TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের চাপে ব্রিটেনে হাই স্ট্রিট থেকে বিদায় ব্যাংকঃ লন্ডনে বন্ধ হচ্ছে আরও শাখা

লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাংক শাখা বন্ধের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই হ্যালিফ্যাক্স ও লয়েডসের একাধিক শাখা বন্ধ হচ্ছে। এর মধ্যে লন্ডনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার শাখাও রয়েছে। ব্যাংক শাখা বন্ধের এই প্রবণতা চলতি বছর ছাড়িয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাই লন্ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রাহকদের অনলাইন ও ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ায় প্রচলিত ব্যাংক শাখায় সরাসরি সেবা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমছে। এর ফলে যুক্তরাজ্যের বড় ব্যাংকগুলো শহর ও টাউন সেন্টারের বিভিন্ন শাখা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিচ্ছে।

হ্যালিফ্যাক্স ও লয়েডসের শাখা বন্ধের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের পুনর্গঠনও চলছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রায় ২০০টি হ্যালিফ্যাক্স শাখাকে ২০২৭ সালের মধ্যে লয়েডসের শাখায় রূপান্তর করার কথা রয়েছে।

লয়েডস ব্যাংকিং গ্রুপের কনজিউমার রিলেশনশিপস বিভাগের প্রধান নির্বাহী জাস সিং জানিয়েছেন, হ্যালিফ্যাক্সের শাখা লয়েডসে রূপান্তরিত হলেও গ্রাহকদের জন্য বিদ্যমান অনেক সুবিধা বজায় থাকবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রাহকরা একই ধরনের অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা, শাখায় পরিচিত কর্মীদের সেবা এবং একই সর্ট কোড ও অ্যাকাউন্ট নম্বর ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

সেপ্টেম্বর মাসে হ্যালিফ্যাক্সের যেসব শাখা বন্ধ হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে বেসিংস্টোক, বেরি সেন্ট এডমন্ডস, ক্যান্টারবেরি, ডারহাম, ইলিং ব্রডওয়ে, গিল্ডফোর্ড, হাই উইকম্ব, লন্ডনের ক্যামডেন টাউন, মিল্টন কেইনস, নর্থ ফিঞ্চলি, উইম্বলডন ও ওকিং। এসব শাখা ২৩ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিভিন্ন তারিখে বন্ধ হওয়ার কথা রয়েছে।

লন্ডনে হ্যালিফ্যাক্সের যেসব শাখা বন্ধ হচ্ছে, তার মধ্যে ক্যামডেন টাউন, ইলিং ব্রডওয়ে, নর্থ ফিঞ্চলি ও উইম্বলডনের শাখা রয়েছে। ফলে এসব এলাকার গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবার জন্য বিকল্প শাখা, ডিজিটাল ব্যাংকিং অথবা অন্যান্য সেবা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।

একই সময়ে লয়েডসেরও কয়েকটি শাখা বন্ধ হচ্ছে। এর মধ্যে বার্মিংহামের হ্যান্ডসওয়ার্থ, কার্লাইল, চেমসফোর্ড, সিটি অব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল হাই স্ট্রিট এবং হ্যারোর শাখা রয়েছে। এসব শাখা ২৩ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বন্ধ হওয়ার নির্ধারিত সময় রয়েছে।

শাখা বন্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে গ্রাহকদের কমিউনিটি ব্যাংকারদের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সুযোগও দেওয়া হবে।

তবে ব্যাংক শাখা বন্ধের এই প্রক্রিয়া সেপ্টেম্বরেই শেষ হচ্ছে না। মাই লন্ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরজুড়ে এবং ২০২৭ সাল পর্যন্ত আরও শাখা বন্ধ হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ব্যাংকগুলোর এই পরিবর্তনের পেছনে গ্রাহকদের ব্যাংকিং ব্যবহারের ধরনে পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার বাড়ায় হাই স্ট্রিটে প্রচলিত ব্যাংক শাখার ওপর নির্ভরতা কমছে। এর ফলে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর ও এলাকার ঐতিহ্যবাহী ব্যাংক শাখাগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ঘোড়দৌড় বন্ধ করতে গিয়ে আটক শতাধিক প্রাণী অধিকারকর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কোচিং ফার্ম বেটারআপে চাকরি নিচ্ছেন প্রিন্স হ্যারি

নিউজ ডেস্ক

আমার মেয়েই তাকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেঃ ঋষি সুনাকের শাশুড়ি