TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে সংসদীয় নজরদারি ছাড়াই অভিবাসন বিধি বদলের ক্ষমতা নিয়ে লর্ডস কমিটির উদ্বেগ

ব্রিটেনে সংসদের আনুষ্ঠানিক নজরদারি ছাড়াই অভিবাসন বিধির প্রয়োগে পরিবর্তন আনার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হাউস অব লর্ডসের সেকেন্ডারি লেজিসলেশন স্ক্রুটিনি কমিটি। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কমিটি বলেছে, এই ক্ষমতার ব্যবহার কীভাবে সংসদীয়ভাবে চ্যালেঞ্জ বা পর্যালোচনা করা সম্ভব, তা স্পষ্ট নয়।
১৯৭১ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্টের ৩(১)(বি) ধারার প্রয়োগ পর্যালোচনা করতে গিয়ে কমিটি এই উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের মার্চে অভিবাসন বিধি পরিবর্তনের এক বিবৃতিতে বড় ধরনের ভুলের পর বিষয়টি সামনে আসে। ওই ভুলের কারণে ভিসা ছাড়া ট্রানজিট বা ‘ট্রানজিট উইদাউট আ ভিসা’—টিডব্লিউওভি—সংক্রান্ত বিধান অনিচ্ছাকৃতভাবে মুছে যায়।
হোম অফিসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ৩(১)(বি) ধারার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী যুক্তরাজ্যে প্রবেশ বা থাকার অনুমতির ক্ষেত্রে ব্যাপক বিবেচনাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। এর আওতায় অভিবাসন বিধি কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা প্রভাবিত করতে বিশেষ ছাড় বা কনসেশন দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিবাসন বিধিতে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে যে ধরনের সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, ৩(১)(বি) ধারার আওতায় দেওয়া কনসেশনের ক্ষেত্রে একই ধরনের সংসদীয় অনুমোদন বা আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদকে জানানোর বাধ্যবাধকতা নেই। এ কারণেই লর্ডস কমিটি প্রশ্ন তুলেছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সংসদ বাস্তবে সেটিকে কীভাবে চ্যালেঞ্জ বা বাতিল করতে পারবে।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩(১)(বি) ধারার ব্যবহার সম্পর্কে সংসদকে সবসময় জানানোও হয় না। মার্চ মাসে টিডব্লিউওভি বিধানের ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রেও সংসদকে এই ক্ষমতা ব্যবহারের বিষয়ে অবহিত করা হয়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৩(১)(বি) ধারা কতবার ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে কমিটি হোম অফিসের কাছে তথ্য জানতে চায়। কিন্তু হোম অফিস নির্দিষ্ট সংখ্যা দিতে পারেনি। সংস্থাটির বক্তব্য, কনসেশনের প্রকৃতির কারণে প্রতিটি ব্যবহারের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড সংরক্ষণ করা হয় না।
কমিটি বলেছে, আইনগত ভুলের প্রভাব সংশোধনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর এমন একটি ক্ষমতা কেন থাকবে, যার মাধ্যমে কার্যত সংসদীয় প্রক্রিয়া ছাড়াই পরিবর্তন আনা সম্ভব—তা স্পষ্ট নয়। সরকারের জন্য এই ক্ষমতা সুবিধাজনক হলেও বর্তমানে এটি যেভাবে সংজ্ঞায়িত রয়েছে, তা যথাযথ কি না, তা হাউস অব লর্ডস ও হোম অফিসের বিবেচনা করা উচিত বলে জানিয়েছে কমিটি।
কোনো সাধারণ কনসেশন কেন প্রয়োজন, সে বিষয়েও হোম অফিসের আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিটি। বিশেষ করে ২০১২ সালে সুপ্রিম কোর্টের আর (মুনির) বনাম সেক্রেটারি অব স্টেট ফর দ্য হোম ডিপার্টমেন্ট মামলার রায়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ক্ষমতার যে সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরা হয়েছিল, সেগুলোর বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি।
৩(১)(বি) ধারার আওতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ক্ষমতার ব্যাখ্যায় হোম অফিস ওই মামলার রায়ের উল্লেখ করেছিল। তবে লর্ডস কমিটি বলেছে, সুপ্রিম কোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ‘ব্যাপক বিবেচনাধিকার’-এর কথা বললেও এর অর্থ এই নয় যে কনসেশনভিত্তিক নীতি তৈরির ক্ষেত্রে তার ক্ষমতা সীমাহীন।
কমিটির মতে, কোনো নীতি অভিবাসন বিধির প্রকৃত পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে কি না এবং সেটি সংসদের সামনে উপস্থাপন করা প্রয়োজন কি না, তা নির্ভর করবে পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট ধরন এবং পৃথক মামলায় সেটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে কতটা নমনীয়তা রাখা হয়েছে তার ওপর।
টিডব্লিউওভি বিধান মুছে যাওয়ার ঘটনাকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে কমিটি। হোম অফিস ঘটনাটিকে প্রশাসনিক ও খসড়া তৈরির প্রক্রিয়ায় ঘটে যাওয়া ভুল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুতগতিতে বিধির বিভিন্ন অংশ যোগ, বাদ ও সম্পাদনা করা হয় এবং সেই প্রক্রিয়ায় ভুলটি ঘটেছিল।
ভবিষ্যতে এমন ভুলের ঝুঁকি কমাতে হোম অফিস আরও শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অনুমোদন ও যাচাই প্রক্রিয়া, ভুলের রেকর্ড রাখা, প্রকাশের পর পর্যালোচনা এবং আরও স্পষ্ট কৌশলগত সারসংক্ষেপ নথি সংরক্ষণ।
হোম অফিস আরও জানিয়েছে, অভিবাসন বিধিতে ঘন ঘন ও প্রয়োজনভিত্তিক পরিবর্তনের পরিবর্তে বছরে নির্ধারিত চার দফায় পরিবর্তন আনার একটি নতুন কর্মসূচির দিকে এগোচ্ছে তারা।
লর্ডস কমিটি এসব পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে একই সঙ্গে বলেছে, অভিবাসন বিধির একটি সম্পূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ অনিচ্ছাকৃতভাবে মুছে যাওয়ার ঘটনা আগের ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য দুর্বলতার ইঙ্গিত দিয়েছে।
কমিটি বলেছে, প্রশাসনিক ও খসড়া তৈরির ক্ষেত্রে ভুল হতে পারে। তবে কোনো নথি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই এসব ভুল শনাক্ত ও সংশোধনের জন্য যথেষ্ট যাচাই ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তাদের মতে, অভিবাসন বিধির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সম্পূর্ণভাবে মুছে যাওয়ার ঘটনা শুধু সাধারণ প্রশাসনিক ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় আরও গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
ভবিষ্যতে হোম অফিস কীভাবে অভিবাসন বিধি পরিবর্তনসংক্রান্ত বিবৃতি তৈরি ও কার্যকর করে, তা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানিয়েছে সেকেন্ডারি লেজিসলেশন স্ক্রুটিনি কমিটি। ফলে ব্রিটেনে ভিসাধারী, অভিবাসনপ্রত্যাশী এবং সংশ্লিষ্টদের জন্য অভিবাসন বিধি পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, সংসদীয় নজরদারি ও জবাবদিহির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সূত্রঃ ই আই এন
এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রকে আর পরাশক্তি মনে করেন না ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী

চায়ের ‘নিখুঁত’ স্বাদ পেতে লবণ নিয়ে ‘হইচই’ যুক্তরাজ্যে

ই-সিগারেট বন্ধ হতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যে