যুক্তরাজ্যে আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থা আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে নতুন একটি অভিবাসন ও আশ্রয় বিল সংসদে উত্থাপন করেছে সরকার। প্রস্তাবিত এই বিলে আশ্রয় আবেদন-সংক্রান্ত আপিলের সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা বিচারকদের কাছ থেকে সরিয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাধারণ নাগরিকদের নিয়ে গঠিত একটি স্বাধীন কর্তৃপক্ষের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মানবাধিকারভিত্তিক দাবি গ্রহণের ক্ষেত্রেও কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার পার্লামেন্টে উপস্থাপিত বিল অনুযায়ী, আশ্রয় আবেদন-সংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তির জন্য একটি স্বাধীন অভিবাসন আপিল কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। সরকারের দাবি, বর্তমানে ৮৬ হাজারেরও বেশি আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে এই দীর্ঘদিনের মামলার জট দ্রুত কমানো সম্ভব হবে।
বিলে আরও বলা হয়েছে, ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের আওতায় মানবাধিকারভিত্তিক আবেদন কেবল বাবা-মা, স্বামী বা স্ত্রী এবং ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে। তবে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
এছাড়া আশ্রয়প্রক্রিয়া চলাকালে সন্তান জন্ম দেওয়া বা পারিবারিক পরিস্থিতির পরিবর্তনকে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হবে না বলেও বিলটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই আইন প্রকাশের পরপরই ক্ষমতাসীন দলেও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। লেবার পার্টির সংসদ সদস্য কিম জনসন বিলটির সমালোচনা করে বলেন, এটি শরণার্থীদের প্রতি অমানবিক আচরণের শামিল এবং যুদ্ধ ও নির্যাতন থেকে পালিয়ে আসা মানুষের প্রতি এমন নীতি গ্রহণ করা উচিত নয়।
অন্যদিকে শরণার্থী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন দাতব্য সংস্থাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, নতুন আইন কার্যকর হলে স্বরাষ্ট্র দপ্তরে প্রশাসনিক জটিলতা আরও বাড়তে পারে এবং ভবিষ্যতেও এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে।
তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, যুক্তরাজ্য সবসময় যুদ্ধ ও নির্যাতন থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হয়ে থাকবে। কিন্তু সেই ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখতে হলে এটি অবশ্যই ন্যায্য, নিয়ন্ত্রিত এবং অপব্যবহারমুক্ত হতে হবে। তার ভাষায়, জনআস্থা ধরে রাখা এবং অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ করতেই এই সংস্কার প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত বিলটি আগামী সপ্তাহে হাউস অব কমন্সে বিস্তারিত আলোচনার জন্য উত্থাপিত হবে। সেখানে এটি প্রথম বড় রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখোমুখি হবে। বিলটি পাস হলে যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থায় গত কয়েক দশকের অন্যতম বড় পরিবর্তন হিসাবে কার্যকর হতে পারে।
সূত্রঃ দ্য মিরর
এম.কে

