাহী কারেন ডি সরকারের পর্যালোচনার বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী নামানোর জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে, যার মধ্যে বিনা মূল্যের স্থানও অন্তর্ভুক্ত।

তার মতে, বিশেষ সুবিধার জন্য নেওয়া ফি থেকে পাওয়া অর্থ বিমানবন্দরগুলোর ব্যবসায়িক মডেলের একটি অংশ। এই অর্থ বিভিন্ন ধরনের ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ বজায় রাখতে সহায়তা করে, যা শেষ পর্যন্ত যাত্রীদেরই উপকারে আসে।

কারেন ডি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের বাইরের অনেক দেশের বিমানবন্দর সরকারি মালিকানাধীন এবং সরকারি ভর্তুকি ও করছাড় পেয়ে থাকে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলো সাধারণত বেসরকারি মালিকানাধীন এবং বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক করের আওতায় পরিচালিত হয়।

তার দাবি, পর্যালোচনায় দেখা যাবে যে যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলো জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যানজট ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ব্যবস্থা ব্যবহার করে। একই সঙ্গে ফ্লাইটের খরচ কম রাখা, অবকাঠামোয় বিনিয়োগ এবং বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এসব ব্যবস্থা ভূমিকা রাখে।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এমকে

আরো পড়ুন

“ভালো চরিত্রের অভাব” যুক্তি টিকল আদালতে, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব হারালেন ভুয়া পরিচয়ধারী

সব বাড়ি বিক্রি করে ভাড়া বাড়িতে উঠেছেন ইলন মাস্ক

রমজানে ব্রিটেনে সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী

অনলাইন ডেস্ক