23.4 C
London
August 17, 2026
TV3 BANGLA
ফিচার

সিগারেট, ভেপ নাকি নিকোটিন পাউচ—শরীরের জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর কোনটি?

সিগারেট, ভেপ এবং তামাকমুক্ত নিকোটিন পাউচ—তিনটিই শরীরে নিকোটিন পৌঁছে দেয় এবং আসক্তি তৈরি করতে পারে। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকির দিক থেকে এগুলোকে এক কাতারে রাখা যায় না। বিশেষজ্ঞের মতে, তিনটির মধ্যে সিগারেট সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর এবং ব্যবধানটিও অনেক বড়।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম -এর প্রতিবেদনে ইম্পেরিয়াল কলেজের স্নায়ু-মনোফার্মাকোলজিবিদ ও ড্রাগ সায়েন্সের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. রায়ান জাফর বলেন, কোনো ধরনের নিকোটিন ব্যবহারই পুরোপুরি নিরাপদ নয়। যারা বর্তমানে নিকোটিন ব্যবহার করেন না, তাদের নতুন করে শুরু না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সিগারেট সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর হওয়ার মূল কারণ তামাক পোড়ানোর প্রক্রিয়া। সিগারেট জ্বালানোর সময় কার্বন মনোক্সাইড, সূক্ষ্ম কণা এবং হাজারো রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়। এর মধ্যে বহু রাসায়নিক ক্যানসার সৃষ্টিকারী। ধূমপানের সঙ্গে ফুসফুস, মুখ, গলা, স্বরযন্ত্র, খাদ্যনালি, অগ্ন্যাশয়, মূত্রথলি ও কিডনির ক্যানসারের সম্পর্ক রয়েছে।

ধূমপান হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং রক্তনালির রোগের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ, ব্রঙ্কাইটিস ও এমফিসেমার অন্যতম প্রধান কারণ ধূমপান। বিশেষজ্ঞের মতে, এসব ক্ষতির বড় অংশ নিকোটিনের কারণে নয়; তামাক পোড়ানোর সময় তৈরি বিষাক্ত রাসায়নিক শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করাই মূল সমস্যা। এমনকি অল্প পরিমাণ ধূমপানও হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

ভেপিংয়ে তামাক পোড়ানো হয় না। ফলে সিগারেটের ধোঁয়ার তুলনায় অনেক ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শ কম হতে পারে। এ কারণে ধূমপায়ীর জন্য সিগারেটের বদলে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত ভেপে চলে যাওয়া তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর হতে পারে। তবে ভেপকে নিরাপদ ভাবার সুযোগ নেই।

ভেপের বাষ্পে সূক্ষ্ম কণা, ধাতু, অ্যালডিহাইড ও বিভিন্ন রাসায়নিক থাকতে পারে, যা শ্বাসনালিতে জ্বালা বা প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। কাশি, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, গলা ব্যথা, মাথাব্যথা ও বমিভাবের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে। নিকোটিন হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ সাময়িকভাবে বাড়াতে পারে এবং উচ্চমাত্রার নিকোটিনযুক্ত ভেপ দ্রুত নির্ভরশীলতা তৈরি করতে পারে।

তামাকমুক্ত নিকোটিন পাউচে তামাক পোড়ানো হয় না এবং কার্বন মনোক্সাইডও তৈরি হয় না। এ কারণে বিশেষজ্ঞের হিসাবে এটি সিগারেটের তুলনায় কম ক্ষতিকর হতে পারে। তবে পণ্যগুলো তুলনামূলকভাবে নতুন হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি নিয়মিত ব্যবহারের ক্ষতি সম্পর্কে গবেষণা এখনও সীমিত।

নিকোটিন পাউচ ব্যবহারে মাড়িতে জ্বালা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মুখে ঘা ও পাউচ রাখার স্থানে সাদা ক্ষত হতে পারে। বমিভাব, হেঁচকি, হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। পাউচ গিলে ফেললে নিকোটিন বিষক্রিয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি উচ্চমাত্রার নিকোটিনের কারণে এতে আসক্তিও তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞের সামগ্রিক মূল্যায়নে সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ হলো নিকোটিনমুক্ত থাকা বা অনুমোদিত নিকোটিন প্রতিস্থাপন চিকিৎসা। এরপর রয়েছে তামাকমুক্ত নিকোটিন পাউচ ও নিয়ন্ত্রিত ভেপ। তামাকযুক্ত পাউচ বা স্নাসের পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর অবস্থানে রয়েছে সিগারেট।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কেউ যদি ধূমপায়ী হন, তাহলে শুধু ভেপ বা নিকোটিন পাউচ যোগ করার পাশাপাশি সিগারেট চালিয়ে গেলে প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যগত সুফল পাওয়া যাবে না। সিগারেট পুরোপুরি ছেড়ে অন্য কোনো অদাহ্য নিকোটিন পণ্যে চলে যাওয়াই তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতি কমাতে পারে।

অন্যদিকে, যারা কখনো নিকোটিন ব্যবহার করেননি, তাদের জন্য ভেপ বা নিকোটিন পাউচ শুরু করার কোনো স্বাস্থ্যগত সুবিধা নেই। বিশেষজ্ঞের মূল বার্তা তাই পরিষ্কার—সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থান হলো তামাক ও নিকোটিন থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা।

সূত্রঃ মেট্রো

এম.কে

আরো পড়ুন

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি: উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের দুর্ধর্ষ কাহিনী

অনলাইন ডেস্ক

৩৫ এর কম বয়সীরা অনলাইন স্ক্যামের শিকার বেশি হচ্ছেন

প্রথমবার রোগীর শরীরে ইতিবাচক ফল দেখালো রাশিয়ার ক্যান্সার টিকা