দীর্ঘ ২২ বছরের প্রতীক্ষা ও আন্দোলনের পর অবশেষে গৃহকর্মীদের জন্য আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করলো ইন্দোনেশিয়া। দেশটির জাতীয় সংসদ সম্প্রতি গৃহকর্মীদের অধিকার সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করেছে, যা শ্রম অধিকার আন্দোলনের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারি তথ্যানুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ৪২ লাখ গৃহকর্মী কাজ করেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই নারী। এতদিন তারা আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃত না থাকায় শ্রম আইনের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ফলে অনেকেই অনিরাপদ পরিবেশে, চুক্তিহীনভাবে এবং কম মজুরিতে দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য হতেন।
নতুন আইনের আওতায় গৃহকর্মীরা এখন স্বাস্থ্য বীমা, নির্ধারিত ছুটি এবং পেনশনের মতো মৌলিক অধিকার ভোগ করবেন। একইসঙ্গে নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর বেতন থেকে কাটছাঁট করার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। ১৮ বছরের নিচে কাউকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়াও এখন থেকে সম্পূর্ণ অবৈধ।
আইনটি পাস হওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর অনেক গৃহকর্মী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাদের একজন বলেন, “এটি আমাদের ২২ বছরের সংগ্রামের ফসল।” আরেক গৃহকর্মী জানান, বহুদিনের অপেক্ষার পর এই আইন বাস্তবে রূপ নেওয়ায় তারা স্বস্তি অনুভব করছেন।
উল্লেখ্য, গৃহকর্মী সুরক্ষা আইনটি প্রথম ২০০৪ সালে উত্থাপন করা হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতায় বারবার আটকে যায়। ২০২০ সালে বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় এলেও দীর্ঘ সময় কোনো অগ্রগতি হয়নি। অবশেষে সম্প্রতি আইনটি পাস হয়।
তবে আইন পাসের পরও বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে আগামী এক বছরের মধ্যে বিস্তারিত নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, নিয়োগকর্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো জরুরি।
অধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গৃহকর্মীদের ওপর ৩,৩০০টিরও বেশি নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নতুন আইনটি গৃহকর্মীদের জন্য একটি বড় অর্জন হলেও সংশ্লিষ্টদের মতে, তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে এখনো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

