TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

নতুন ইইউ সীমান্ত তল্লাশিতে ডোভারে তীব্র যানজটঃ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় যাত্রীরা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর পর প্রথম ব্যাংক হলিডে সপ্তাহেই চরম চাপের মুখে পড়েছে ইংল্যান্ডের ডোভার বন্দর। দীর্ঘ যানজট, কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা এবং সীমান্ত তল্লাশির ধীরগতির কারণে ইউরোপগামী হাজারো যাত্রীকে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর থেকেই ডোভার বন্দরের প্রবেশপথ ও আশপাশের সড়কগুলোতে দীর্ঘ গাড়ির সারি দেখা যায়। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ফরাসি সীমান্ত ও নিরাপত্তা তল্লাশি পার হতে যাত্রীদের প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে বন্দরের দিকে যাওয়ার সড়কে যানজট থাকায় যাত্রা সময় আরও বেড়ে যায়।

ডোভার বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত প্রায় ১৮ হাজার যাত্রী ইউরোপগামী ফেরি ব্যবহার করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি চাপ থাকবে। শনিবারকে চলতি বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেদিন আট হাজারেরও বেশি যাত্রী পারাপার করবেন।

এই পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন ‘এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম’ বা ইইএস চালুকে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকদের শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশের সময় আঙুলের ছাপ ও ছবি নিবন্ধন করতে হচ্ছে।

শেনজেন অঞ্চলে ইউরোপের ২৯টি দেশ অন্তর্ভুক্ত। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হচ্ছে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও প্রবেশ-প্রস্থান তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা।

তবে ডোভার বন্দর জানিয়েছে, গাড়িচালকদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। প্রয়োজনীয় ফরাসি প্রযুক্তি এখনো স্থাপন না হওয়ায় সীমান্ত পুলিশকে আপাতত হাতে-কলমে যাত্রীদের তথ্য নিবন্ধন করতে হচ্ছে। ফলে তল্লাশি প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টার বেশি আগে না আসা, সব ভ্রমণ নথি প্রস্তুত রাখা এবং সম্ভাব্য বিলম্বের কথা মাথায় রেখে খাবার ও পানি সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে। যানজটের কারণে কেউ ফেরি মিস করলে তাকে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই পরবর্তী ফেরিতে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এদিকে মোটরযান সংস্থা এএ জানিয়েছে, ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে শুক্রবার সারাদেশে প্রায় ২ কোটি ৩৪ লাখ গাড়ি যাত্রা হতে পারে। পূর্ব উপকূলের পর্যটন এলাকা, ওয়েলসগামী মহাসড়ক ও উত্তর-পশ্চিম উপকূলের রাস্তাগুলোতে সবচেয়ে বেশি চাপের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একই সময়ে রেলপথেও বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বেতনসংক্রান্ত বিরোধে ট্রান্সপোর্ট স্যালারিড স্টাফস অ্যাসোসিয়েশনের ধর্মঘটের কারণে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ে ও লন্ডন নর্থ ওয়েস্টার্ন রেলওয়ের সেবা সীমিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া নেটওয়ার্ক রেলের প্রকৌশল কাজের কারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃনগর রেলপথও সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। ইয়র্ক ও ডার্লিংটনের মধ্যকার ইস্ট কোস্ট মেইন লাইন বন্ধ রাখা হয়েছে, আর নিউপোর্ট ও ব্রিস্টল পার্কওয়ের মধ্যে ট্রেনের পরিবর্তে বাস চলাচল করছে।

মধ্য লন্ডনের ভেতর দিয়ে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত কোনো থেমসলিংক ট্রেন চলবে না, ফলে গ্যাটউইক ও লুটন বিমানবন্দরগামী যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়বেন।

ভ্রমণবিষয়ক সংগঠন এবিটিএ জানিয়েছে, স্কুলের অর্ধ-বার্ষিক ছুটি শুরু হওয়ায় বিপুলসংখ্যক পরিবার এই সপ্তাহান্তে ছুটিতে বের হয়েছে। স্পেন, ইতালি, পর্তুগাল, ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ ও ইউরোপের বিভিন্ন জনপ্রিয় শহরে ভ্রমণের চাহিদা বেড়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই সপ্তাহের শেষের দিকে যুক্তরাজ্যের কিছু অংশে তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। সোমবার দক্ষিণ ইংল্যান্ড ও মিডল্যান্ডসে তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ফলে সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটন এলাকাগুলোতেও বাড়তি চাপের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে শুক্রবার বিকেলে ডোভার বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্য প্রধানমন্ত্রী নতুন রুয়ান্ডা স্কিম নিয়ে নতুন চাপে পড়েছেন

ব্রিটিশ নির্বাচনঃ উচ্ছ্বসিত প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া অভিবাসীরা

সু চি’কে অবশ্যই মুক্তি দিতে হবে: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী