পার্কিংয়ের টাকা কীভাবে পরিশোধ করতে হবে, সেই নির্দেশনা পড়তে গাড়ি থেকে মাত্র এক মিনিটের জন্য নামা—আর তাতেই ১১০ পাউন্ড জরিমানা! এমনই এক অদ্ভুত ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন যুক্তরাজ্যের লন্ডনের এনফিল্ডের ৫৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী ঝাংইউ উ।
মেট্রোর প্রতিবেদনে জানা যায়, গত ৯ জুন সকালে এনফিল্ডের গ্রিন লেনস এলাকায় কাউন্সিলের একটি পার্কিং এলাকায় গাড়ি রাখেন ঝাংইউ। গাড়ি পার্ক করার পর তিনি কাছের একটি সাইনবোর্ডের কাছে যান। উদ্দেশ্য ছিল পার্কিংয়ের টাকা কীভাবে পরিশোধ করতে হবে, তা বোঝা।
কিন্তু তিনি নির্দেশনা পড়ার আগেই পার্কিং এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তা তার গাড়ির বিরুদ্ধে জরিমানার নোটিশ জারি করেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গাড়িটি পার্কিং ফি পরিশোধ না করে রাখা হয়েছিল মাত্র এক মিনিট—সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট থেকে ৮টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত।
ঝাংইউর দাবি, তিনি টাকা না দেওয়ার কোনো চেষ্টা করেননি। বরং নিয়ম মেনেই কীভাবে পার্কিং ফি দিতে হবে, সেটি বোঝার চেষ্টা করছিলেন। তার ভাষায়, পার্কিংয়ের সাইনবোর্ডে অনেক ছোট অক্ষরে বিভিন্ন নির্দেশনা লেখা ছিল। তাই সেটি পড়ে নেওয়ার জন্য গাড়ি থেকে নামতে হয়েছিল।
ঘটনার পর তিনি দ্রুত পার্কিং কর্মকর্তার কাছে গিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। কিন্তু কর্মকর্তার পক্ষ থেকে জানানো হয়, জরিমানার নোটিশ ইতোমধ্যে দেওয়া হয়ে গেছে। এখন তাকে কাউন্সিলের কাছে আপিল করতে হবে।
ঝাংইউ বলেন, ‘আমি পার্কিংয়ের টাকা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম না। আমি কীভাবে টাকা দিতে হবে, সেটাই বোঝার চেষ্টা করছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা খুবই অন্যায্য। চালকদের পার্কিংয়ের নির্দেশনা পড়ার জন্য যুক্তিসংগত সময় দেওয়া উচিত।’
প্রাথমিকভাবে ১১০ পাউন্ডের এই জরিমানা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করলে ৫৫ পাউন্ডে নিষ্পত্তির সুযোগ ছিল। কিন্তু ঝাংইউ জরিমানা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে গাড়িটির মালিক তার শ্যালিকার কাছে পুরো ১১০ পাউন্ড পরিশোধের জন্য আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠানো হয়।
ঝাংইউ এরপর কাউন্সিলের কাছে জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করেন। সেখানে তিনি একই ঘটনা তুলে ধরে জানান, তিনি মাত্র গাড়ি থেকে নেমে পার্কিংয়ের নিয়ম বোঝার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কাউন্সিল তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে এবং জানায়, জরিমানা বাতিল করার মতো কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ পাওয়া যায়নি।
এতে ক্ষুব্ধ ঝাংইউ এখন আনুষ্ঠানিকভাবে জরিমানাটির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তার প্রশ্ন, কেউ যদি পার্কিংয়ের নিয়ম ভাঙার বদলে নিয়ম মেনে চলার জন্য নির্দেশনা পড়তে যায়, তাহলে তাকেই যদি এক মিনিটের মধ্যে জরিমানা করা হয়, সেটি কতটা ন্যায্য?
তবে এনফিল্ড কাউন্সিল কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কাউন্সিলের এক মুখপাত্রের দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুরো সময় গাড়িটির কাছে ছিলেন। ওই কর্মকর্তা গাড়ির আশপাশে কিংবা পার্কিং-সংক্রান্ত সাইনবোর্ডের কাছে কাউকে দেখতে পাননি। তাই নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী জরিমানার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের পার্কিং ব্যবস্থায় নিয়ম প্রয়োগের কঠোরতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে পার্কিং ফি দেওয়ার পদ্ধতি বুঝতে একজন চালককে কতটা সময় দেওয়া উচিত—এ নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনমনে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সূত্রঃ মেট্রো
এম.কে

