10.3 C
London
May 13, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

গ্রিন ভোটারদের এলাকায় অভিবাসী আটককেন্দ্রঃ নির্বাচনের আগে নতুন বিতর্কে ব্রিটিশ রাজনীতি

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অভিবাসন ইস্যু ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির একটি ডানপন্থী রাজনৈতিক দল রিফর্ম পার্টি ক্ষমতায় এলে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য নতুন আটককেন্দ্র নির্মাণ এবং ব্যাপক হারে বহিষ্কারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দলটি জানিয়েছে, এসব আটককেন্দ্র স্থাপনে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে সেইসব এলাকায়, যেখানে গ্রীন পার্টির শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।

দলটির দাবি, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে বিপুল সংখ্যক অবৈধ অভিবাসী অবস্থান করছে, যাদের সবাইকে পর্যায়ক্রমে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রায় ২৪ হাজার মানুষকে একসঙ্গে রাখার মতো নতুন আটক সুবিধা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

দলটির এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, যেসব এলাকায় তাদের দলের জনপ্রতিনিধি বা স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, সেখানে এসব আটককেন্দ্র স্থাপন করা হবে না। বরং যেসব এলাকায় সীমান্ত উন্মুক্ত নীতির প্রতি সমর্থন রয়েছে বলে তারা মনে করে, সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি “গণতান্ত্রিক সম্মতির ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত”।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন আইন প্রণয়নের কথাও বলা হয়েছে, যাতে আটককেন্দ্র নির্মাণ কোনো আইনি বাধার মুখে না পড়ে। প্রস্তাবিত আইনে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ থাকবে কোন কোন এলাকায় এসব কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, ফলে আদালতের মাধ্যমে তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি থেকেও বেরিয়ে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে দলটি, যাতে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইনি প্রতিবন্ধকতা কমে।

দলটির ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, অবৈধভাবে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের—এমনকি যারা আশ্রয়ের আবেদন করেছে—তাদেরও আটক করে দ্রুত বহিষ্কার করা হবে। এজন্য একটি নতুন সংস্থা গঠনের কথাও বলা হয়েছে, যা পুরো বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এদিকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসন ইস্যুটি বড় রাজনৈতিক আলোচনায় পরিণত হয়েছে। এদিকে গ্রীন পার্টি লন্ডনসহ বড় শহরগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে এই নতুন পরিকল্পনা ঘোষণাকারী দলটি শিল্পাঞ্চল ও ঐতিহ্যগত রক্ষণশীল ঘাঁটিতে সাফল্যের আশায় রয়েছে।

লেবার সরকার ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি প্রায় ১০ হাজার অভিবাসীকে হোটেল থেকে সরিয়ে পুরোনো সামরিক স্থাপনায় স্থানান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

গ্রীন পার্টির পক্ষ থেকে এই পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলা হয়েছে, এটি বাস্তবসম্মত নয় এবং জনমত ভিন্ন দিকে ঘোরানোর একটি চেষ্টা। তারা অভিযোগ করেছে, মূল সমস্যাগুলো আড়াল করতেই এ ধরনের ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, অভিবাসন ইস্যু এখন যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান বিতর্কে পরিণত হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এই ইস্যু ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটেন-আয়ারল্যান্ডের ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত বহিষ্কারের আহ্বান

লন্ডনের স্বাস্থ্যসেবায় ধীরগতিঃ ধরা পড়ল স্টেজ ৪ ক্যানসার

নির্বাচনকে ঘিরে উত্তপ্ত হতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন পরিস্থিতি