30.7 C
London
August 12, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অপরাধীদের ধরতে পাতালরেলে পুলিশের নতুন নজরদারি প্রযুক্তি

লন্ডনের পাতালরেল স্টেশনগুলোতে এবার চালু হতে যাচ্ছে লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন বা এলএফআর ক্যামেরা। পুলিশি নজরদারি তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারে সহায়তা করতেই এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করছে ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ বা বিটিপি। মঙ্গলবার থেকে প্রথম দফায় ভিক্টোরিয়া স্টেশনে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা জানিয়েছে ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন বা টিএফএল।

টিএফএল জানিয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো পুলিশের ওয়াচলিস্টে থাকা এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, যারা গুরুতর বা উচ্চমাত্রার ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত অপরাধে অভিযুক্ত বা পুলিশের কাছে খোঁজে রয়েছেন। এর মধ্যে যৌন অপরাধ, ছিনতাই এবং ছুরি-সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, লন্ডনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি টিউব স্টেশনে ধাপে ধাপে এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হবে। কোন স্টেশনে ক্যামেরা বসানো হবে, তা নির্ধারণ করা হবে গোয়েন্দা তথ্য এবং অপরাধসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে। পুলিশের দাবি, এর ফলে সবচেয়ে বেশি অপরাধপ্রবণ বা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা যাচাই করা সম্ভব হবে।

লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি স্টেশনে চলাচলরত মানুষের মুখমণ্ডল তাৎক্ষণিকভাবে স্ক্যান করে পুলিশের নির্দিষ্ট নজরদারি তালিকার ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। কোনো ব্যক্তির মুখ ওয়াচলিস্টের কারও সঙ্গে মিলে গেলে পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

তবে টিএফএলের দাবি, ওয়াচলিস্টের সঙ্গে মিল না পাওয়া মানুষের ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলা হবে। অর্থাৎ প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হলেও সবার মুখের তথ্য স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

টিউব স্টেশনে যেখানে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, সেসব এলাকা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা থাকবে। যাত্রীরা যাতে আগে থেকেই বিষয়টি জানতে পারেন এবং চাইলে ওই এলাকা এড়িয়ে যেতে পারেন, সে জন্য পর্যাপ্ত নির্দেশনাও থাকবে। বিটিপি জানিয়েছে, যাত্রীদের জন্য বিকল্প পথও রাখা হবে।

ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের নিরাপত্তা, পুলিশিং ও আইন প্রয়োগ বিভাগের পরিচালক সিওয়ান হেওয়ার্ড বলেন, প্রত্যেক মানুষের যেন হয়রানি, ভয়ভীতি বা সহিংসতার আশঙ্কা ছাড়াই যাতায়াতের সুযোগ থাকে, সেটিই তাদের লক্ষ্য। বিশেষ করে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং যৌন অপরাধ প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন পুলিশের জন্য একটি শক্তিশালী অতিরিক্ত হাতিয়ার হতে পারে। এর মাধ্যমে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত বা পুলিশের খোঁজে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং কোনো ঘটনা ঘটার আগেই হস্তক্ষেপ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, লন্ডনের পাতালরেল নেটওয়ার্কে প্রযুক্তিটির ব্যবহার কীভাবে লক্ষ্যভিত্তিক, আনুপাতিক এবং কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে করা যায়, তা বোঝার জন্য এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ।

ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের প্রকল্পটির দায়িত্বে থাকা প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস কেসি জানান, রেল নেটওয়ার্কে এলএফআর প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহারের এটি একটি নতুন পর্যায়। পাতালরেল স্টেশনে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করলে ভিন্ন ধরনের পরিবেশে এর কার্যকারিতা যাচাই করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে এর ব্যবহার আরও উন্নত করা যাবে।

তিনি বলেন, পুলিশের কার্যক্রম হবে গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর এবং মূল লক্ষ্য থাকবে পুলিশ বা আদালতের কাছে খোঁজে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা। গুরুতর অপরাধে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পাশাপাশি জামিনের শর্ত, আদালতের নির্দেশ বা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করতে পারেন—এমন ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হবে।

তবে নতুন এই প্রযুক্তি নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশনের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তাদের আশঙ্কা, জনসমাগমপূর্ণ স্থানে মানুষের মুখ স্ক্যান করার মাধ্যমে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নাগরিক স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সব পুলিশ বাহিনীর জন্য চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এলএফআর প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত হয়েছে। লন্ডনে এর ব্যবহার অবশ্য নতুন নয়। মেট্রোপলিটন পুলিশ ২০১৬ সালের আগস্টে নটিং হিল কার্নিভালে প্রথমবার প্রযুক্তিটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার করেছিল। পরে ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এর ব্যবহার শুরু করে।

এবার লন্ডনের ব্যস্ত পাতালরেল নেটওয়ার্কে ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় প্রযুক্তিটির ব্যবহার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করছে। একদিকে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করার সুযোগ বাড়বে বলে পুলিশের প্রত্যাশা, অন্যদিকে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও স্বাধীনতা রক্ষায় কঠোর নজরদারির দাবি আরও জোরালো হতে পারে।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে হোম অফিসের বিলাসী আশ্রয় প্রকল্পঃ চার-তারকা হোটেলে অভিবাসী রাখার সিদ্ধান্তে বিতর্ক

লেবার নেতাকে ‘নারী প্রধানমন্ত্রী’ আখ্যাঃ কনজারভেটিভদের কটাক্ষে উত্তপ্ত ব্রিটিশ রাজনীতি

রাজপ্রাসাদে নিষিদ্ধ ঘোষিত হলেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু