নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ৬৪ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেইড জালিয়াতি ও অবৈধ ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় জাকিয়া খান নামে ৫৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নারীকে ৭৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টের বিচারক নাতাশা সি. মারলে তার বিরুদ্ধে এ সাজা ঘোষণা করেন।
আদালতের রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি জাকিয়া খানকে প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে অর্জিত প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। বাজেয়াপ্ত সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ, সোনার গয়না এবং তার মালিকানাধীন দুটি স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের ডে-কেয়ার সেন্টার এবং হোম হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এই জালিয়াতি পরিচালনা করা হয়। ব্রুকলিনের কোনি আইল্যান্ড এলাকায় জাকিয়া খান ‘হ্যাপি ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার’ ও ‘ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন।
এ ছাড়া ‘রেসপন্সিবল কেয়ার স্টাফিং’ ও ‘তানউই সার্ভিসেস’ নামের আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জালিয়াতির অর্থ লেনদেন ও গোপন করা হতো বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন প্রলোভন ও ঘুষের মাধ্যমে মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের এসব ডে-কেয়ার সেন্টারে নিয়ে আসা হতো। এরপর বাস্তবে কোনো সেবা না দিয়েই মেডিকেইড কর্তৃপক্ষের কাছে বিপুল পরিমাণ ভুয়া বিল জমা দেওয়া হয়।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, জাকিয়া খান ও তার সহযোগীরা প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে মেডিকেইড কর্তৃপক্ষ প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল।
মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচি, যা নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী নিম্নআয়ের মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণির নাগরিককে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ে সহায়তা দেয়। এই কর্মসূচির অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগেই জাকিয়া খান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।
২০২৫ সালের আগস্টে জাকিয়া খান স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি ও অবৈধ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ স্বীকার করে দোষী সাব্যস্ত হন। পরবর্তী সময়ে আদালতে তার বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার সাজা ঘোষণা করা হয়।
রায়ের বিষয়ে নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা জুনিয়র এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ন্যাশনাল ফ্রড এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন এম. ম্যাকডোনাল্ডসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত ও মামলার বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
জাকিয়া খানের বিরুদ্ধে দেওয়া সাজায় কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের অর্থ ফেরত এবং অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নথিতে উল্লেখিত এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে মেডিকেইড কর্মসূচির অর্থ জালিয়াতির ঘটনায় তার আর্থিক দায়ও নির্ধারণ করা হয়েছে।
সূত্রঃ ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস ও এইচএইচএস-ওআইজি
এম.কে

