লন্ডনের জমকালো চলচ্চিত্র প্রিমিয়ারে ক্যামেরার ঝলকানি আর তারকাদের ভিড়ের মধ্যেও সবার দৃষ্টি আটকে গেল এক জায়গায়—মার্গারেট কোয়ালির পায়ে। দূর থেকে দেখলে মনে হচ্ছিল, অভিনেত্রী যেন জুতো ছাড়াই লাল গালিচায় হাঁটছেন। কিন্তু কাছে যেতেই দেখা গেল, এটি খালি পা নয়; বরং বিলাসবহুল ফরাসি ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান চ্যানেলের বহুল আলোচিত ‘বেয়ারফুট’ স্যান্ডেল।
২০ আগস্ট লন্ডনের লেস্টার স্কয়ারে ‘দ্য ডগ স্টার্স’ চলচ্চিত্রের বিশ্ব প্রিমিয়ারে ৩১ বছর বয়সী মার্গারেট কোয়ালি এই ব্যতিক্রমী সাজে হাজির হন। তিনি পরেছিলেন চ্যানেলের কালো রঙের ঝালরযুক্ত গভীর ভি-গলার পোশাক। তবে পোশাকের চেয়েও বেশি আলোচনার জন্ম দেয় তার পায়ের সেই অদ্ভুত জুতো—যার সামনের অংশে কার্যত কোনো তলা নেই।
চ্যানেলের এই নকশায় রয়েছে মূলত একটি ছোট চামড়ার গোড়ালির আবরণ এবং পাতলা ফিতা। ফিতাগুলো পায়ের সঙ্গে আটকে রাখে গোড়ালির অংশটিকে, কিন্তু পায়ের আঙুল, সামনের অংশ এবং তলার বড় অংশ থাকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। ফলে হাঁটার সময় এমন একটি বিভ্রম তৈরি হয়, যেন পরা জুতোর বদলে খালি পায়েই হাঁটছেন তিনি।
এই অভিনব নকশাটি তৈরি করেছেন চ্যানেলের সৃজনশীল পরিচালক মাতিয়ু ব্লাজি। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ফ্রান্সের বিয়ারিতজে চ্যানেলের ক্রুজ ২০২৭ সংগ্রহের প্রদর্শনীতে প্রথমবারের মতো এটি মঞ্চে আসে। তখন থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নকশাটি ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়।
ফ্যাশন দুনিয়ায় এই জুতোর ধারণাটিই মূলত প্রচলিত জুতোর ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে। সাধারণ জুতো যেখানে পায়ের সুরক্ষা ও আবরণকে গুরুত্ব দেয়, সেখানে চ্যানেলের এই নকশায় পা যতটা সম্ভব খোলা রাখাই যেন মূল বক্তব্য। নকশাটিকে সমুদ্রসৈকতে খালি পায়ে হাঁটার অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মঞ্চে প্রদর্শনের পর এবারই প্রথম কোনো বড় তারকাকে লাল গালিচায় এই জুতো পরতে দেখা গেল। সেই কারণে মার্গারেট কোয়ালির উপস্থিতি ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চ্যানেলের দূত হিসেবে পরিচিত কোয়ালি এই ঝুঁকিপূর্ণ নকশাটিকে বাস্তব জীবনের একটি বড় তারকা-আয়োজনে তুলে ধরার সাহস দেখিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবশ্য প্রতিক্রিয়া একেবারেই একমুখী নয়। কেউ এই নকশাকে সাহসী, সৃজনশীল ও প্রচলিত ফ্যাশন ধারণার বাইরে থাকা এক অভিনব পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—যে জুতোর প্রায় পুরো অংশই অনুপস্থিত, সেটিকে আদৌ কতটা কার্যকর জুতো বলা যায়? কেউ কেউ নকশাটিকে অস্বাভাবিক ও অবাস্তব বলেও ব্যঙ্গ করেছেন।
এমনকি নকশাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপও কম হয়নি। ফ্যাশনবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতাদের কেউ কেউ সাধারণ সামগ্রী ব্যবহার করে এর অনুকরণ করেছেন। অন্যদিকে কিছু ফ্যাশন বিশ্লেষক মনে করছেন, প্রচলিত সৌন্দর্যবোধকে প্রশ্ন করাই পরীক্ষামূলক উচ্চ ফ্যাশনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য—আর সেই জায়গা থেকেই চ্যানেলের এই ‘প্রায়-জুতোহীন’ নকশার মূল্যায়ন করা উচিত।
মার্গারেট কোয়ালির সাজে আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল তার কালো রঙের পোশাকের সঙ্গে পায়ের কালো রঙের সাজ। তার পায়ের আঙুল সম্পূর্ণ দৃশ্যমান থাকায় অদ্ভুত জুতোর নকশাটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পোশাকের ঝালর, গলার নকশা, গয়না ও চুলের স্বাভাবিক সাজের তুলনায় পায়ের এই অস্বাভাবিক উপস্থিতিই শেষ পর্যন্ত পুরো সাজের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে ওঠে।
চলচ্চিত্রটির ক্ষেত্রেও এবারের আয়োজন ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ‘দ্য ডগ স্টার্স’ নির্মাণ করেছেন রিডলি স্কট এবং এতে মার্গারেট কোয়ালির সঙ্গে অভিনয় করেছেন জ্যাকব এলর্ডি ও জশ ব্রোলিনসহ আরও অনেকে। পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপটিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত চলচ্চিত্রটি পিটার হেলারের ২০১২ সালের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি এবং ২৮ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে।
ফলে একটি চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারে এসে মার্গারেট কোয়ালির পোশাকের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে তার ‘জুতো’। কেউ দেখছেন সাহসী ফ্যাশন-পরীক্ষা, কেউ দেখছেন বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের অতিরিক্ত কল্পনাশক্তির উদাহরণ।
সূত্রঃ ব্রিটিশ ভোগ
এম.কে

