18.8 C
London
September 12, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনের গ্যাটউইক এয়ারপোর্টে ৭ দিনের ধর্মঘটঃ যাত্রীদের ভোগান্তির আশঙ্কা

যুক্তরাজ্যের গ্যাটউইক বিমানবন্দরে বেতন নিয়ে বিরোধের জেরে ২২০ কর্মী সাত দিনের ধর্মঘটে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক যাত্রীদের বিশেষ সহায়তা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা এসব কর্মী দুই দফায় কর্মবিরতি পালন করবেন। এর ফলে বিমানবন্দরে যাত্রীদের ওঠানামা ও বোর্ডিং প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে পারে বলে জানিয়েছে শ্রমিক ইউনিয়ন ইউনাইট।

ধর্মঘটের প্রথম দফা চলবে ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয় দফায় ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার পর্যন্ত কর্মীরা কর্মবিরতি পালন করবেন।

এই কর্মীরা উইলসন জেমসের অধীনে কাজ করেন। প্রতিষ্ঠানটি গ্যাটউইক বিমানবন্দরের হয়ে প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক যাত্রীদের বিশেষ সহায়তা প্রদান করে। ইউনাইটের দাবি, কর্মীদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি যে বেতন প্রস্তাব দিয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয়।

ইউনিয়ন জানিয়েছে, ধর্মঘটের কারণে বিশেষ সহায়তার ওপর নির্ভরশীল যাত্রীদের বিমানে ওঠা এবং বিমান থেকে নামার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। এর প্রভাব স্বল্পপাল্লা ও দীর্ঘপাল্লার উভয় ধরনের ফ্লাইটের ওপর পড়তে পারে এবং ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাটউইকসহ যুক্তরাজ্যের কয়েকটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে ব্যবস্থা সচল হলেও ওইদিন সন্ধ্যা এবং ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল পর্যন্ত অনেক যাত্রী বাতিল ও বিলম্বিত ফ্লাইটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন। পরে বিমান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।

বেতন চুক্তি নিয়ে ইউনাইট জানিয়েছে, উইলসন জেমস দুই বছরের জন্য ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, ০ দশমিক ৬ শতাংশ বোনাস এবং পেনশনে ০ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে ইউনিয়ন ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইউনাইটের দাবি, উইলসন জেমসের কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে কম বেতন পাওয়া কেউ কেউ ঘণ্টায় ১৪ দশমিক ৭১ পাউন্ড পান। ইউনিয়নের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে বহু বছর ধরে কম বেতনের সমস্যা রয়েছে এবং কর্মীদের কাজের দায়িত্ব ও পরিশ্রমের তুলনায় প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়।

ইউনাইটের সাধারণ সম্পাদক শ্যারন গ্রাহাম বলেন, উইলসন জেমস একটি অত্যন্ত লাভজনক প্রতিষ্ঠান এবং কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের যথাযথ প্রতিফলন ঘটায় এমন বেতন চুক্তি দেওয়ার সামর্থ্য প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে।

তিনি বলেন, গ্যাটউইক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এসব কর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা যাত্রীদের বিমানে ওঠা ও বিমান থেকে নামার ক্ষেত্রে সহায়তা করেন। বিমানবন্দরের ব্যস্ততা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইউনাইটের দাবি, উইলসন জেমসের কর দেওয়ার আগের মুনাফা ছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ ৩০ হাজার পাউন্ড। এই মুনাফার তথ্য উল্লেখ করে ইউনিয়ন বলেছে, কর্মীদের জন্য আরও ভালো বেতন চুক্তি দেওয়ার আর্থিক সক্ষমতা প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে।

ইউনাইটের আঞ্চলিক কর্মকর্তা বেন ডেভিস বলেন, কর্মীদের জন্য আরও ভালো বেতন চুক্তিতে পৌঁছাতে ইউনিয়ন কয়েক মাস ধরে আলোচনা চালিয়ে আসছে। তবে উইলসন জেমস এখন পর্যন্ত কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রস্তাব দেয়নি।

বেন ডেভিস আরও বলেন, ধর্মঘটের কারণে গ্যাটউইকের বিভিন্ন সেবায় অনিবার্যভাবে বিঘ্ন ঘটবে। তবে তার দাবি, এর জন্য উইলসন জেমসের পক্ষ থেকে কর্মীদের ন্যায্য বেতন প্রস্তাব দিতে ব্যর্থতাই দায়ী।

ইউনাইট জানিয়েছে, ধর্মঘট এড়ানোর সুযোগ এখনও রয়েছে। তবে এর জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে বর্তমান প্রস্তাবের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত একটি বেতন চুক্তি দিতে হবে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে মন্তব্যের জন্য উইলসন জেমসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মাই লন্ডন। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এম.কে

আরো পড়ুন

সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে ঋষি সুনাক ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপিত হবেন

ল’ সোসাইটির নতুন নির্দেশিকাঃ ‘Dear Sirs’ আর নয়, সময় এখন অন্তর্ভুক্তিমূলক ভাষার

হোম অফিস কর্তৃক আশ্রয়প্রার্থীদেরকে হয়রানি

অনলাইন ডেস্ক