11.4 C
London
September 9, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগের একাংশের মন ভাঙলঃ কলকাতার বৈঠকে শেখ সেলিমকে নিয়ে ক্ষোভ

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে দলের জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত ঘিরে দলটির একটি অংশে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কলকাতায় আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার বৈঠকে শেখ সেলিমকে নেতৃত্বে আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নেতাদের কেউ কেউ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে কলকাতার নিউ টাউনে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিনের বাসায় ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের ৮ থেকে ১০ জন জ্যেষ্ঠ নেতা এতে অংশ নেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হাসান রিপনসহ কয়েকজন নেতা।

শেখ সেলিমকে দলের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গটি সামনে আসে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালের সঙ্গে শেখ হাসিনার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারের পর। সেখানে শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, তিনি অনুপস্থিত থাকলে সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্য শেখ সেলিম সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

এই বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় বলে বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের বরাতে জানিয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

বৈঠকে একজন কেন্দ্রীয় নেতা শেখ হেলালের সামনে শেখ সেলিমকে নিয়ে নিজের অস্বস্তির কথা তুলে ধরেন। পরে অন্য নেতারাও দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে শেখ সেলিমের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার আচরণ নিয়ে অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতা অভিযোগ করেন, সাংগঠনিকভাবে শেখ সেলিম আওয়ামী লীগকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন এবং তার কারণে দলের বিভিন্ন স্তরে বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রবেশ ঘটেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাকে সক্রিয়ভাবে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করা হয়।

ওই নেতা শেখ হেলালকে শেখ হাসিনার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার অনুরোধ করেন। তার বক্তব্য ছিল, শেখ সেলিম যদি দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয়ভাবে যুক্ত না থাকেন, তাহলে তাকে কেন সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হবে—এ প্রশ্ন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে।

বৈঠকে শেখ সেলিমের পরিবর্তে জাহাঙ্গীর কবির নানককে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে সামনে আনার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। একজন নেতা জানান, নানক ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখে আসছেন—এই বিষয়টি শেখ হেলালের কাছে তুলে ধরাই ছিল বৈঠকের অন্যতম উদ্দেশ্য।

শেখ হেলাল বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের বক্তব্য শেখ হাসিনার কাছে তুলে ধরবেন এবং বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য।

তবে আওয়ামী লীগের সব অংশ শেখ সেলিমের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তুষ্ট নয়। দলের একটি অংশ শেখ সেলিমের প্রতি আস্থাশীল এবং তার নেতৃত্বের ইঙ্গিতে তারা সন্তুষ্ট বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই অংশের নেতাদের মধ্যে শেখ সেলিমের দুই ভাতিজা শেখ ফজলে শামস পরশ ও শেখ ফজলে নূর তাপস, শেখ হাসিনার আরেক ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, শেখ সেলিমের ভগ্নিপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এবং শেখ হাসিনার ফুফাতো বোনের ছেলে নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন ও মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের নাম রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন অবশ্য শেখ সেলিমকে নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন বা শেখ হাসিনার উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তার বক্তব্য, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতির অনুপস্থিতিতে সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্যই সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

২০২২ সালের ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলনে শেখ হাসিনা টানা দশমবারের মতো দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। ওই কমিটিতে সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্য ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও মতিয়া চৌধুরী। তাদের মৃত্যুর পর শেখ ফজলুল করিম সেলিম বর্তমানে সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠতম সদস্য বলে দলীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। এই পরিস্থিতিতে তার অনুপস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক নেতৃত্ব কে দেবেন—তা নিয়ে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

শেখ হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী, গঠনতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় শেখ সেলিম সামনে আসতে পারেন। কিন্তু কলকাতার বৈঠকে আওয়ামী লীগের একটি অংশের প্রকাশ্য অসন্তোষ বলছে, সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে দলটির ভেতরে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

ফলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের প্রশ্নটি শুধু সাংগঠনিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং দলের বিভিন্ন বলয়ের মধ্যে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা, আস্থা ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়েও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্রঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম \ ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল

এম.কে

আরো পড়ুন

হাসিনা কতদিন ভারতে থাকবেন- সেটি পুরোপুরি তার নিজের সিদ্ধান্তঃ জয়শঙ্কর

সাকিবকে নিয়ে জনমনে ক্ষোভ: সংবাদমাধ্যমের দায় কতটুকু?

অনলাইন ডেস্ক

মৌলভীবাজারের ‘গলফ মাঠ’ এক টুকরা সবুজ ঘাসের দেশ