10.3 C
London
May 13, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে আধুনিক দাসত্ব রেকর্ড পর্যায়ে, আগামী দশকে আরও অবনতির আশঙ্কা

যুক্তরাজ্যে আধুনিক দাসত্ব ও মানবপাচারের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী দশকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সরকারের স্বাধীন দাসত্ববিরোধী কমিশনার এলেনর লায়ন্স। তার প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে দাসত্বের শিকারদের সংখ্যা এখন রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য দাসত্বের শিকারদের শনাক্ত ও সহায়তার জন্য ব্যবহৃত জাতীয় রেফারেল ব্যবস্থায় পাঠানো মামলার সংখ্যা গত পাঁচ বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২১ সালে যেখানে ১২,৬৯১টি মামলা ছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩,৪১১-এ—যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই বৃদ্ধির পেছনে শুধু শনাক্তকরণ ব্যবস্থার উন্নতি নয়, বরং বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা সংকটও দায়ী। দারিদ্র্য, যুদ্ধ ও সংঘাত, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি এবং নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থার দুর্বলতা মানুষের মধ্যে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, যা পাচারকারী চক্রগুলো সহজেই কাজে লাগাচ্ছে।

প্রযুক্তি ও নতুন কৌশলে জটিল হচ্ছে শোষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার মানবপাচারকে আরও জটিল ও বিস্তৃত করে তুলছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে শোষণ আরও সংগঠিত ও পেশাদার রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে তথাকথিত “প্রতারণা কেন্দ্র”-এ ডিজিটাল শ্রমের ব্যবহার বাড়ছে, যেখানে মানুষকে বিনিয়োগ বা প্রেমঘটিত প্রতারণায় জড়িয়ে ফেলা হয়।

এছাড়া পাচার কার্যক্রমে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা অপরাধীদের আরও গোপনীয়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করছে। প্রতিবেদনে গিগ অর্থনীতির প্রসার, কৃষি, নির্মাণ ও খনিশিল্পে জোরপূর্বক শ্রম এবং প্রজননভিত্তিক শোষণ—যেমন জোর করে ডিম্বাণু সংগ্রহ ও সারোগেসি—বৃদ্ধির আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়েছে।

আইন প্রয়োগ ও সমন্বয় জোরদারের তাগিদ
এলেনর লায়ন্স সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটে বিনিয়োগ বাড়ানো, শ্রম শোষণে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জাতীয় প্রচারণা চালানো জরুরি।

তিনি আরও সতর্ক করেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অপরাধী চক্রগুলো আরও চতুর ও অদৃশ্য হয়ে উঠবে, ফলে তাদের দমন করা কঠিন হয়ে পড়বে।

ইউরোপ কাউন্সিলের মানবপাচারবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের একটি দল তাদের পৃথক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে সম্ভাব্য পাচারের শিকার মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেছে। তারা যুক্তরাজ্যের কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও আরও কার্যকর আইন, নীতি ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, আর্থিক তদন্ত জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী—বিশেষ করে শিশু, অভিবাসী ও গৃহহীনদের সুরক্ষায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, আধুনিক দাসত্ব একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং সরকার এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া উন্নত করা এবং মামলার জট কমাতে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা দ্রুত সহায়তা পেতে পারে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

সার্বিকভাবে, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা স্পষ্ট—দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে যুক্তরাজ্যে আধুনিক দাসত্ব আরও বিস্তৃত ও জটিল আকার ধারণ করবে। প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই সংকট মোকাবিলায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক তরুণী

নিউজ ডেস্ক

অবশেষে ব্রিটেনে কমছে তেল ও দুধের দাম

বাবার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেলেন না প্রিন্স হ্যারি