21 C
London
September 7, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

আকুর বিল পরিশোধের পরও বাংলাদেশের রিজার্ভ ৩১.৪৭ বিলিয়ন ডলার

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জুলাই-অগাস্ট মেয়াদের ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের পরও বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের ঘরে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতির হিসাবে রোববার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে। আর মোট বা গ্রস হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিন শেষে বিপিএম-৬ হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার এবং গ্রস হিসাবে ছিল ৩৭ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। আকুর বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ কমলেও তা এখনও ৩১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, জুলাই-অগাস্ট মেয়াদের আকুর ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের পর সমন্বয় শেষে যে রিজার্ভ রয়েছে, তা দিয়ে প্রায় সাড়ে চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

এর আগে গত ৭ জুলাই মে-জুন মেয়াদের আকুর ১ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারের আমদানি বিল পরিশোধ করা হয়েছিল। ওই সময় বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ কমে ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলারে এবং গ্রস হিসাবে ৩৬ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল।

তবে গত কয়েক মাসে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক প্রবাহ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর বাজেট সহায়তার ঋণের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরেছে।

গত ১৪ জুন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ১০০ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা ঋণ যুক্ত হওয়ার পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ৩১ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। গ্রস হিসাবে তা দাঁড়ায় ৩৫ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার।

এরপর ২৯ জুন বিশ্বব্যাংকের ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ডলারের বাজেট সহায়তা ঋণ যোগ হলে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ বেড়ে ৩২ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। সেদিন গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার।

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ার প্রভাবে ২ জুলাই বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ আরও বেড়ে ৩৩ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। গ্রস হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।

আকু হচ্ছে এশিয়ার কয়েকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে আন্তঃআঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তির একটি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আমদানি-রপ্তানি লেনদেনের মূল্য সাধারণত প্রতি দুই মাস পরপর নিষ্পত্তি করা হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ এ ব্যবস্থার সদস্য।

বাংলাদেশ ব্যাংক বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভকে তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসেবে বিবেচনা করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যয় হয়েছে ৭ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে বর্তমান ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারের তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে প্রায় সাড়ে চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

আন্তর্জাতিকভাবে একটি দেশের অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার মজুত থাকা প্রয়োজন বলে বিবেচনা করা হয়। সেই বিচারে বাংলাদেশের বর্তমান রিজার্ভ পরিস্থিতি আপাতত ওই ন্যূনতম সীমার ওপরে রয়েছে।

একসময় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত বাড়ছিল। ২০২১ সালের অগাস্টে দেশের রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। তখন বিপুল রিজার্ভ কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটিও নীতিনির্ধারকদের জন্য আলোচনার বিষয় ছিল।

কিন্তু ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এতে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে থাকে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ তৈরি হয়। ধারাবাহিক পতনের একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে রিজার্ভ ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল।

রিজার্ভের পতন ঠেকাতে তৎকালীন সরকার আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নেয়। আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রস রিজার্ভের পাশাপাশি আইএমএফ অনুসৃত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতেও রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ শুরু করে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের হিসাবও করে, যদিও সেটি নিয়মিত প্রকাশ করা হয় না।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রধান দুই উৎস হলো রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় দশমিক ২৫ শতাংশ কমলেও রেমিট্যান্স বেড়েছিল ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও অগাস্টেও রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এ সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ। একই সময়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

ফলে আকুর বড় অঙ্কের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ কিছুটা কমলেও রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক প্রবাহ এবং বৈদেশিক সহায়তার কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বর্তমানে ৩১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে রয়েছে। অর্থনীতির বিভিন্ন চাপের মধ্যেও রিজার্ভের এই অবস্থানকে আপাতত স্বস্তিদায়ক সূচক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সূত্রঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

এম.কে

আরো পড়ুন

আনসারের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

সিলেটের হাইটেক পার্ক বাতিল, বিবর্ণ কর্মসংস্থানের স্বপ্ন

কোথায় গেলেন পিটার হাস, তা নিয়ে রহস্য