15.4 C
London
October 12, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশযুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে ভুয়া সমকামী সাজায় বাংলাদেশি সাজ্জাদ গ্রেফতারঃ আবার জামিনে মুক্ত

যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের ভুয়া সমকামী হিসেবে উপস্থাপন করে আশ্রয় পাওয়ার প্রক্রিয়ায় সহায়তার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পূর্ব লন্ডন থেকে সাজ্জাদ মিয়া (৪২) নামের এক বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে দেশটির অভিবাসন এনফোর্সমেন্ট বিভাগ। সিলেটের বাসিন্দা সাজ্জাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সমকামী নন—এমন ব্যক্তিদের ভুয়া পরিচয়ে উপস্থাপনের জন্য তিনি প্রতিটি প্যাকেজে সাড়ে চার হাজার পাউন্ড পর্যন্ত নিতেন।

হোয়াইটচ্যাপেল এলাকার ‘আপনজন’ নামের একটি সংস্থার কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় রবিবার ভোরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাজ্জাদসহ তিনজনকে আটক করা হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, আশ্রয়ের আবেদন সমর্থন করতে সাজানো ছবি, নাইটক্লাবে উপস্থিতির প্রমাণ এবং ভুয়া প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন নথি তৈরি করা হতো।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে হোয়াইটচ্যাপেলের ইস্ট লন্ডন মসজিদের পেছনে অবস্থিত ভাইন কোর্ট বিজনেস সেন্টার থেকেও দুজনকে আটক করা হয়। তাদের একজনের বিরুদ্ধে অভিবাসন জালিয়াতিতে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। অন্যজনকে যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের আওতায় থাকা সুরক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কিছু আশ্রয়প্রার্থীর জন্য সমকামী পরিচয়ের ভিত্তিতে আশ্রয়ের দাবি সাজিয়ে দেওয়া হতো। এ জন্য তৈরি করা নথিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ছবি, নাইটক্লাবে যাওয়ার তথ্য এবং প্রত্যয়নপত্র অন্তর্ভুক্ত থাকত। এসব নথির মাধ্যমে আবেদনকারীদের এমন একটি ব্যক্তিগত ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করা হতো, যা তাদের প্রকৃত পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর জামিনে মুক্ত হয়ে সাজ্জাদ মিয়া সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, অভিযানে জব্দ করা অর্থ তার বাড়িভাড়ার জন্য রাখা হয়েছিল এবং স্বর্ণালঙ্কারগুলো তার বোনের। তিনি সংস্থাটির কার্যক্রমকে বৈধ দাবি করে বলেন, কাউকে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার আগে অন্তত ছয় মাস পর্যবেক্ষণ করা হতো। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগেও যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ট্রাইব্যুনালে এই সংস্থার জমা দেওয়া নথি অনির্ভরযোগ্য ও সাজানো বলে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। তদন্তকারীরা এখন সংস্থাটির কার্যক্রম এবং এর মাধ্যমে করা আশ্রয়ের আবেদনগুলোর সত্যতা যাচাই করছেন।

তদন্তে আরও অভিযোগ উঠেছে, যেসব বাংলাদেশি নাগরিকের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, তাদের একটি অংশকে লক্ষ্য করে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। একই রঙের পোশাক পরিয়ে লন্ডনের বিভিন্ন প্রাইড প্যারেডে ছবি তোলা এবং ক্লাবে উপস্থিতির দৃশ্য তৈরি করে আবেদনকারীদের সমকামী পরিচয়ের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে আসার প্রায় এক দশক পর সমকামী পরিচয়ের ভিত্তিতে আশ্রয়ের দাবি তোলার নজিরও তদন্তে উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে হোম অফিস ওই সংস্থার মাধ্যমে করা শতাধিক অতীত ও চলমান আশ্রয়ের আবেদন খতিয়ে দেখছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলোর সত্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ টিবিসি

এমকে

আরো পড়ুন

৪ মামলায় খালাস পেলেন ‘শিশুবক্তা’ মাদানী

যুক্তরাজ্যে অস্থায়ী ভিসা নিয়ে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের পক্ষে যুগান্তকারী রায়

সাগর-রুনি হত্যা মামলা, এবার আইনি লড়াইয়ে অ্যাডভোকেট শিশির মনির