স্পেনে অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতার আওতায় আনার লক্ষ্যে পরিচালিত নিয়মিতকরণ কর্মসূচির আবেদন গ্রহণের শেষ দিন আজ। শুরুতে স্পেন সরকার ধারণা করেছিল, এই উদ্যোগে প্রায় পাঁচ লাখ অনিয়মিত অভিবাসী আবেদন করবেন। তবে সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই আবেদনকারীর সংখ্যা সেই প্রত্যাশা ছাড়িয়ে দশ লাখেরও বেশি হয়েছে বলে বিভিন্ন অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এই বিপুল সাড়া স্পেনে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধ মর্যাদা পাওয়ার আগ্রহেরই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আবেদনকারীদের মধ্যে লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও অভিবাসী অধিকার সংগঠন শেষ দিনেও অভিবাসীদের আবেদন জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনগুলোর মতে, অনেক আবেদনকারীর কাছে এখনও সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন দাখিল করা গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী প্রশাসনিক যাচাই ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছে।
অভিবাসী অধিকারকর্মীদের ভাষ্য, এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বহু অনিয়মিত অভিবাসী বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা এবং স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসতে পারবেন। একই সঙ্গে শ্রমবাজারে তাদের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ বাড়বে এবং রাষ্ট্রের কর আদায়ও বৃদ্ধি পেতে পারে।
তবে আবেদনের বিপুল চাপের কারণে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বিপুল সংখ্যক আবেদন যাচাই-বাছাই করা স্পেনের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
স্পেনে বর্তমানে কৃষি, নির্মাণ, পর্যটন, পরিচর্যা ও সেবাখাতসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমিকের চাহিদা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিয়মিতকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পেলে শ্রমবাজারের ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি অভিবাসীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিও আরও শক্তিশালী হবে।
সূত্রঃ ইনফো মাইগ্র্যান্টস
এম.কে

