পূর্ব লন্ডনের ক্যানারি ওয়ার্ফে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় সৈয়দ ইমাম নামে ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। স্টেশনের কাছে আন্ডারপাসে হামলার সময় ক্যানারি ওয়ার্ফের নিরাপত্তাকর্মীরা সরাসরি হস্তক্ষেপ করে তাকে আটক না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত বলে জানিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ।
মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সৈয়দ ইমাম বেডিংটনের ক্রয়ডন রোডের বাসিন্দা। ২০২৬ সালের ১৪ মার্চ ভোরে ক্যানারি ওয়ার্ফ ট্রেন স্টেশনের কাছে একটি আন্ডারপাসে তিনি ওই নারীর ওপর যৌন হামলা চালান এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
ঘটনার আগে নিরাপত্তাকর্মীরা টহল দেওয়ার সময় ইমামের আচরণ সন্দেহজনক বলে মনে করেন। কিছুক্ষণ পর তারা দেখতে পান, তিনি এক নারীকে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন করছেন। সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীরা সেখানে ছুটে গিয়ে হামলা থামান এবং ইমামকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ না দিয়ে আটক করেন।
পরে তারা মেট্রোপলিটন পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইমামকে গ্রেপ্তার করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেন। হামলার মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
পুলিশের প্রকাশ করা দেহে পরা ক্যামেরার ভিডিওতে গ্রেপ্তারের সময় ইমামের কথোপকথনও উঠে এসেছে। পুলিশ তাকে জানায়, নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে অপরাধ করতে দেখেছেন। জবাবে ইমাম দাবি করেন, তাকে কেউ দেখেনি এবং গ্রেপ্তারের কারণকে ‘মিথ্যা’ বলে আখ্যায়িত করেন।
তদন্তকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। পুলিশ জানায়, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং তাকে হেফাজতে পাঠানো হয়।
এই মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ভুক্তভোগী নারীর স্মৃতির সমস্যা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর ওই নারীর কী ঘটেছিল তার কোনো স্মৃতি ছিল না। তবে নিরাপত্তাকর্মীদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ এবং পুলিশের দ্রুত ও প্রমাণভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে মামলাটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
সৈয়দ ইমাম ২ জুলাই স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্টে চার দিনব্যাপী বিচার শেষে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর আদালত তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেয়।
মেট্রোপলিটন পুলিশ ক্যানারি ওয়ার্ফের নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকার বিশেষ প্রশংসা করেছে। পুলিশের ভাষ্য, তাদের সাহসী ও তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের কারণেই হামলাটি আরও গুরুতর পর্যায়ে যাওয়ার আগেই থামানো সম্ভব হয় এবং বিপজ্জনক অপরাধীকে দ্রুত আটক করা যায়।
মামলাটির তদন্তে যুক্ত গোয়েন্দা কনস্টেবল ম্যাডেলিন পাওয়েল বলেন, নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে প্রত্যেকেরই ভূমিকা রয়েছে। ক্যানারি ওয়ার্ফের নিরাপত্তাকর্মীরা সাহস করে হস্তক্ষেপ না করলে ওই অপরাধী এখনো রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে পারতেন এবং ভুক্তভোগী নারী আরও বেশি ক্ষতির শিকার হতে পারতেন।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, কোনো সন্দেহজনক বা উদ্বেগজনক আচরণ চোখে পড়লে তা জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের দেওয়া তথ্যকে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে নেবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
মামলার পুরো প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগী নারীকে বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা সহায়তা করেন। তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রম বুঝতে সাহায্য করার পাশাপাশি ঘটনার কারণে সৃষ্ট গভীর মানসিক আঘাত মোকাবিলাতেও তাকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, নারী ও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ও অভিযোগ গঠনের মতো ইতিবাচক ফলাফল দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। একই সময়ে নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে সাধারণ সহিংসতার ঘটনায় গ্রেপ্তার ও অভিযোগ গঠনের সংখ্যা ৭১ শতাংশ বেড়েছে।
সূত্রঃ দ্য স্ট্যান্ডার্ড
এম.কে

