11.4 C
London
September 9, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বিমান চলাচলে বড় বিপর্যয়ঃ কারিগরি ত্রুটিতে বাতিল ৬২৫ ফ্লাইট

যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটির কারণে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। মঙ্গলবার বিকেল থেকে বিমান চলাচলে বিঘ্নের জেরে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অন্তত ৬২৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪।

বিকেল প্রায় ৩টার দিকে যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ন্যাটসের (NATS) ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে হিথ্রো, গ্যাটউইক, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহামসহ একাধিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ছাড়তে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।

ন্যাটস পরে জানায়, সমস্যার সমাধানে একটি ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে এবং তাদের বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। তবে ত্রুটির প্রভাব ইতোমধ্যে পুরো বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরতে সময় লাগবে বলে সতর্ক করা হয়।

ন্যাটস এক বিবৃতিতে যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে এবং যাত্রীদের নিজ নিজ বিমান সংস্থার কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেয়।

ফ্লাইটরাডার২৪-এর হিসাবে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে যাওয়া-আসার ৬২৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ইজিজেটের ২১৮টি এবং ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ১৩০টির বেশি ফ্লাইট রয়েছে।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানায়, ন্যাটস তাদের বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ত্রুটি সমাধান হয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে সমস্যাটির ব্যাপকতার কারণে যাত্রী ও কর্মীদের ওপর এর বড় ধরনের পরবর্তী প্রভাব পড়বে। মঙ্গলবার বিকেলে সংস্থাটিকে ১০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল অথবা অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে।

এদিকে বিমানবন্দরগুলোতে আটকে পড়া যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। হিথ্রো ও গ্যাটউইকসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্থান বোর্ডের সামনে অপেক্ষা করেন এবং ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য জানতে বিমান সংস্থাগুলোর কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।

অনেক যাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিমান সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ করেন। কেউ কেউ জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ফ্লাইট কখন ছাড়বে বা বিকল্প ব্যবস্থা কী হবে সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট কোনো তথ্য পাননি।

এক যাত্রী জানান, নিরাপত্তা তল্লাশি শেষ করার পর তিনি জানতে পারেন তার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। আরেক যাত্রী অভিযোগ করেন, গ্যাটউইকে বিমান ছাড়ার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তারা রানওয়েতে আটকে ছিলেন।

এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার বলেন, তিনি যাত্রীদের হতাশার বিষয়টি বুঝতে পারছেন এবং সমস্যাটি সমাধানে কাজ করা হচ্ছে। ন্যাটসের ত্রুটির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি থেকে ভবিষ্যতে কী শিক্ষা নেওয়া হবে এবং বিমান চলাচলকে সহায়তা করা ব্যবস্থাগুলো যথেষ্ট কার্যকর কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চয়তা চাইবেন বলেও জানান।

রায়ানএয়ার জানিয়েছে, তাদের ৬৫ হাজারের বেশি যাত্রী এদিন বিমান চলাচল বিপর্যয়ের কারণে বিলম্বের শিকার হয়েছেন। সংস্থাটির দাবি, অনেক যাত্রীকে সর্বোচ্চ আট ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং ৫০টির বেশি রায়ানএয়ার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

রায়ানএয়ারের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা নিল ম্যাকমাহন ন্যাটসের প্রধান নির্বাহী মার্টিন রলফের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, ২০২৩ সালের বড় ধরনের বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিপর্যয়ের পরও প্রয়োজনীয় শিক্ষা নেওয়া হয়নি এবং একই ধরনের সমস্যা আবারও যাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলেছে।

এদিকে মঙ্গলবারের ত্রুটিতে শুধু যুক্তরাজ্য থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটই নয়, যুক্তরাজ্যে আসার পথে থাকা আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও সমস্যায় পড়ে। কিছু বিমান বিদেশের বিমানবন্দরে আটকে যায় বা নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের লন্ডন থেকে সাংহাইগামী একটি ফ্লাইট হিথ্রো থেকে দুপুর ১২টা ৩ মিনিটে ছাড়ার পর রোমানিয়ার আকাশসীমা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। পরে সেটি ঘুরে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসে এবং প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর কার্ডিফ বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিকেল ৫টার দিকে ফ্লাইটরাডার২৪ জানায়, যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে যাওয়া-আসার ৪২৫টি ফ্লাইট ইতোমধ্যে বাতিল হয়েছে। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা প্রায় ৩০০ ছিল।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে ছিল হিথ্রো, গ্যাটউইক, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, হিথ্রোতে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফ্লাইট পরিচালিত হলেও ৩৫২টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। গ্যাটউইকে প্রায় ৮৫০টি দৈনিক ফ্লাইটের মধ্যে ২৮১টি বিলম্বিত হয়। ম্যানচেস্টারে ৬৫০টির মধ্যে ২৪৯টি এবং বার্মিংহামে ৩০০টির মধ্যে ১০১টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।

ন্যাটসের প্রকৌশলীরা সমস্যাটি সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করেন। সংস্থাটি জানায়, ব্যবস্থা ঠিক করার পর বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে পুরো ব্যবস্থায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।

ন্যাটসের কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্ট এই বিপর্যয়ের প্রভাব যুক্তরাজ্যের বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় কয়েক ঘণ্টা ধরে অব্যাহত থাকে। সন্ধ্যার দিকে সংস্থাটি সমস্যার সমাধান করার কথা জানালেও বাতিল ও বিলম্বিত ফ্লাইটের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি তাৎক্ষণিকভাবে শেষ হয়নি।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ যেসব যাত্রীর ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, তাদের বিমানবন্দরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয় এবং অনলাইনে বুকিং পরিবর্তনের সুযোগের কথা জানায়। রায়ানএয়ার ও ইজিজেটও যাত্রীদের নিজ নিজ ওয়েবসাইটে গিয়ে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করতে বলে।

এই ঘটনায় যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের পর আবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিমান সংস্থা ও যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ভুয়া আশ্রয় আবেদন নিয়ে তদন্ত করছে সলিসিটর রেগুলেশন অথোরিটি

‘সাংস্কৃতিক ঐক্য’র নামে বৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের পরিকল্পনা ঘৃণ্যঃ লেবার পার্টি

পিআইপি দাবিদারদের ১৫ হাজার পাউন্ড পাওয়ার সম্ভাবনা