যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ব্লাঙ্কেট প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার-কে সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার জন্য নতুন ক্ষমতা গ্রহণ করলে তা উল্টো সরকারবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর জন্য সুবিধাজনক হয়ে উঠতে পারে।
তিনি বলেন, বিদ্যমান আইন ও পুলিশের বর্তমান ক্ষমতাই যথেষ্ট। এগুলো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করলে সহিংসতা, ভয়ভীতি বা জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। নতুন করে কঠোর আইন প্রণয়ন করলে সরকারকে “দমনমূলক ও অগণতান্ত্রিক” হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ পাবে গ্রিন পার্টি ও চরম বামপন্থীরা।
সম্প্রতি গোল্ডার্স গ্রিনে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হামলার পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইঙ্গিত দেন, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করার জন্য সরকার অতিরিক্ত ক্ষমতা বিবেচনা করছে। তিনি দাবি করেন, ধারাবাহিক এসব বিক্ষোভ ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর “সমষ্টিগত প্রভাব” ফেলছে।
এদিকে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ চলতি মাসে বিক্ষোভ আইন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা প্রতিবেদন গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। সাবেক প্রধান সরকারি কৌঁসুলি লর্ড ম্যাকডোনাল্ড এই পর্যালোচনার দায়িত্বে রয়েছেন। প্রতিবেদনে গুরুতর বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকলে সরকার ও পুলিশকে আরও সহজে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৯৮৬ সালের পাবলিক অর্ডার আইনের ১৩ নম্বর ধারা। এই ধারার আওতায় মার্চ মাসে লন্ডনে আল-কুদস দিবসের মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে আইনটি স্থির অবস্থানের বিক্ষোভ বা ধারাবাহিক কর্মসূচির “সমষ্টিগত প্রভাব” বিবেচনায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ দেয় না।
সাম্প্রতিক সময়ে ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। গোল্ডার্স গ্রিনে দুই ইহুদি ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর সরকারকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তবে ডেভিড ব্লাঙ্কেট মনে করেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ইতোমধ্যেই “বিস্তৃত ক্ষমতা” রয়েছে। তার ভাষায়, একই ইস্যুতে ধারাবাহিক বিক্ষোভ যদি ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে, তবুও বিদ্যমান আইনের মাধ্যমেই তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তিনি বলেন, “দাঙ্গাবাজি, ভয়ভীতি কিংবা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সমর্থন—সবই বর্তমান আইনের আওতায় মোকাবিলা করা যায়।”
তিনি আরও বলেন, উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আইন প্রণয়ন সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ তা সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারবিরোধী মনোভাব বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে “গ্লোবালাইজ দ্য ইনতিফাদা” ধরনের স্লোগানের বিরুদ্ধে পুলিশের আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। তার মতে, এমন ভাষা ভয়ভীতি ও উত্তেজনা ছড়াতে পারে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এ বিষয়ে দৃঢ় হতে হবে।
এদিকে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মার্ক রাউলি জানিয়েছেন, আগামী ১৬ মে অনুষ্ঠিতব্য দুটি বড় সমাবেশ নিষিদ্ধ করার অনুরোধ জানানো হবে কি না তা বিবেচনা করা হচ্ছে। এর একটি নাকবা দিবস উপলক্ষে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ এবং অন্যটি কট্টর ডানপন্থী কর্মী টমি রবিনসন-এর আয়োজিত “ইউনাইট দ্য কিংডম” সমাবেশ।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

