15.1 C
London
June 9, 2026
TV3 BANGLA
স্পোর্টস

জয়ের উৎসব থেকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ইংল্যান্ড অধিনায়কের বিরুদ্ধে

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে প্রথম টেস্টে ১১৫ রানের দুর্দান্ত জয়ের উচ্ছ্বাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না ইংল্যান্ড শিবিরে। ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দলের টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকস ও ফাস্ট বোলার গাস অ্যাটকিনসন জড়িয়ে পড়েছেন নতুন এক বিতর্কে। লন্ডনের চেলসি এলাকার একটি নাইটক্লাবে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে এখন তদন্তের মুখে রয়েছেন এই দুই ক্রিকেটার।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম টেস্টে জয় উদযাপনের জন্য সতীর্থদের সঙ্গে বাইরে গিয়েছিলেন স্টোকস ও অ্যাটকিনসন। কিন্তু দলের নতুন শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী নির্ধারিত মধ্যরাতের কারফিউ অমান্য করে তারা রাত গভীর পর্যন্ত বাইরে অবস্থান করেন। এরপর চেলসির ‘রেক্স রুমস’ নাইটক্লাবে সারাসেন্স রাগবি ক্লাবের এক একাডেমি খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

ঘটনার সময় ওই রাগবি খেলোয়াড়ের ছোড়া একটি ঘুষি সরাসরি গিয়ে লাগে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) এক নিরাপত্তারক্ষীর মুখে। এতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন এবং তার মুখে সেলাই দিতে হয়। তবে ইসিবি সূত্রের দাবি, স্টোকস ও অ্যাটকিনসন ওই সংঘর্ষের সূচনাকারী ছিলেন না এবং তারা আগে থেকে কোনো ধরনের আগ্রাসী আচরণও করেননি।

ইসিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রথম টেস্টের পর দলের প্রটোকল ভঙ্গের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। বিষয়টি স্বাধীন ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছেও পাঠানো হয়েছে, যারা প্রয়োজন মনে করলে জরিমানা, নিষেধাজ্ঞা কিংবা অন্য কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।

বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে ‘মিডনাইট কারফিউ’ বা মধ্যরাতের বিধিনিষেধের বিষয়টি। চলতি বছর ইংল্যান্ড দলের একাধিক শৃঙ্খলাজনিত ঘটনার পর খেলোয়াড়দের জন্য এই নতুন নিয়ম চালু করা হয়। নিউজিল্যান্ড সফরে হ্যারি ব্রুককে ঘিরে বিতর্ক এবং সাম্প্রতিক অ্যাশেজ সফরে খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে সমালোচনার পর ইসিবি দলীয় শৃঙ্খলা জোরদার করতে এই সিদ্ধান্ত নেয়।

এই ঘটনার ফলে আগামী ১৭ জুন ওভালে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসনের খেলা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তদন্ত চলাকালে তাদের দল থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এমনকি অধিনায়ক হিসেবে স্টোকসের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

স্টোকসের জন্য বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর, কারণ এর আগেও মাঠের বাইরের নানা বিতর্কে তার নাম জড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। দলকে ইতিবাচক সংস্কৃতির দিকে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বও ছিল তার কাঁধে। কিন্তু এবার অধিনায়ক হিসেবেই দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা সারাসেন্স রাগবি ক্লাবও পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের একাডেমির একজন খেলোয়াড়ের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তারা অবগত রয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, স্টোকস ও অ্যাটকিনসন যদি সত্যিই কোনো উসকানি না দিয়ে থাকেন, তাহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে—কেন তারা দলের নির্ধারিত কারফিউ ভেঙে গভীর রাত পর্যন্ত বাইরে ছিলেন। কারণ, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য শৃঙ্খলাবিধি মেনে চলা শুধু ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়, বরং দলের ভাবমূর্তি রক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে স্মরণীয় জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু মাঠের সেই সাফল্য এখন চাপা পড়ে যাচ্ছে মাঠের বাইরের বিতর্কে। তদন্তের ফলাফল কী দাঁড়ায় এবং দ্বিতীয় টেস্টে স্টোকস নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারেন কি না, সেটিই এখন ইংল্যান্ড ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সূত্রঃ স্কাই স্পোর্টস

এম.কে

আরো পড়ুন

মোস্তাফিজকে দলে রাখলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে—বিসিবিকে আইসিসির চিঠি ঘিরে তীব্র প্রতিবাদ

আফগানদের হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু সাকিব বাহিনীর

বাংলাদেশের দাবি না মানলে বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে পাকিস্তান!