যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খান আনুষ্ঠানিকভাবে হাউস অব লর্ডসের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, উচ্চকক্ষে অধিবেশনের শুরুতে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি লেবার পার্টির একজন লাইফ পিয়ার হিসেবে হাউস অব লর্ডসে তার দায়িত্ব শুরু করেন। তার নতুন উপাধি লর্ড খান অব টুটিং।
সাদিক খানের পিয়ারেজ হিসেবে টুটিং নামটি বেছে নেওয়ার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। টুটিং এলাকাতেই তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং এই এলাকার প্রতিনিধিত্ব করে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে ১১ বছর এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শপথ গ্রহণের সময় লর্ডসের গ্যালারি থেকে তার পরিবারের সদস্য এবং প্রায় এক ডজন লন্ডন লেবার এমপি অনুষ্ঠানটি প্রত্যক্ষ করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ডন বাটলার, টিউলিপ সিদ্দিক ও রূপা হক।
সাদিক খান একই দিনে নতুন লেবার পিয়ার লর্ড রবার্তো নেরির সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী শপথ গ্রহণ করেন। শপথের পর দুজনকে লর্ড স্পিকার লর্ড ফোরসাইথ অব ড্রামলিনের সঙ্গে করমর্দনের সময় করতালি দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।
লর্ড খানকে হাউস অব লর্ডসে নিয়ে যাওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক লেবার নেতা লর্ড কিনক এবং মানবাধিকার আইনজীবী ব্যারনেস হেলেনা কেনেডি অব দ্য শজ। শপথ গ্রহণের পর তিনি লর্ডসের নেতা ব্যারনেস স্মিথ অব বাসিলডন, তার ডেপুটি লর্ড কলিন্স অব হাইবারি এবং সাবেক ‘ইস্টএন্ডার্স’ অভিনেতা লর্ড ক্যাশম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সাদিক খান ২০১৬ সালে প্রথমবার লন্ডনের মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর তিনি পরপর তিনটি মেয়র নির্বাচনে জয়ী হন। ২০০০ সালে বর্তমান কাঠামোয় লন্ডন মেয়রের পদ চালু হওয়ার পর তিনি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী লন্ডন মেয়র। তার বর্তমান মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
মেয়র হওয়ার আগে সাদিক খান হাউস অব কমন্সে টুটিংয়ের এমপি হিসেবে ১১ বছর দায়িত্ব পালন করেন। গর্ডন ব্রাউনের সরকারের সময় তিনি পরিবহন মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি মানবাধিকার আইনে বিশেষায়িত একজন সলিসিটর হিসেবে কাজ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের তথ্য অনুযায়ী, লর্ড খান অব টুটিং ২০ আগস্ট ২০২৬ থেকে হাউস অব লর্ডসের সদস্য এবং তিনি লেবার পার্টির একজন লাইফ পিয়ার।
সাদিক খানের পিয়ারেজের ঘোষণা ২০২৬ সালের জুলাইয়ে স্যার কিয়ার স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্বের শেষ সপ্তাহে করা হয়। সেই সময় মোট ২৬ জনকে হাউস অব লর্ডসের জন্য পিয়ারেজ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল।
লন্ডনের মেয়র পদে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেই হাউস অব লর্ডসে যোগ দিয়েছেন লর্ড খান। আঞ্চলিক মেয়র হিসেবে একই সঙ্গে হাউস অব লর্ডসের সদস্য থাকার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নেই।
হাউস অব লর্ডসে তার আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তির দিন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নির্ধারিত কার্যসূচিতে লর্ড খান অব টুটিং এবং লর্ড নেরি—দুজনের পরিচিতি অনুষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত ছিল।
লর্ডসের সদস্য হিসেবে সাদিক খানের নতুন দায়িত্ব এমন সময়ে শুরু হলো, যখন তিনি এখনও লন্ডনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের মেয়র নির্বাচনে তিনি চতুর্থ মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেননি।
হাউস অব লর্ডসে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে লন্ডনের মেয়র হিসেবে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি সাদিক খান এখন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষেও আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলেন। লর্ড খান অব টুটিং নামে তিনি লেবার পিয়ার হিসেবে উচ্চকক্ষের কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
সূত্রঃ মাই লন্ডন
এম.কে

