9.9 C
London
October 14, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনের রাস্তায় যত্রতত্র ভাড়ার ই-বাইকঃ ভোগান্তিতে পূর্ব লন্ডনের বাসিন্দারা

লন্ডনের পূর্বাঞ্চলে যত্রতত্র ভাড়ার বৈদ্যুতিক সাইকেল বা ই-বাইক ফেলে রাখায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। টাওয়ার হ্যামলেটসের আইল্যান্ড গার্ডেনস এলাকায় গ্রিনিচ ফুট টানেলের আশপাশে প্রতিদিনই ফুটপাত ও রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ই-বাইক দেখতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এতে পথচারী, বিশেষ করে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মাই লন্ডনের ১৩ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিনিচ ফুট টানেলের এক পাশে অবস্থিত আইল্যান্ড গার্ডেনস এলাকায় লাইম, ফরেস্ট ও ভিওআই কোম্পানির ভাড়ার ই-বাইক নিয়মিতভাবে রাস্তায় ও ফুটপাতে ফেলে রাখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে টানেলের ভেতরেও বিপুলসংখ্যক সাইকেল পড়ে থাকায় জায়গাটিকে অনলাইনে ‘সাইকেলের কবরস্থান’ বলে অভিহিত করেছেন অনেকে।

টানেলের লিফট দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় সমস্যাটি আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিঁড়ি দিয়ে সাইকেল বহন করার ঝামেলা এড়াতে কিছু ব্যবহারকারী টানেলের ভেতরে কিংবা প্রবেশপথের আশপাশে সাইকেল ফেলে রেখে যাচ্ছেন। অথচ ২০২৪ সালের মে মাস থেকেই গ্রিনিচ ফুট টানেলের ভেতর দিয়ে সাইকেল চালানো এবং সেখানে সাইকেল পার্ক করা নিষিদ্ধ।

আইল অব ডগস এলাকার একটি ফেসবুক গ্রুপে স্থানীয় বাসিন্দারা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সুসান নামের এক বাসিন্দা ৫ অক্টোবর সোমবার সকাল ৭টায় ফুটপাতে জড়ো করে রাখা ভাড়ার সাইকেলের ছবি প্রকাশ করেন।

এক বাসিন্দা মন্তব্য করেন, ভাড়ায় সাইকেল ব্যবহারের সুবিধার তুলনায় অনেক সময় অসুবিধাই বেশি হচ্ছে। সাইকেলগুলো ফুটপাতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখায় পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে, সড়কে যানজটও বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী আরেক বাসিন্দা বলেন, এভাবে সাইকেল ফেলে রাখায় তাকে চলাচলের জন্য বিকল্প পথ খুঁজতে হয়। তার মতে, সাইকেলগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ অন্য পথচারীদের ভোগান্তি না হয়।

ভাড়ার সাইকেল ব্যবহারের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের নির্ধারিত পার্কিং এলাকায় সাইকেল রাখতে হয় এবং কোথায় সাইকেল রাখা হয়েছে, তার প্রমাণও দিতে হয়। গ্রিনিচ ফুট টানেলকে নিষিদ্ধ পার্কিং এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে সাইকেল ফেলে রাখলে জরিমানা করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ভাড়ার সাইকেল কোম্পানিগুলো।

ফরেস্ট কোম্পানি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের ‘ফরেস্ট গার্ডিয়ানস’ নামের একটি দল ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করে এবং পার্কিংসংক্রান্ত অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা।

লাইম কোম্পানির মতে, টানেলের দুই প্রান্তে আরও নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের জায়গা তৈরি করা হলে ফুটপাতজুড়ে সাইকেল ফেলে রাখার সমস্যা কমানো সম্ভব। ফরেস্টও বলেছে, ডকবিহীন ই-বাইক ব্যবস্থার অন্যতম বড় সমস্যা হলো নির্দিষ্ট পার্কিং অবকাঠামোর অভাব এবং লন্ডনের বিভিন্ন বরোতে পার্কিংয়ের নিয়মের ভিন্নতা।

এদিকে, লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ডকবিহীন ই-বাইক ব্যবস্থাপনায় নতুন নিয়ম চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। তার ভাষায়, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ই-বাইক পরিচালনার বর্তমান পরিস্থিতি চলতে পারে না। এসব সেবা হাজারো মানুষকে সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত করলেও দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে নিরাপত্তা, দায়িত্বজ্ঞানহীন পার্কিং এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতির মতো সমস্যা তৈরি হয়েছে।

সাদিক খান বলেন, ২০১৭ সালে লন্ডনে প্রথম ডকবিহীন সাইকেল সেবা চালুর পর থেকেই তিনি এ ধরনের ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে শহরগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতা চেয়ে আসছেন। নতুন নিয়ম কার্যকর করতে পরিবহন মন্ত্রণালয়কে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল জানিয়েছে, গত ছয় মাসে ডকবিহীন সাইকেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে মোট ৯৯৬টি নির্দিষ্ট অঙ্কের জরিমানার নোটিশ বা ফিক্সড পেনাল্টি নোটিস জারি করেছেন কাউন্সিলের প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা।

কাউন্সিল আরও জানিয়েছে, আইল্যান্ড গার্ডেনসসহ অনুপযুক্ত জায়গায় সাইকেল ফেলে রাখা ঠেকাতে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জিওফেন্সিং বা নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানাভিত্তিক বিধিনিষেধ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

কাউন্সিলের ভাষ্য অনুযায়ী, ইংলিশ ডিভল্যুশন বিলের আওতায় নতুন নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতার অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলো। এসব ক্ষমতা কার্যকর হলে ই-বাইক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হতে পারে। লাইসেন্স দেওয়ার দায়িত্ব পেতে পারে লন্ডন পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

লাইমের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের অ্যাপে গ্রিনিচ ফুট টানেলকে সাইকেল চালানো ও পার্কিংয়ের জন্য নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ব্যবহারকারীরা যাতে টানেলের ভেতর দিয়ে সাইকেল না চালান, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীদের টানেলের এক প্রান্তে যাত্রা শেষ করে হেঁটে অন্য প্রান্তে গিয়ে আবার সাইকেল নেওয়ার কথা।

লাইম আরও জানিয়েছে, টানেলের দুই প্রান্তের পার্কিং এলাকাগুলোতে তাদের কর্মীরা এখন আরও ঘন ঘন গিয়ে সাইকেল সরিয়ে গুছিয়ে রাখছেন। তবে উভয় প্রান্তে আরও নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের জায়গা তৈরি করা গেলে ব্যবহারকারীদের নিয়ম মেনে সাইকেল রাখার সুবিধা বাড়বে।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের দুই-তৃতীয়াংশ পরিবার জানুয়ারি নাগাদ জ্বালানি দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে

অবৈধভাবে ব্রিটেনে প্রবেশের দুই মাস পর ছিনতাই, আদালত বলল—‘বহিষ্কার অনিবার্য’

যুক্তরাজ্যে নির্বাচনঃ অবৈধ অভিবাসী প্রশ্নে বাংলাদেশি প্রসঙ্গ, ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হলো লেবার পার্টি