ক্যানসার রোগীদের সহায়তা ও ক্যানসার গবেষণার জন্য সংগ্রহ করা দাতব্য সংস্থার প্রায় ৯২ হাজার পাউন্ড আত্মসাতের দায়ে তামীম চৌধুরী নামে ২৯ বছর বয়সী এক সাবেক অর্থকর্মীকে দুই বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
উত্তর লন্ডনের স্টোক নিউইংটনের বাসিন্দা তামীম চৌধুরী ব্রেস্ট ক্যানসার নাউ নামের দাতব্য সংস্থায় কাজ করতেন। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সম্পদ সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা এই কর্মীই পরে নিজের অবস্থানের অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন।
তদন্তে জানা যায়, রয়্যাল মার্সডেন হাসপাতাল থেকে দাতব্য সংস্থাটির জন্য আসা ৯১ হাজার ৯৬৬ পাউন্ডের বেশি অর্থ নিজের ব্যাংক হিসাবে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তামীম। তিনি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ই-মেইল এবং লেটারহেড ব্যবহার করে হাসপাতালকে নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাঠান।
এরপর হাসপাতাল থেকে অর্থটি তার ব্যক্তিগত স্যান্টান্ডার ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। অর্থ হাতে পাওয়ার পর মাত্র দুই দিনের মধ্যেই তিনি ৪৯ হাজার পাউন্ডের বেশি খরচ করে ফেলেন।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, চুরি করা অর্থের একটি অংশ দিয়ে তিনি ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ করেন। এছাড়া বিলাসী পণ্য কেনা, আত্মীয়দের কাছে অর্থ পাঠানো, নিজের বিয়ের খরচ এবং কাতারে যাওয়ার বিমানের টিকিট কিনতেও ওই অর্থ ব্যবহার করেন।
এমনকি চুরি করা অর্থের প্রায় ১৪ হাজার পাউন্ড দিয়ে একটি বিলাসী আংটি কেনার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।
তামীমের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার করা বার্তাগুলোতেও তার আর্থিক সংকটের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। অর্থ আত্মসাতের ঠিক আগে তিনি নিজেকে ব্যাপক ঋণের মধ্যে থাকা এবং ‘দেউলিয়া হওয়ার কাছাকাছি’ অবস্থায় থাকা ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
তবে তার বিলাসী খরচ বেশিদিন চলেনি। সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করার পর স্যান্টান্ডার ব্যাংক তার হিসাব স্থগিত করে। পরে পুলিশ ওই হিসাবে থাকা প্রায় ৪২ হাজার ৮০০ পাউন্ড উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ২০২৫ সালের জুনে তামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে তিনি প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ স্বীকার করেন।
সিটি অব লন্ডন পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইউসুফ মির্জা বলেন, দাতাদের দেওয়া অর্থ জীবন রক্ষাকারী ক্যানসার গবেষণা ও রোগীদের সহায়তায় ব্যবহারের কথা ছিল। সেই অর্থের দায়িত্বে থাকা তামীম নিজের অবস্থানের অপব্যবহার করে দাতাদের আস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
ঘটনার পর ব্রেস্ট ক্যানসার নাউ তাদের অভ্যন্তরীণ আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, উদ্ধার করা অর্থের কারণে শেষ পর্যন্ত তাদের কোনো আর্থিক ক্ষতি হয়নি।
উল্লেখ্য তামীম চৌধুরী কোন দেশের নাগরিক বা তার জাতীয়তা কী, সে বিষয়ে পুলিশের প্রকাশিত তথ্যে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। পুলিশের তথ্যে তাকে লন্ডনের স্টোক নিউইংটনের বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্রঃ মাই লন্ডন\সিটি অব লন্ডন পুলিশ
এম.কে

