জার্মানির সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান অগাস্ট হ্যানিংয়ের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রদ্রোহের সন্দেহে গ্রেপ্তারের পর ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিজেদের গোপন তথ্য ও এজেন্টদের নিরাপত্তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার আশঙ্কা, জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থায় ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে যুক্তরাজ্যের সংবেদনশীল তথ্যও থাকতে পারে।
অগাস্ট হ্যানিং জার্মানির বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের (বিএনডি) সাবেক প্রধান। তার সঙ্গে বিএনডির বর্তমান এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, যাকে শুধু ম্যানফ্রেড ডি নামে শনাক্ত করা হয়েছে, তাকেও মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়।
জার্মান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ম্যানফ্রেড ডি প্রায় ১৬ বছর ধরে বিএনডির গোপন নথি হ্যানিংয়ের কাছে সরবরাহ করেছেন। জার্মান ফেডারেল প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, ম্যানফ্রেড ডি মোট প্রায় ২ হাজার নথি হ্যানিংকে দিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, ২০১০ সালে দুজনের মধ্যে আর্থিক চুক্তি হয়। এরপর অর্থের বিনিময়ে ম্যানফ্রেড ডি নিয়মিত বিএনডির মূল্যবান গোয়েন্দা তথ্য হ্যানিংকে সরবরাহ করতেন। এসব নথির অনেকগুলোতে বিএনডির অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত গোপন তথ্য ছিল বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন।
জার্মান নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যানিং ও ম্যানফ্রেড ডির হাতে থাকা কিছু উচ্চপর্যায়ের তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া। ফলে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যও ফাঁস হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ কারণে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-সিক্স ও জিসিএইচকিউ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ভাগ করা সংবেদনশীল তথ্য পর্যালোচনা করছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে যেসব মানব গোয়েন্দা উৎস বা এজেন্ট তথ্য ফাঁসের কারণে ঝুঁকিতে পড়তে পারেন, তাদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী এবং বিদেশি অংশীদার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে পাওয়া গোপন তথ্যও থাকতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, হ্যানিং তার ব্যক্তিগত পরামর্শকাজে এসব তথ্য ব্যবহার করেছেন। এক ঘটনায় ম্যানফ্রেড ডির কাছ থেকে পাওয়া গোপন তথ্য ব্যবহার করে তিনি একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তার জন্য বিশ্লেষণ তৈরি করেছিলেন বলে জার্মান প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। তবে ওই বিশ্লেষণ শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থা বিএনডির বর্তমান প্রধান মার্টিন ইয়াগার জানিয়েছেন, সংস্থাটি শুরু থেকেই ব্যাপক অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে এবং তদন্তে সন্দেহের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
সাবেক এমআই-সিক্স কর্মকর্তা ম্যাথিউ ডান বলেছেন, ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিএনডির সঙ্গে ভাগ করা সব তথ্য পর্যালোচনা করে দেখবে এবং কোনো তথ্যের কারণে এমআই-সিক্সের এজেন্ট বা কার্যক্রম ঝুঁকিতে পড়েছে কি না তা যাচাই করবে।
তবে তিনি মনে করেন, এ ঘটনায় এমআই-সিক্স ও বিএনডির দীর্ঘদিনের সহযোগিতা সম্পর্ক পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে উৎসের পরিচয় সুরক্ষিত রাখতে আগে থেকেই বিভিন্ন যাচাই ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এমকে

