TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বাবা জেলা ছাত্রদল সভাপতি, ছেলে করলেন এইচএসসি পাসঃ অভিনন্দন জানাতে গিয়ে কমিটি বিলুপ্ত

চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান মিয়ার ছেলের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের খবরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। ছেলের সাফল্যে বাবার অভিনন্দন জানিয়ে দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে তার পারিবারিক জীবন এবং বিবাহিত হয়েও ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ পদে থাকার বিষয়টি নিয়ে। এর মধ্যেই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের কমিটি। একই সঙ্গে মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দুই জেলার কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কমিটি দুটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে শাহজাহান খানকে সভাপতি এবং মোমিনুর রহমান মোমিন মালিতাকে সাধারণ সম্পাদক করে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছিল এই কমিটি।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় শনিবার প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলকে কেন্দ্র করে। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ থেকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান মিয়ার ছেলে জোনায়েব ইসলাম মাহি। ছেলের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বাবা নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছেলের ছবি প্রকাশ করে অভিনন্দন জানান। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। অনেক অনেক ভালোবাসা, দোয়া ও শুভকামনা রইল বাজান।’

বাবার এই সাধারণ অভিনন্দন বার্তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই জোনায়েব ইসলাম মাহিকে অভিনন্দন জানান এবং তার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানান। তবে একই সঙ্গে শাহজাহান খানের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। বিশেষ করে একজন বিবাহিত ব্যক্তি কীভাবে ছাত্রসংগঠনের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শাহজাহান খান। তিনি বলেন, তার ছেলে পরীক্ষায় পাস করেছে, তাই তিনি আনন্দ প্রকাশ করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। এ নিয়ে এত খোঁজখবর নেওয়ার প্রয়োজন কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

শাহজাহান খান বলেন, ‘আমার ছেলে পাস করেছে, তাই আমি আলহামদুলিল্লাহ লিখে ফেসবুকে পোস্ট করেছি। এখন এত খোঁজখবর নিচ্ছেন, অথচ ১৭ বছর যখন পুলিশের অত্যাচারে ঘুমাতে পারিনি, তখন তো খোঁজ নেননি। এখন খোঁজ নিয়ে লেখালেখি করছেন। আমি কি আমার সন্তানকে নিয়ে মনের আনন্দ প্রকাশ করতে পারবো না?’

তবে ছেলের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবং জেলা কমিটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্তের মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। বরং সেখানে কমিটি দুটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টিকেই বিলুপ্তির কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে।

ফলে একই সময়ে ছেলের পরীক্ষায় পাস, বাবার অভিনন্দন বার্তা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক এবং জেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তির ঘটনা চুয়াডাঙ্গার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ছেলের পরীক্ষায় পাসের আনন্দ প্রকাশ করতে গিয়ে শাহজাহান খানকে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এমকে

আরো পড়ুন

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মতবিনিময়, গোপনে ভিডিও করায় এলডিপি নেতা বহিষ্কার

বদলে গেলো ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার’ নাম

৪ দিনের গ্যাস সংকটে পড়তে যাচ্ছে সারাদেশ