TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

হোম অফিসের ভুলে জার্মান মা সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন, ডিজিটাল স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন

যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের একটি প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে জার্মানির নাগরিক লিজা তোবায় তার দুই বছরের কন্যার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ঘটনাটি ডিজিটাল অভিবাসন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

১৫ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী লিজা তোবায় ইস্টার ছুটিতে তার ছয় বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে জার্মানিতে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে যান। কিন্তু ফেরার পথে ডুসেলডর্ফ বিমানবন্দরে তিনি জানতে পারেন, তার “সেটেলড স্ট্যাটাস” সিস্টেমে “রেড ফ্ল্যাগ” হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, ফলে তাকে যুক্তরাজ্যে ফেরার ফ্লাইটে উঠতে দেওয়া হয়নি।

ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের জন্য বৈধ বাসিন্দা হিসেবে “সেটেলড স্ট্যাটাস” প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক। আগে যেখানে কেবল পাসপোর্ট দিয়েই প্রবেশ সম্ভব ছিল, এখন সেখানে ডিজিটাল যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

 

লিজা তোবায় জানান, তিনি ইমেইলের মাধ্যমে তার স্ট্যাটাস দেখাতে চাইলেও তাকে জানানো হয়, এটি শুধুমাত্র মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে যাচাইযোগ্য—যা তার কাছে তখন ছিল না। এতে তিনি ও তার সন্তান মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

পরবর্তীতে হোম অফিসের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান, তার পাসপোর্ট নম্বর ভুলভাবে নথিভুক্ত হয়েছে। বিষয়টি জানাতে তিনি হোম অফিসের সংশ্লিষ্ট সেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, তার অ্যাকাউন্টে একটি “এরর” তৈরি হয়েছে—যা সিস্টেমের ত্রুটির ফল।

তার অভিযোগ অনুযায়ী, সিস্টেমে তার পাসপোর্টের ছবি সঠিক থাকলেও নম্বরটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধানের আশ্বাস দিলেও জানায়, এতে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে তিনি তার দুই বছরের কন্যার কাছ থেকে দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি তার পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক এবং অমানবিক।

এদিকে, অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন দ্য থ্রি মিলিয়ন জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল-নির্ভর অভিবাসন ব্যবস্থার বিরোধিতা করে আসছে।

সংগঠনটির মতে, ইইউ নাগরিকদের জন্য একটি ফিজিক্যাল কার্ড বা কিউআর কোডভিত্তিক সহজ যাচাই ব্যবস্থা থাকা উচিত, যাতে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে কেউ ভোগান্তিতে না পড়ে।

সংগঠনের নীতিনির্ধারণ ও অ্যাডভোকেসি প্রধান মনিক হকিন্স বলেন, ডিজিটাল স্ট্যাটাস “হারবে না” — এমন দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, কারণ প্রতিনিয়ত অনেকেই ই-ভিসা সংক্রান্ত সমস্যায় পড়ছেন।

তবে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস জানিয়েছে, তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। একইসঙ্গে তারা দাবি করেছে, পুরো সিস্টেমে কোনো বড় ধরনের ত্রুটি নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ডিজিটাল অভিবাসন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও মানবিক ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

লটারি জিততে দুই বোনকে হত্যা: ৩৫ বছর কারাদণ্ড কিশোরের

যুক্তরাজ্যে টিউলিপ সিদ্দিককে জিজ্ঞাসাবাদ

যুক্তরাজ্যে পরপর দ্বিতীয় বছর নবজাতক ছেলেদের মধ্যে শীর্ষ পছন্দের নাম ‘মুহাম্মদ’