29.4 C
London
July 14, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

রিফর্ম ইউকে ক্ষমতায় এলে বহিষ্কার অভিযান জোরদারের ইঙ্গিতঃ শঙ্কায় অভিবাসী সম্প্রদায়

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অভিবাসন ইস্যু আবারও কেন্দ্রীয় আলোচনায় উঠে এসেছে। রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি যদি আগামী সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে তার সরকারের প্রথম কাজ হবে ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদ (ECHR) থেকে যুক্তরাজ্যকে বের করে আনা এবং ১৯৯৮ সালের মানবাধিকার আইনের কার্যকারিতা বাতিল করা।

ফারাজের এই অবস্থানকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে আশ্রয়প্রার্থী, অনিয়মিত অভিবাসী এবং যাদের বহিষ্কার প্রক্রিয়া বর্তমানে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে আটকে রয়েছে, তাদের জন্য এটি নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেইলি এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফারাজ বলেন, ECHR থেকে বেরিয়ে এলে সরকার তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে, যাদের যুক্তরাজ্যে থাকার আইনগত অধিকার নেই। তার মতে, বর্তমান মানবাধিকার কাঠামো অনেক ক্ষেত্রে সরকারের বহিষ্কার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে।

তিনি বলেন, “এটি শুধু বহিষ্কারের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবে না, বরং ভোটারদের এই বিশ্বাসও ফিরিয়ে আনবে যে তাদের ভোটের মূল্য আছে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হয়।”

ফারাজের দাবি, ব্রেক্সিটের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়লেও ECHR-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে দেশটি এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। তিনি মনে করেন, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে হলে ECHR থেকে বেরিয়ে আসা অপরিহার্য।

রিফর্ম ইউকের দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক বার্তা হলো অভিবাসন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। সাম্প্রতিক সময়ে দলটি বারবার দাবি করেছে যে বর্তমান এবং পূর্ববর্তী সরকারগুলো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ফারাজের সর্বশেষ বক্তব্যকে আগামী নির্বাচনের জন্য শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

তবে মানবাধিকার সংগঠন এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, ECHR ত্যাগ করলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সুরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থী এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষাও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন লেবার সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ECHR ত্যাগ করবে না। সরকারের অবস্থান হলো, যুক্তরাজ্য মানবাধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।

বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যেও ECHR নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। দলটির কিছু নেতা সনদটি ত্যাগ করার পক্ষে মত দিলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত নীতি গ্রহণ করা হয়নি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি রিফর্ম ইউকে আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে এবং ফারাজ তার ঘোষিত নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন, তাহলে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থা, আশ্রয়নীতি এবং মানবাধিকার কাঠামোতে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। ফলে দেশটিতে বসবাসরত অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতোমধ্যেই ভবিষ্যৎ নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা ও উদ্বেগ বাড়ছে।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ফারাজের প্রস্তাবিত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য সংসদীয় সমর্থন, আইন সংশোধন এবং আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ফলে তার পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে স্টারমারের আইন ভেঙে টিকে আছে অবৈধ রাইডার চক্র, ধসে পড়ছে বৈধ আয়

ইউরোপে প্রথম থিম পার্কের জন্য বেডফোর্ডকে বেছে নিল ইউনিভার্সাল

আর জনসমক্ষে দেখা যাবে না ব্রিটিশ রাজবধূ কেট মিডলটনকে!