15.9 C
London
October 14, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনে একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে প্রতারণার অভিযোগঃ আদালতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাশিম চৌধুরী

যুক্তরাজ্যে তথ্য গোপন করে একসঙ্গে একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার মাধ্যমে অন্তত ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড আয় করার অভিযোগ উঠেছে ইস্ট লন্ডনের ৫৫ বছর বয়সী কাশিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি মোট আটটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি চাকরিই ছিল ফুলটাইম। ঘটনাটি নিয়ে বর্তমানে লন্ডনের সাউদার্ক ক্রাউন কোর্টে মামলার শুনানি চলছে।

ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড -এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কাশিম চৌধুরী একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজের অন্যান্য চাকরির তথ্য গোপন রেখেছিলেন। ফলে একই সময়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বেতন নেওয়ার সুযোগ পান তিনি।

আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে চাকরি শুরু করেন কাশিম চৌধুরী। ২০২১ সালের এপ্রিলে তিনি পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক দপ্তর—ডেফরায় যোগ দেন। এক বছরের বেশি সময় দুই প্রতিষ্ঠানে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পর ২০২২ সালে তিনি ইস্ট লন্ডন এনএইচএস ট্রাস্টে চাকরি নেন। এ সময় তিনি টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের চাকরি ছেড়ে দেন।

এরপর ডেফরা ও এনএইচএস ট্রাস্টে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা বিভাগ, যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা, খাদ্যমান সংস্থা, ব্যবসা ও বাণিজ্য বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আরও কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আদালতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত তিনি একই সময়ে পাঁচটি ফুলটাইম চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদনের সময় কাশিম চৌধুরী জানাতেন, তাকে অসুস্থ মায়ের দেখাশোনা করতে হয়। এ কারণে তিনি বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ চাইতেন। এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে তিনি একাধিক প্রতিষ্ঠানে একই সময়ে চাকরি চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একটি প্রতিষ্ঠান থেকে অসুস্থতার কারণে ছুটি নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাজে সময় দিতেন তিনি। এভাবে ২০২৩ সালের মে মাসে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা থেকে অসুস্থতাজনিত ছুটি নেন কাশিম চৌধুরী।

কাশিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে সন্দেহ তৈরি হওয়ার পেছনে একটি ভিডিও বৈঠকের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থায় কর্মরত অবস্থায় অসুস্থতাজনিত ছুটিতে থাকা কাশিমের সঙ্গে তার ব্যবস্থাপকের ভিডিও কলে কথা হয়। সে সময় তার মুখের রঙে অস্বাভাবিকতা নজরে আসে ব্যবস্থাপকের।

অভিযোগ অনুযায়ী, অসুস্থ দেখানোর জন্য কাশিম চৌধুরী মুখে মেকআপ ব্যবহার করেছিলেন। তবে মুখ ও ঘাড়ের রঙের মধ্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছিল। বৈঠক চলাকালে কপালের মেকআপ সরে গিয়ে স্বাভাবিক ত্বকের রং বেরিয়ে আসতে শুরু করে বলেও আদালতে জানিয়েছেন ওই ব্যবস্থাপক।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থার বৈঠকে তিনি ডেফরার ইমেইল ব্যবহার করে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তা জাতীয় প্রতারণা উদ্যোগের কাছে পাঠানো হয়। পরে ওই উদ্যোগের পক্ষ থেকে ডেফরাকে বিষয়টি জানানো হলে একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার অভিযোগ সামনে আসে।

আদালতে জানানো হয়েছে, ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাশিম চৌধুরীর তিনটি ব্যাংক হিসাবে তিন লাখ পাউন্ডের বেশি অর্থ জমা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড উত্তোলন করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইভনিং স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে তিনি অন্তত তিন লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড আয় করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া অর্থ এবং চাকরি থেকে অর্জিত মোট আয়ের হিসাব এক নয়—প্রতিবেদনে উল্লেখিত এই দুই অঙ্কের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

বর্তমানে লন্ডনের সাউদার্ক ক্রাউন কোর্টে মামলার শুনানি চলছে। আদালতে উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

সূত্রঃ ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আবারও ফাঁকি দিয়েছে এক ব্যক্তি

ইংল্যান্ডে আসতে পারে নতুন কোভিড ওয়েভ!

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে সমকামী ও ইহুদিদের নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগ, হাউনসলোর মসজিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু