TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

পিটার ম্যান্ডেলসন নিয়োগে গোপন তথ্য, তীব্র চাপে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা যাচাইয়ে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি গোপন রাখার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে চাপে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

ঘটনার জেরে পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা স্যার অলি রবিনসকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ম্যান্ডেলসন প্রাথমিক নিরাপত্তা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তবে পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত দপ্তরের ভেতরেই পরিবর্তন করা হয় এবং বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বা কোনো মন্ত্রীকে জানানো হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ ঘটনাকে “অমার্জনীয়” এবং “স্তম্ভিত করার মতো” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন গুরুতর তথ্য গোপন রাখা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

তার ভাষায়, “আমি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। আমাকে বা কোনো মন্ত্রীকে জানানো হয়নি যে প্রার্থী নিরাপত্তা যাচাইয়ে ব্যর্থ হয়েছেন—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকা অত্যন্ত জরুরি, কিন্তু এই ঘটনায় সেই নীতির বড় ধরনের ব্যত্যয় ঘটেছে।

এদিকে, সংসদের একাংশ সদস্য অভিযোগ করেছেন, ম্যান্ডেলসনের নিয়োগে “যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে” বলে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা বিভ্রান্তিকর। এর জেরে তার পদত্যাগের দাবিও উঠতে শুরু করেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী সোমবার তিনি সংসদে উপস্থিত হয়ে পুরো ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি নিয়োগ বিতর্ক নয়, বরং সরকারের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা ও সমন্বয় ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, এই সংকট কতদূর গড়ায় এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর হয়।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

পার্লামেন্টে তদন্তের মুখে প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক

পূর্ব লন্ডনে আচমকা তাণ্ডব চালিয়ে গেল টর্নেডো

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্য ঘানাকে ফিরিয়ে দিতে যাচ্ছে ১৫০ বছর আগের ইতিহাসের অংশ