18.4 C
London
October 2, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

বিদেশি আইনজীবীদের ব্যারিস্টার হওয়ার নতুন আবেদন স্থগিত করল ব্রিটেনের বার স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড

বিদেশি আইনজীবীদের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টার হিসেবে পুনরায় যোগ্যতা অর্জনের জন্য নতুন আবেদন গ্রহণের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ব্রিটেনের বার স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড (বিএসবি)। বিপুলসংখ্যক আবেদন জমে যাওয়ায় বিদ্যমান আবেদনগুলো নিষ্পত্তি, নিয়ম পর্যালোচনা এবং আবেদন প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার জন্য এই বিরতি দেওয়া হয়েছে।

৩০ সেপ্টেম্বর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আইনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম লিগ্যাল ফিউচার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএসবি নতুন আবেদন স্থগিত রাখার নির্দিষ্ট শেষ তারিখ জানায়নি। তবে নিয়ম পরিবর্তন নিয়ে পরামর্শ প্রক্রিয়া এবং পরিবর্তন অনুমোদনের জন্য লিগ্যাল সার্ভিসেস বোর্ডের কাছে আবেদন করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

তবে যেসব বিদেশি আইনজীবীর পিউপিলেজের প্রস্তাব, চেম্বারে জায়গা বা এমন কোনও চাকরির প্রস্তাব রয়েছে যার জন্য তাদের প্র্যাকটিসিং সার্টিফিকেট প্রয়োজন, তারা এই স্থগিতাদেশের আওতার বাইরে থাকবেন। অর্থাৎ ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে আইন পেশায় প্রবেশের বাস্তব প্রয়োজন প্রমাণ করতে পারলে তাদের আবেদন করার সুযোগ থাকবে।

বিদেশি আইনজীবীদের ট্রান্সফারিং কোয়ালিফায়েড লইয়ার (টিকিউএল) হিসেবে ব্যারিস্টার হওয়ার আবেদনের সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। লিগ্যাল ফিউচার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের দেশগুলো থেকে—এর মধ্যে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য—বিপুলসংখ্যক আবেদন এসেছে।

বিএসবি জানিয়েছে, তাদের প্রধান উদ্বেগের একটি হলো—অনেক আবেদনকারী ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে আইন পেশায় কাজ করার প্রকৃত পরিকল্পনা ছাড়াই এই মর্যাদা অর্জনের জন্য আবেদন করছেন বলে তারা মনে করছে। বর্তমান নিয়মে অবশ্য আবেদনকারীদের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে আইন পেশায় কাজ করার অভিপ্রায়ের প্রমাণ দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ শেষ হওয়া বছরে বিএসবির কাছে জমা পড়া সব ধরনের অনুমোদন আবেদনের মধ্যে টিকিউএল আবেদন ছিল ২৯ শতাংশ। এর আগের বছরে এই হার ছিল ৪০ শতাংশ। বিএসবির অনুমোদন টিমে জমা পড়া আবেদনের মধ্যে টিকিউএল আবেদনই সবচেয়ে বড় অংশ।

বাড়তি চাপ সামলাতে বিএসবি একটি টাস্কফোর্স গঠন এবং অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করেছিল। এর ফলে ২০২৩ সালের নভেম্বরের আগে জমে থাকা আবেদনের জট অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এক বছরে ৭০০টির বেশি টিকিউএল আবেদন প্রক্রিয়া করা হয়েছে, যা আগের কয়েক বছরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।

তবে এরপরও আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে জট রয়ে গেছে এবং আবেদন সম্পন্ন করার সময়সীমা নিয়ে বিএসবির নিজস্ব লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনুমোদন টিম এখনও পিছিয়ে রয়েছে। গত দুই বছরে বিএসবি ৯৫৭টি নতুন টিকিউএল আবেদন পেয়েছে। এসব আবেদন সাধারণত জটিল হওয়ায় সেগুলো প্রক্রিয়া করতে উল্লেখযোগ্য সময় প্রয়োজন হয়।

জুলাইয়ে বিএসবির মূল বোর্ডের কাছে দেওয়া এক প্রতিবেদনে সংস্থাটির মহাপরিচালক ফিল গোল্ডরিং জানিয়েছিলেন, ট্রান্সফারিং কোয়ালিফায়েড আইনজীবীরা ব্যারিস্টার হিসেবে প্রবেশের প্রয়োজনীয় মান পূরণ করছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে অনুমোদন দেওয়ার পদ্ধতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

নতুন আবেদন স্থগিতের বিষয়ে ফিল গোল্ডরিং বলেন, বিএসবি তাদের প্রক্রিয়া ও নিয়মে পরিবর্তন আনতে চায়, যাতে এই ব্যবস্থা মূলত তাদের জন্য কেন্দ্রীভূত হয় যারা সংশ্লিষ্ট বিচারব্যবস্থায় বাস্তবে আইন পেশায় কাজ করার সম্ভাবনা রাখেন। একই সঙ্গে বিদ্যমান আবেদনের বড় জট কমানোও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

তবে বিএসবি বলছে, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে আইন পেশায় কাজ করার বাস্তব সুযোগ রয়েছে—এমন কাউকে আবেদন করতে নিরুৎসাহিত করাই তাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং সীমিত সম্পদ এমন আবেদনকারীদের দিকে কেন্দ্রীভূত করাই তাদের লক্ষ্য, যাদের ওই বিচারব্যবস্থায় আইন পেশায় প্রবেশের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে।

বিএসবি আরও জানিয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বীকৃতির ব্যবস্থা রয়েছে, সেসব ব্যক্তিগত মামলা বা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সালিশি কার্যক্রমের ওপর এই স্থগিতাদেশের কোনও প্রভাব পড়বে না।

সূত্রঃ লিগ্যাল ফিউচার্স

এমকে

আরো পড়ুন

চালকবিহীন ট্যাক্সির যুগে যুক্তরাজ্যঃ লন্ডনের রাস্তায় প্রথমবার নামল উবার রোবোট্যাক্সি

যুক্তরাজ্যের ৫৮% নাগরিক ইইউতে ফিরতে চানঃ জরিপ

ইইউতে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করতে বার্নহামকে আর অপেক্ষা না করার আহ্বান স্টেলা ক্রেসির