13.3 C
London
October 26, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে লেবারের সমর্থন ৩২ শতাংশ, কনজারভেটিভ ২৪ ও ফারাজের রিফর্ম ২০ শতাংশে

ব্রিটেনে নতুন জনমত জরিপে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সমর্থন বেড়ে ৩২ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ে আট শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে দলটি। অন্যদিকে, নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকের সমর্থন কমে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জিবি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইপসোসের পরিচালিত এই জরিপে লেবার পার্টির সমর্থন আগের তুলনায় পাঁচ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। কনজারভেটিভ পার্টির সমর্থন তিন পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ২৪ শতাংশ। ফলে দলটি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, ২০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রিফর্ম ইউকে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, গ্রিন পার্টির সমর্থন পাঁচ শতাংশ পয়েন্ট কমে আট শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে দলটি পঞ্চম স্থানে রয়েছে।

ইপসোস ইউকের রাজনীতি বিভাগের পরিচালক কিরান পেডলি বলেন, জরিপের সামগ্রিক ফলাফলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেলেও দীর্ঘদিন ধরে চলা কিছু প্রবণতারই প্রতিফলন ঘটেছে। তার মতে, অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নেতৃত্বে লেবার পার্টি আবারও সমর্থন বাড়াচ্ছে এবং বামপন্থী ভোটারদের সমর্থন একত্রিত করছে। অন্যদিকে, ডানপন্থী রাজনীতিতে পরিবর্তনের কারণে কনজারভেটিভ পার্টি রিফর্ম ইউকের চেয়ে এগিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে।

দলীয় নেতাদের জনপ্রিয়তা নিয়েও জরিপে তথ্য উঠে এসেছে। কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনকের নেতৃত্বে সন্তুষ্টির হার বেড়ে ৩৫ শতাংশ হয়েছে। এই হিসাবে তিনি প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সমপর্যায়ে রয়েছেন।

অন্যদিকে, গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কির নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তুষ্টির হার বেড়ে ৫৬ শতাংশ হয়েছে, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার জন্য সর্বোচ্চ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজের নেতৃত্ব নিয়েও অসন্তুষ্টি বেড়েছে। জরিপে ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা তার নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দলটিকে ঘিরে আইটিভি ও চ্যানেল ফোরের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের অভিযোগগুলো এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে রিফর্ম ইউকে কোনো অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং আইটিভি ও তাদের ছদ্মবেশী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে।

ইপসোসের রাজনীতি বিভাগের পরিচালক কিরান পেডলি একটি মাত্র জরিপের ফলাফল দেখে অতিরিক্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্রিটেনের রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। ছয় মাস আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান চিত্রের পার্থক্য রয়েছে এবং আগামী ছয় মাসেও পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।

আগামী বুধবার অর্থমন্ত্রী জন হিলির বাজেট ঘোষণার আগে এই জরিপ প্রকাশিত হলো। বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে কয়েক বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের পাশাপাশি জাতীয় সম্পদ তহবিল ও ব্রিটিশ বিজনেস ব্যাংকে বিনিয়োগের পরিকল্পনা থাকতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ঋণের মাধ্যমে এসব বিনিয়োগের অর্থ জোগানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া পেনশন খাতে নতুন কর আরোপ এবং মূলধনি মুনাফা কর বাড়ানোর বিষয়ও বিবেচনায় থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ\ইপসোস ইউকে

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে মুখোশধারীদের দখলে ডোভার বন্দরঃ অবরোধে থমকে গেল ফেরি চলাচল

বার্নহাম সরকারের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ: ক্যাথলিক ও ইহুদি প্রধানমন্ত্রীদের ওপর আরোপিত বৈষম্যমূলক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিল সংসদে

যুক্তরাজ্যে নাকডাকার জন্য পেতে পারেন বেনিফিট