17.8 C
London
September 15, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

হিজাব নিষিদ্ধ করতে চায় ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থী দলঃ প্রতিবাদে অমুসলিম নারীদের মাথায়ও হিজাব

ফ্রান্সে মুসলিম নারীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ ও সংহতি প্রকাশের ঘটনা সামনে এসেছে। দেশটির বিভিন্ন নারী নিজেদের মাথায় স্কার্ফ বা হেডস্কার্ফ পরা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে মুসলিম নারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল র‍্যালি (আরএন) ক্ষমতায় এলে জনপরিসরে হিজাব নিষিদ্ধ করার যে পরিকল্পনা সামনে এনেছে, তার প্রতিবাদেই এই অনলাইন প্রচারণা শুরু হয়েছে।

প্রস্তাবটি সামনে আসে ন্যাশনাল র‍্যালির এমপি জ্যঁ-ফিলিপ তঁগির বক্তব্যের মাধ্যমে। তিনি ৩০ আগস্ট বলেন, দলটি ক্ষমতায় এলে জনপরিসরে ইসলামি হিজাব পরার বিষয়টি নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা এবং তা লঙ্ঘন করলে জরিমানা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তঁগি ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভিকে জানান, দলটির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘ভেইল’ বা হিজাব পরাকে শাস্তিযোগ্য করার বিষয়টি নির্ধারিত হয়েছে।

ন্যাশনাল র‍্যালির নেতা মেরিন ল্য পেনও বিষয়টি নিয়ে জাতীয় গণভোটের কথা বলেছেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে জনপরিসরে ইসলামি হেডস্কার্ফ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ফরাসি জনগণের মত নেওয়া হতে পারে। ল্য পেনের এই অবস্থান নতুন নয়; ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাতেও তিনি জনপরিসরে ইসলামি হেডস্কার্ফ নিষিদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে ন্যাশনাল র‍্যালির ভেতরেও মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। দলটির অন্যতম শীর্ষ নেতা জর্ডান বারদেলা হিজাব নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মেরিন ল্য পেনের অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন বলে জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন এবং নীতিটির বিভিন্ন দিক নিয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

এদিকে ফরাসি নারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণায় অনেকেই নিজেদের হেডস্কার্ফ পরা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করছেন। আয়োজকদের বক্তব্য ও প্রকাশিত পোস্টগুলোতে বলা হচ্ছে, মুসলিম নারীদের পোশাকের স্বাধীনতার প্রতি সংহতি জানানো এবং প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করাই এই প্রচারণার উদ্দেশ্য।

ন্যাশনাল র‍্যালির প্রস্তাব নিয়ে ফ্রান্সে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। লে মোঁদ জানিয়েছে, জনপরিসরে হেডস্কার্ফ নিষিদ্ধের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সাংবিধানিক ভিত্তি এবং এর প্রয়োগ পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ফরাসি সংবিধানের সঙ্গে প্রস্তাবটির সামঞ্জস্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ফ্রান্সে বর্তমানে জনপরিসরে মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে রাখার ওপর আলাদা আইন রয়েছে। ২০১০ সালে পাস হওয়া ওই আইন ২০১১ সালের ১১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয় এবং জনপরিসরে মুখ ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ করে। আইনটি মূলত নিকাব ও বোরকার মতো পুরো মুখ ঢেকে রাখা পোশাকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নতুন প্রস্তাবটি তার চেয়ে বিস্তৃত হতে পারে, কারণ এতে মুখ খোলা থাকা অবস্থায় পরা হিজাব বা হেডস্কার্ফকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কথা বলা হচ্ছে।

লে মোঁদ-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল র‍্যালি এখনো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে পারেনি ঠিক কোন ধরনের পোশাক নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। দলটির বক্তব্যে ‘ইসলামিস্ট ভেইল’ শব্দটি ব্যবহার করা হলেও এর সুনির্দিষ্ট আইনি সংজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে কখন এবং কীভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে, সেটিও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

এর মধ্যেই ২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে হিজাব ইস্যুটি ন্যাশনাল র‍্যালির রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। মেরিন ল্য পেন ১৪ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে ন্যাশনাল র‍্যালির অবস্থান শক্তিশালী বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হিজাব নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবের সমর্থকেরা এটিকে ফ্রান্সের ধর্মনিরপেক্ষতা ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধ রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে এর বিরোধীরা বলছেন, প্রস্তাবটি বিশেষভাবে মুসলিম নারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ নিয়ে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রঃ আনাদোলু এজেন্সি, মরক্কো ওয়ার্ল্ড নিউজ, লে মোঁদ, দ্য টাইমস

এম.কে

আরো পড়ুন

আসছে আইফোনের নতুন ফ্লিপ ডিভাইসের ভাঁজযোগ্য ফোন

আইন ভঙ্গের দায়ে যুক্তরাজ্যে জরিমানার মুখোমুখি টিউলিপ সিদ্দিকি

ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিল পর্তুগালও